আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

উন্নত সমাজ বিনির্মাণে বেগম রোকেয়া নারী জাতিকে পথ দেখিয়েছেন : জেলা প্রশাসক

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, নারী সমাজের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া। কুসংস্কারমুক্ত উন্নত সমাজ বিনির্মাণে তিনি নারী জাতিকে পথ দেখিয়েছেন। সমাজের বড় অংশ নারী এবং প্রত্যেক মেয়েরাই একেকজন বেগম রোকেয়া। এই নারী জাতি ছাড়া দেশের কাঙ্খিত উন্নয়ন কখনো সম্ভব নয়। তাদেরকে উৎসাহিত করতে হবে। মহিয়সী নারী বেগম রোকেয়ার আদর্শ ও উদ্দেশ্য ধারণ করে নারীরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে আজ অদম্য চিন্তা-ভাবনায় অনেকদূর এগিয়ে গেছে। সামনে আমাদের অনেক চ্যালেঞ্জ আছে। বেগম রোকেয়ার মতো প্রত্যেক নারী নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসলে চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করা সম্ভব।

আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বেগম রোকেয়া দিবস উদযাপন উপলক্ষে মঙ্গলবার বেলা ১২টায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও অদম্য নারী পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘আমিই বেগম রোকেয়া’-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর যৌথভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, প্রযুক্তির এই দিনে নারী-পুরুষ উভয়কে সুশিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে। অদম্য নারীরা অনেক ক্ষেত্রে ত্যাগ ও প্রতিকুলতাকে পেছনে ফেলে জীবন-সংগ্রাম করে এগিয়ে গেছে। সৎ মানসিকতা ও আত্মবিশ্বাস থাকার কারণে তারা দেশে আজ স্বাবলম্বী হয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে সুখে দিন কাটাচ্ছে। সমাজ উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে অংশ দিয়ে তারা আজ অদম্য নারী হিসেবে সরকারিভাবে সম্মাননা পাচ্ছেন। নারী ও শিশু নির্যাতন এবং বাল্য বিবাহ রোধসহ প্রত্যেক অনৈতিক কর্মকান্ড সম্পর্কে নারীদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান জেলা প্রশাসক।

তিনি বলেন,আমাদের একজন বেগম রোকেয়া আছেন। তিনি তাঁর সময়ের প্রতিকুলতা জয় করে নারীর জন্য কিছু করার কথা ভেবেছেন। সমাজে নারীদের মর্যাদার আসন দেয়ার জন্য বেগম রোকেয়া। যারা সাফল্য পেয়েছেন তারা দীর্ঘ সময় ধরে অনেক পরিশ্রম করে সফল হয়েছেন। আমরা নারীদের জন্য কাজ করছি। তাদেরকে হারিয়ে যেতে না দেওয়া, সামনে তুলে আনা ও সফল হতে সহযোগিতা করা আমাদের দায়িত্ব।

অনুষ্ঠান শেষে জেলা পর্যায়ে চার ক্যাটাগরিতে ৪ জন অদম্য নারীকে উত্তরীয় পরিয়ে দিয়ে সনদপত্রসহ সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। সম্মাননাপ্রাপ্ত সফল নারীরা হচ্ছেন-অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী বোয়ালখালী পৌরসভা এলাকার ৯নং ওয়ার্ডের রোহাই পাড়ার রতন দাশের মেয়ে শিপ্রা দাশ, শিক্ষা ও চাকুরী ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী সাতকানিয়া উপজেলার বাজালিয়া গ্রামের মোহাম্মদ আবদুল আলিমের মেয়ে আসমা আকতার রুনা,

সফল জননী নারী সন্দ্বীপ উপজেলার মগধরা সেকান্দর কোম্পানী বাড়ির মোহাম্মদ হোসাইনের স্ত্রী রেজিয়া বেগম এবং নির্যাতনের দুঃস্বপ্ন মুছে জীবন সংগ্রামের জয়ী নারী সাতকানিয়া উপজেলার পশ্চিম গাটিয়াডেঙ্গার আবদুস সাত্তারের মেয়ে জান্নাতুল আদন। অনুষ্ঠানে সম্মাননাপ্রাপ্ত সফল নারীরা তাদের জীবন-সংগ্রামের স্মৃতিচারণ করেন।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ শরীফ উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও অসরকারী সংস্থা ইপসা’র কর্মকর্তা সেতার রুদ্রের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা ও অদম্য নারী পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম জেলার নবাগত পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খানঁ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক আতিয়া চৌধুরী।

বক্তব্য রাখেন অসরকারী উন্নয়ন সংস্থা ইলমা’র প্রধান নির্বাহী জেসমিন সুলতানা পারু ও প্রত্যাশী’র সহকারী পরিচালক মোঃ সেলিম। অনুষ্ঠানে সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম জেলার নবাগত পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খান বলেন, কোন কাজকেই ছোট করে দেখা উচিত নয়। নারীদের প্রতি কোন ধরণের বৈষম্যমূলক আচরণ ও অবিচার আমরা কামনা করি না। তারা দেশের উন্নয়নের অংশীদার।

তিনি আরও বরেন, সময় ও পরিস্থিতির প্রয়োজনে একজন বেগম রোকেয়ার জন্ম হয়েছে। আমি যে কাজ করি তার চেয়ে আমার স্ত্রীর কাজগুলো অনেক কঠিন ও পরিশ্রমের। বেগম রোকেয়া নারী সমাজের জন্য সূর্য। নারী জাগরণের পথিকৃৎ হয়ে তিনি বিশ্বে স্বাক্ষর রেখেছেন। কুসংস্কার ও অন্ধকারাচ্ছন্ন পথ থেকে বেরিয়ে আসতে বেগম রোকেয়া নারীদের উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। তাই নারীদের মর্যাদা দেয়ার পাশাপাশি নারীর প্রতি বৈষম্য নিরসন ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে নারী-পুরুষ উভয়কে এগিয়ে আসতে হবে। বিশ্বেও সকল নারীর প্রতি শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা জানান তিনি।

বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ শরীফ উদ্দিন উপস্থিত সবাইকে নিজের পরিবারের সন্তানদের প্রতি কোন ধরণের বৈষম্য না করার আহবান জানান। তিনি বলেন, পরিবারে আমরা যদি সহিংসতা ও বৈষম্য দূর করে সন্তানদেও সুশিক্ষিত করতে পারি তাহলে রাষ্ট্র সুনাগরিক পাবে এবং দেশ এগিয়ে যাবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে ৮০০ কেজি চিনিসহ ২ চোরাকারবারি আটক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে ৮০০ কেজি চোরাই চিনিসহ দুই চোরাকারবারিকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে পতেঙ্গা থানার চরপাড়া ঘাট সংলগ্ন মেরিন ড্রাইভ সড়কে কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট পতেঙ্গার সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করে এদের আটক করে।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত জানান, একটি চক্র বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে অবৈধভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে খালাস করা বিপুল পরিমাণ চিনি বাজারজাত করার উদ্দেশ্যে পরিবহন করবে গোপনে এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়।অভিযান চলাকালে একটি সন্দেহভাজন ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের ৮০০ কেজি চিনি উদ্ধার করা হয়।

এ সময় চোরাচালানে ব্যবহৃত ট্রাকসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত আরো বলেন, জব্দ করা চিনি, ট্রাক এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালালো স্বামী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খাদিজা আক্তার কাশফি নামের এক গৃহবধূর মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রেখে পালিয়ে গেছেন স্বামী মো. মারুফ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, কাশফিকে মৃত অবস্থায় আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন স্বামী মারুফ।

কর্তব্যরত চিকিৎসক কাশফিকে মৃত ঘোষণার পরপরই মরদেহ জরুরি বিভাগে রেখে কৌশলে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান তিনি। নিহতের গলায় মোটা দাগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. উপমা চৌধুরী। পরে কাশফির মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন স্বজনরা। পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনার পর থেকে স্বামী পলাতক রয়েছেন।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ