আজঃ শনিবার ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬

চট্টগ্রামে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা পাচারে আটক পুলিশ সদস্যের মুক্তির অভিযোগ

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরের প্রবেশমুখ বাকলিয়া থানার নতুন ব্রিজ এলাকায় চেকপোস্টে তল্লাশির সময় বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ এক পুলিশ সদস্যকে আটক করা হলেও পরে তাকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উদ্ধার হওয়া ১ লাখ ২০ হাজার পিস ইয়াবা গায়েব করে ফেলার অভিযোগও উঠেছে বাকলিয়া থানার কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যের নাম ইমতিয়াজ হোসেন। তিনি কক্সবাজার জেলা আদালতের এক বিচারকের গানম্যান হিসেবে কর্মরত।

ইমতিয়াজ কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার বাখরনগর গ্রামের বাবলু মিয়ার ছেলে। ঘটনাটি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) ভেতরে ব্যাপক আলোচনা ও অস্বস্তির সৃষ্টি করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, পুরো ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
সূত্রে জানায়, গত ৮ ডিসেম্বর দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে নগরের শাহ আমানত সেতু (নতুন ব্রিজ) এলাকায় বাকলিয়া থানার অংশে ঢাকাগামী একটি বাসে তল্লাশি চালায় পুলিশ। বাসটি ওই দিন রাত ১০টায় কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসে। তল্লাশির সময় সন্দেহভাজন হিসেবে ইমতিয়াজ হোসেন নামে এক যাত্রীকে আটক করে পুলিশ বক্সে নেওয়া হয়। পরে তার সঙ্গে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করে নয়টি বক্সে মোট ১ লাখ ২০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয় বলে দাবি সূত্রের। একপর্যায়ে আটক ব্যক্তি নিজেকে পুলিশ সদস্য পরিচয় দিয়ে জানান, তিনি কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল- ২ এর বিচারক রোকেয়া আক্তারের গানম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

অভিযোগ রয়েছে, পরিচয় জানার পর দরকষাকষির মাধ্যমে বাকলিয়া থানার ওসি (তদন্ত) তানভীর আহমেদ ইয়াবাগুলো জব্দ না করে ইমতিয়াজ হোসেনকে ছেড়ে দেন। ওই সময় ঘটনাস্থলে বাকলিয়া থানার সেকেন্ড অফিসার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আল আমিন, দায়িত্বরত এএসআই সাদ্দামসহ অন্যান্য পুলিশ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। উদ্ধার হওয়া ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

পুলিশ সূত্র জানায়, ইমতিয়াজ হোসেনের ব্যবহৃত একটি ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরের কল রেকর্ড ও যাতায়াতের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত তিন মাসে তিনি একাধিকবার কক্সবাজার থেকে ঢাকায় যাতায়াত করেছেন। গত ১৩ অক্টোবর ঢাকায় গিয়ে ১৭ অক্টোবর কক্সবাজার ফেরেন। এরপর ১৫ নভেম্বর ঢাকায় গিয়ে ১৭ নভেম্বর ফেরেন। পাঁচ দিন পর আবার ২২ নভেম্বর ঢাকায় গিয়ে ২৪ নভেম্বর কক্সবাজার ফেরেন। সর্বশেষ ৮ ডিসেম্বর রাতে তিনি ঢাকাগামী বাসে ওঠেন। তবে ওই দিন কর্ণফুলী ব্রিজ এলাকায় চেকপোস্টে আটক হলেও পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর তিনি কুমিল্লার গ্রামের বাড়িতে চলে যান।

পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, কক্সবাজার আদালতে একসময় কর্মরত সায়েম নামে এক পুলিশ সদস্যের মাধ্যমে মাদক চোরাচালানে জড়িয়ে পড়েন ইমতিয়াজ। সায়েমও এক বিচারকের গানম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন এবং তাঁর সঙ্গে ইমতিয়াজের ঘনিষ্ঠতা ছিল।তিনি আরও জানান, প্রায় এক বছর আগে সায়েমসহ দুই ব্যক্তিকে ইয়াবাসহ আটক করে র‌্যাব, পরে খাগড়াছড়ি পুলিশ সুপারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে পুলিশ সদস্য ইমতিয়াজ হোসেন, বাকলিয়া থানার ওসি (তদন্ত) তানভীর আহমেদ, সেকেন্ড অফিসার এসআই আল আমিন ও এএসআই সাদ্দামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার (জনসংযোগ) আমিনুর রশিদ বলেন, বিষয়টি আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে। ঘটনাটি তদন্ত করা হবে। প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কক্সবাজার পুলিশ লাইন্সের আরআই ইন্সপেক্টর আশরাফ আলী বলেন, ইমতিয়াজ হোসেন ২০২২ সালের ১৩ জুলাই কক্সবাজার পুলিশ লাইন্সে যোগ দেন। যোগদানের পর থেকেই তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির গানম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে চাকরিচ্যুত ব্যাংক কর্মকর্তাকে কুপিয়ে ট্রেন থেকে ফেলে হত্যা।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশ ইসলামী ব্যাংকের চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা আবদুল আজিজ (৪৫) এর মৃত্যুকে ঘিরে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় কুমিল্লার লালমাই রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।পরিবারের অভিযোগ, দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে ট্রেন থেকে ফেলে হত্যা করেছে। তবে পুলিশ বলছে, ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে। নিহত আবদুল আজিজ পটিয়া উপজেলার খরনা ইউনিয়নের ওয়াহিদুর পাড়া গ্রামের বাসিন্দা।তিনি ওই এলাকার আবদুল আলমের পুত্র। দীর্ঘদিন তিনি ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডে কর্মরত ছিলেন এবং সর্বশেষ সিলেট জোনের এডমিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

জানা যায়, সম্প্রতি ইসলামী ব্যাংক থেকে সাড়ে ৫ হাজারের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করা হয়। এর মধ্যে আবদুল আজিজও রয়েছেন। ২০২৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে ঢাকা থেকে ট্রেনে করে নিজ বাড়ি পটিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন আবদুল আজিজ। যাত্রীবাহী ট্রেনটি কুমিল্লার লালমাই রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় পৌঁছালে তাকে কুপিয়ে ট্রেন থেকে ফেলে দেওয়া হয় বলে পরিবারের দাবি। নিহতের চাচাতো ভাই মো. রাজু জানান, আমরা নিশ্চিত- দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে ট্রেন থেকে ফেলে দিয়েছে। এটি পরিকল্পিত হত্যা।

তবে কুমিল্লা লাকসাম থানার এএসআই আবদুল ওয়ারেশ সেল ফোনে জানান, ব্যাংকার আবদুল আজিজ চট্টগ্রামে ফেরার পথে লালমাই স্টেশন এলাকায় ট্রেনে কাটা পড়েন। তার শরীর ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে যান। কিভাবে পড়ে গেছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

প্রথমদিনেই ধানের শীষের জোয়ার দেখলেন আমীর খসরু।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নির্বাচনি প্রচারের প্রথমদিনেই ধানের শীষের পক্ষে জোয়ার দেখলেন চট্টগ্রাম-১১ আসনে বিএনপির প্রার্থী দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ১৭ বছর ধরে নেতাকর্মীদের ত্যাগের প্রতিদান হিসেবে জনগণ বিএনপির পাশে এসে দাঁড়িয়েছে।বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকালে চট্টগ্রাম নগরীর উত্তর কাট্টলীতে নিজ বাড়িতে বাবা প্রয়াত মাহমুদুন্নবী চৌধুরী ও মা প্রয়াত মেহেরুন্নেসা চৌধুরীর কবর জিয়ারত করে তিনি গণসংযোগে নামেন।
প্রথমদিনে আমীর খসরু চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনের আওতাধীন নগরীর কদমতলী থেকে নেতাকর্মীদের নিয়ে গণসংযোগ শুরু করেন।

মাদারবাড়ি, ডিটি রোড, মাঝির ঘাট, আইস ফ্যাক্টরি রোড, নালাপাড়া এলাকায় তিনি পায়ে হেঁটে গণসংযোগ করেন। তিনি সামান্য হাঁটার পরই বিভিন্ন অলিগলি, মার্কেট, দোকানপাট থেকে লোকজন বেরিয়ে আসতে থাকেন। বিভিন্ন বাসার গেইটে দাঁড়িয়ে নারীরা হাতে নাড়েন। আমীর খসরুও হাত নেড়ে, আদাব-সালাম দিয়ে, কোলাকুলি করে লোকজনের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আবেদন করেন।
গণসংযোগের মাঝে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘জনগণের ঢল নেমেছে রাস্তায়, ধানের শীষের জোয়ার শুরু হয়েছে। মানুষের এর জন্য অপেক্ষা করেছে।

সবচেয়ে জনপ্রিয় দল হিসেবে বিএনপি জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে। এখন মানুষ বিএনপির ত্যাগের প্রতিদান দিচ্ছে, জনগণ বিএনপির পাশে দাঁড়িয়েছে। ১৬-১৭ বছর বিএনপির নেতাকর্মীরা গুম, খুন, জেলখানায় নির্যাতনের শিকার হয়েছে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের যে ত্যাগ‌ তার প্রতিদান বাংলাদেশের মানুষ আজ দিচ্ছে। যেখানেই যাচ্ছি, মানুষ উজাড় করে ভালোবাসা দিচ্ছে।


মানুষের আস্থা একমাত্র বিএনপির ওপর। আগামীর বাংলাদেশের স্বপ্ন একমাত্র বিএনপিই পূরণ করতে পারবে। তাই মানুষ বিএনপির পাশে দাঁড়িয়েছে এবং নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে। জনগণই ঠিক করবে দেশ কোন দিকে যাবে। তার মালিকানা হবে ভোটের মাধ্যমে, প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে। যে সরকার তাদের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে, জবাবদিহিতা থাকবে তাদের প্রত্যাশা পূরণ করবে তাদেরকে জনগণ নির্বাচিত করবে।

গণতন্ত্রের যুদ্ধে জয়ী হতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সকল নাগরিক আজ আনন্দিত। কারণ, তারা তাদের মালিকানা ফিরে পেয়েছেন। তারা তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন এবং প্রত্যাশিত প্রতীকে ভোট দিতে পারবেন। দেশের মানুষ যে স্বপ্ন দেখছে, তারা মনে করছে বিএনপির মাধ্যমে তা পূরণ করতে পারবে। জনগণের সঙ্গে বিএনপির আস্থার যে রাজনীতি, গণতন্ত্র ও বিএনপি একসঙ্গে মিশে গেছে। তাদের আলাদা করা যাবে না।’


চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক এস এম সাইফুল আলম, শওকত আজম খাজা, সদস্য মো. সালাউদ্দিন, মশিউল আলম স্বপন, জয়নাল আবেদীন, কাউসার হোসেন বাবু, খোরশেদ আলম, মোহাম্মদ জাহেদ, কামরুন নাহার লিজা, মোহাম্মদ ইলিয়াস, আজিজুর রহমান বাদল, তসলিম উদ্দিন, মোহাম্মদ শাহজাহান, জামাল উদ্দিন জসিম, জিয়াউর রহমান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

আলোচিত খবর

জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণায় বেশি সময় লাগতে পারে- ইসি সচিব।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের দুই ধরনের ব্যালটে ভোট দিতে হবে এবং প্রার্থীর সংখ্যাও তুলনামূলক বেশি হওয়ায় ভোটগ্রহণ ও গণনা—উভয় প্রক্রিয়াতেই স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশি সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে মোবাইল অপারেটর, ব্যাংক ও বিএনসিসি কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

তিনি আরও জানান, এবারের নির্বাচনে প্রবাসী ভোটার ও দেশের অভ্যন্তরীণ ভোটারদের জন্য আলাদা ব্যালট ব্যবহৃত হবে। এর সঙ্গে প্রার্থীর সংখ্যা বেশি থাকায় ভোট গণনায় অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন হবে। বিশেষ করে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে পোস্টাল ব্যালট গণনা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

উদাহরণ হিসেবে সচিব বলেন, ফেনী-৩ আসনে পোস্টাল ভোটার ১৬ হাজার ৩৮ জন, চট্টগ্রাম-১৫ আসনে ১৪ হাজার ২৭৪ জন এবং কুমিল্লা জেলায় ১৩ হাজার ৯৩৯ জন ভোটার পোস্টাল পদ্ধতিতে নিবন্ধিত। একটি কেন্দ্রে সাধারণত তিন হাজার ভোটার থাকলেও পোস্টাল ব্যালটের চাপ পাঁচ থেকে ছয় গুণ বেশি, যা ফল প্রকাশে বিলম্ব ঘটাতে পারে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ