আজঃ বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

উন্নত সমাজ বিনির্মাণে বেগম রোকেয়া নারী জাতিকে পথ দেখিয়েছেন : জেলা প্রশাসক

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, নারী সমাজের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া। কুসংস্কারমুক্ত উন্নত সমাজ বিনির্মাণে তিনি নারী জাতিকে পথ দেখিয়েছেন। সমাজের বড় অংশ নারী এবং প্রত্যেক মেয়েরাই একেকজন বেগম রোকেয়া। এই নারী জাতি ছাড়া দেশের কাঙ্খিত উন্নয়ন কখনো সম্ভব নয়। তাদেরকে উৎসাহিত করতে হবে। মহিয়সী নারী বেগম রোকেয়ার আদর্শ ও উদ্দেশ্য ধারণ করে নারীরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে আজ অদম্য চিন্তা-ভাবনায় অনেকদূর এগিয়ে গেছে। সামনে আমাদের অনেক চ্যালেঞ্জ আছে। বেগম রোকেয়ার মতো প্রত্যেক নারী নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসলে চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করা সম্ভব।

আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বেগম রোকেয়া দিবস উদযাপন উপলক্ষে মঙ্গলবার বেলা ১২টায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও অদম্য নারী পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘আমিই বেগম রোকেয়া’-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর যৌথভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, প্রযুক্তির এই দিনে নারী-পুরুষ উভয়কে সুশিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে। অদম্য নারীরা অনেক ক্ষেত্রে ত্যাগ ও প্রতিকুলতাকে পেছনে ফেলে জীবন-সংগ্রাম করে এগিয়ে গেছে। সৎ মানসিকতা ও আত্মবিশ্বাস থাকার কারণে তারা দেশে আজ স্বাবলম্বী হয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে সুখে দিন কাটাচ্ছে। সমাজ উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে অংশ দিয়ে তারা আজ অদম্য নারী হিসেবে সরকারিভাবে সম্মাননা পাচ্ছেন। নারী ও শিশু নির্যাতন এবং বাল্য বিবাহ রোধসহ প্রত্যেক অনৈতিক কর্মকান্ড সম্পর্কে নারীদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান জেলা প্রশাসক।

তিনি বলেন,আমাদের একজন বেগম রোকেয়া আছেন। তিনি তাঁর সময়ের প্রতিকুলতা জয় করে নারীর জন্য কিছু করার কথা ভেবেছেন। সমাজে নারীদের মর্যাদার আসন দেয়ার জন্য বেগম রোকেয়া। যারা সাফল্য পেয়েছেন তারা দীর্ঘ সময় ধরে অনেক পরিশ্রম করে সফল হয়েছেন। আমরা নারীদের জন্য কাজ করছি। তাদেরকে হারিয়ে যেতে না দেওয়া, সামনে তুলে আনা ও সফল হতে সহযোগিতা করা আমাদের দায়িত্ব।

অনুষ্ঠান শেষে জেলা পর্যায়ে চার ক্যাটাগরিতে ৪ জন অদম্য নারীকে উত্তরীয় পরিয়ে দিয়ে সনদপত্রসহ সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। সম্মাননাপ্রাপ্ত সফল নারীরা হচ্ছেন-অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী বোয়ালখালী পৌরসভা এলাকার ৯নং ওয়ার্ডের রোহাই পাড়ার রতন দাশের মেয়ে শিপ্রা দাশ, শিক্ষা ও চাকুরী ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী সাতকানিয়া উপজেলার বাজালিয়া গ্রামের মোহাম্মদ আবদুল আলিমের মেয়ে আসমা আকতার রুনা,

সফল জননী নারী সন্দ্বীপ উপজেলার মগধরা সেকান্দর কোম্পানী বাড়ির মোহাম্মদ হোসাইনের স্ত্রী রেজিয়া বেগম এবং নির্যাতনের দুঃস্বপ্ন মুছে জীবন সংগ্রামের জয়ী নারী সাতকানিয়া উপজেলার পশ্চিম গাটিয়াডেঙ্গার আবদুস সাত্তারের মেয়ে জান্নাতুল আদন। অনুষ্ঠানে সম্মাননাপ্রাপ্ত সফল নারীরা তাদের জীবন-সংগ্রামের স্মৃতিচারণ করেন।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ শরীফ উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও অসরকারী সংস্থা ইপসা’র কর্মকর্তা সেতার রুদ্রের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা ও অদম্য নারী পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম জেলার নবাগত পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খানঁ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক আতিয়া চৌধুরী।

বক্তব্য রাখেন অসরকারী উন্নয়ন সংস্থা ইলমা’র প্রধান নির্বাহী জেসমিন সুলতানা পারু ও প্রত্যাশী’র সহকারী পরিচালক মোঃ সেলিম। অনুষ্ঠানে সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম জেলার নবাগত পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খান বলেন, কোন কাজকেই ছোট করে দেখা উচিত নয়। নারীদের প্রতি কোন ধরণের বৈষম্যমূলক আচরণ ও অবিচার আমরা কামনা করি না। তারা দেশের উন্নয়নের অংশীদার।

তিনি আরও বরেন, সময় ও পরিস্থিতির প্রয়োজনে একজন বেগম রোকেয়ার জন্ম হয়েছে। আমি যে কাজ করি তার চেয়ে আমার স্ত্রীর কাজগুলো অনেক কঠিন ও পরিশ্রমের। বেগম রোকেয়া নারী সমাজের জন্য সূর্য। নারী জাগরণের পথিকৃৎ হয়ে তিনি বিশ্বে স্বাক্ষর রেখেছেন। কুসংস্কার ও অন্ধকারাচ্ছন্ন পথ থেকে বেরিয়ে আসতে বেগম রোকেয়া নারীদের উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। তাই নারীদের মর্যাদা দেয়ার পাশাপাশি নারীর প্রতি বৈষম্য নিরসন ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে নারী-পুরুষ উভয়কে এগিয়ে আসতে হবে। বিশ্বেও সকল নারীর প্রতি শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা জানান তিনি।

বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ শরীফ উদ্দিন উপস্থিত সবাইকে নিজের পরিবারের সন্তানদের প্রতি কোন ধরণের বৈষম্য না করার আহবান জানান। তিনি বলেন, পরিবারে আমরা যদি সহিংসতা ও বৈষম্য দূর করে সন্তানদেও সুশিক্ষিত করতে পারি তাহলে রাষ্ট্র সুনাগরিক পাবে এবং দেশ এগিয়ে যাবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ওয়ার সেমেট্রি পরিদর্শন করলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম মহানগরের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ওয়ার সেমেট্রি পরিদর্শন করেছেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত এ পরিদর্শন কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শনকালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদ সেনাদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময়কালে ওয়ার সেমেট্রির ঐতিহাসিক গুরুত্ব, সংরক্ষণ ব্যবস্থা, নান্দনিক পরিবেশ এবং পরিবেশগত দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম নগরের উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা ও নাগরিক সেবাখাতে ভবিষ্যতে সহযোগিতার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন বলে জানা যায়।

বোয়ালখালীতে অবৈধ ব্রিজ নির্মাণ বন্ধ করলেন ইউএনও।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম কসকবাজার আরকান সড়কের বোয়ালখালীর গোমদণ্ডী ফুলতলার দক্ষিণ পাশে রায়খালী খালের ওপর অবৈধভাবে একটি পাকা ব্রিজ নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খালের ওপর অনুমোদনহীনভাবে ব্রিজটি নির্মাণ করা হলে বর্ষা মৌসুমে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতার ও ভয়াবহ বন্যা সহ জলাবদ্ধতার ঝুঁকি দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে একই সাথে চাষবাদ ব্যাপক ক্ষতির ঝুঁকি মধ্যে রয়েছে ।

বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) অবৈধ ব্রিজ নির্মাণের কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করা হলে বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে রবিবার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ফারুক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কানিজ ফাতেমা ঘটনাস্থলে সরেজমিনে পরিদর্শনে করেন ।

পরিদর্শনকালে তারা খালের ওপর অবৈধভাবে ব্রিজ নির্মাণের সত্যতা পান। এ সময় খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে নির্মাণকাজের অপচেষ্টা পরিলক্ষিত হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের নিজ দায়িত্বে সোমবারের মধ্যে নির্মাণাধীন ব্রিজটি অপসারণ বা ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন প্রশাসন ।


এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ফারুক জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা প্রতিপালন না করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, জনস্বার্থ রক্ষা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে উপজেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

আলোচিত খবর

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অনেক জল্পনা – কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে ব্যাপক আলোচনার পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হল যখন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা- বাণিজ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। এই চুক্তির মধ্যদিয়ে ইউরোপের ২৭টি দেশের সঙ্গে জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ ভারতের পণ্যের মুক্ত বাণিজ্য চলবে। ভারত এবং ইইউ সম্মিলিতভাবে বিশ্বের ২৫ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন তাদের দখলে রেখেছে। দু’পক্ষের কাছে আছে দুশো কোটি ক্রেতার এক অতি বৃহৎ বাজার।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং ইইউ-র সদস্য দেশগুলি এই চুক্তিতে মান্যতা দিলে তারপরেই এবছরেরই পরের দিকে চুক্তি সই হতে পারে।এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবায় বিপুল অঙ্কের শুল্ক কম হবে, আবার সামরিক ক্ষেত্রেও ভারত আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এন্তোনিয়ো লুই সান্তোস দ্য কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ভন ডের লেয়ন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লিতে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন।ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন – আজ ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। আজ ২৭ তারিখ আর এটা অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের সঙ্গে ভারত এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করল।
সংগৃহীত –

আরও পড়ুন

সর্বশেষ