আজঃ শুক্রবার ৬ মার্চ, ২০২৬

চট্টগ্রামে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা পাচারে আটক পুলিশ সদস্যের মুক্তির অভিযোগ

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরের প্রবেশমুখ বাকলিয়া থানার নতুন ব্রিজ এলাকায় চেকপোস্টে তল্লাশির সময় বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ এক পুলিশ সদস্যকে আটক করা হলেও পরে তাকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উদ্ধার হওয়া ১ লাখ ২০ হাজার পিস ইয়াবা গায়েব করে ফেলার অভিযোগও উঠেছে বাকলিয়া থানার কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যের নাম ইমতিয়াজ হোসেন। তিনি কক্সবাজার জেলা আদালতের এক বিচারকের গানম্যান হিসেবে কর্মরত।

ইমতিয়াজ কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার বাখরনগর গ্রামের বাবলু মিয়ার ছেলে। ঘটনাটি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) ভেতরে ব্যাপক আলোচনা ও অস্বস্তির সৃষ্টি করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, পুরো ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
সূত্রে জানায়, গত ৮ ডিসেম্বর দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে নগরের শাহ আমানত সেতু (নতুন ব্রিজ) এলাকায় বাকলিয়া থানার অংশে ঢাকাগামী একটি বাসে তল্লাশি চালায় পুলিশ। বাসটি ওই দিন রাত ১০টায় কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসে। তল্লাশির সময় সন্দেহভাজন হিসেবে ইমতিয়াজ হোসেন নামে এক যাত্রীকে আটক করে পুলিশ বক্সে নেওয়া হয়। পরে তার সঙ্গে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করে নয়টি বক্সে মোট ১ লাখ ২০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয় বলে দাবি সূত্রের। একপর্যায়ে আটক ব্যক্তি নিজেকে পুলিশ সদস্য পরিচয় দিয়ে জানান, তিনি কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল- ২ এর বিচারক রোকেয়া আক্তারের গানম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

অভিযোগ রয়েছে, পরিচয় জানার পর দরকষাকষির মাধ্যমে বাকলিয়া থানার ওসি (তদন্ত) তানভীর আহমেদ ইয়াবাগুলো জব্দ না করে ইমতিয়াজ হোসেনকে ছেড়ে দেন। ওই সময় ঘটনাস্থলে বাকলিয়া থানার সেকেন্ড অফিসার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আল আমিন, দায়িত্বরত এএসআই সাদ্দামসহ অন্যান্য পুলিশ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। উদ্ধার হওয়া ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

পুলিশ সূত্র জানায়, ইমতিয়াজ হোসেনের ব্যবহৃত একটি ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরের কল রেকর্ড ও যাতায়াতের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত তিন মাসে তিনি একাধিকবার কক্সবাজার থেকে ঢাকায় যাতায়াত করেছেন। গত ১৩ অক্টোবর ঢাকায় গিয়ে ১৭ অক্টোবর কক্সবাজার ফেরেন। এরপর ১৫ নভেম্বর ঢাকায় গিয়ে ১৭ নভেম্বর ফেরেন। পাঁচ দিন পর আবার ২২ নভেম্বর ঢাকায় গিয়ে ২৪ নভেম্বর কক্সবাজার ফেরেন। সর্বশেষ ৮ ডিসেম্বর রাতে তিনি ঢাকাগামী বাসে ওঠেন। তবে ওই দিন কর্ণফুলী ব্রিজ এলাকায় চেকপোস্টে আটক হলেও পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর তিনি কুমিল্লার গ্রামের বাড়িতে চলে যান।

পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, কক্সবাজার আদালতে একসময় কর্মরত সায়েম নামে এক পুলিশ সদস্যের মাধ্যমে মাদক চোরাচালানে জড়িয়ে পড়েন ইমতিয়াজ। সায়েমও এক বিচারকের গানম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন এবং তাঁর সঙ্গে ইমতিয়াজের ঘনিষ্ঠতা ছিল।তিনি আরও জানান, প্রায় এক বছর আগে সায়েমসহ দুই ব্যক্তিকে ইয়াবাসহ আটক করে র‌্যাব, পরে খাগড়াছড়ি পুলিশ সুপারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে পুলিশ সদস্য ইমতিয়াজ হোসেন, বাকলিয়া থানার ওসি (তদন্ত) তানভীর আহমেদ, সেকেন্ড অফিসার এসআই আল আমিন ও এএসআই সাদ্দামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার (জনসংযোগ) আমিনুর রশিদ বলেন, বিষয়টি আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে। ঘটনাটি তদন্ত করা হবে। প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কক্সবাজার পুলিশ লাইন্সের আরআই ইন্সপেক্টর আশরাফ আলী বলেন, ইমতিয়াজ হোসেন ২০২২ সালের ১৩ জুলাই কক্সবাজার পুলিশ লাইন্সে যোগ দেন। যোগদানের পর থেকেই তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির গানম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে এস ড্রাইভ অভিযানে ৫ হাজার ইয়াবাসহ দুই মাদককারবারি গ্রেফতার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে বিশেষ এস ড্রাইভ অভিযানে ৫ হাজার পিস ইয়াবাসহ দুজনকে গ্রেফতার করেছে মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা উত্তর বিভাগ। বুধবার ভোরে মহানগর গোয়েন্দা উত্তর বিভাগের একটি টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খুলশী থানার দামপাড়া এলাকার কে-স্কয়ার কনভেনশন হলের বিপরীত পাশে বাস কাউন্টারের সামনে অভিযান পরিচালনা করে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, মো. রাসেল (২৯) ও মো. মোফাজ্জল হোসেন (৬২)।

অভিযানকালে সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তি পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে তাদের দেহ তল্লাশি করে রাসেলের কাছ থেকে ৩ হাজার পিস এবং মোফাজ্জল হোসেনের কাছ থেকে ২ হাজার পিসসহ মোট ৫ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

চট্টগ্রামে গ্যাস সংকট : বৃহৎ দুই সার কারখানা সিইউএফএল ও কাফকো’’র উৎপাদন বন্ধ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সরকারি নির্দেশনার প্রেক্ষিতে গ্যাস সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দুটি বৃহৎ সার কারখানা চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) ও কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)’র উৎপাদন কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে। দেশে চলমান গ্যাস সংকটের কারণে শিল্পখাতে গ্যাস সরবরাহ সীমিত করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এর ফলে সার কারখানাগুলোতে গ্যাসের চাপ কমে যায়।

পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ না থাকায় উৎপাদন স্বাভাবিকভাবে চালিয়ে যাওয়া সম্ভব না হওয়ায় সরকারি নির্দেশনায় উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে।
জানা গেছে, সিইউএফএল স্বাভাবিক সময়ে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদন করে। অন্যদিকে কাফকোর দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ৭২৫ মেট্রিক টন ইউরিয়া এবং প্রায় ১ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন অ্যামোনিয়া। গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় বর্তমানে এই বিপুল পরিমাণ উৎপাদন স্থগিত রয়েছে।

কারখানায় কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীরা জানান, সার উৎপাদন সম্পূর্ণভাবে গ্যাসনির্ভর। পর্যাপ্ত চাপ ও নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ ছাড়া উৎপাদন চালানো ঝুঁকিপূর্ণ। কম চাপের গ্যাসে উৎপাদন অব্যাহত রাখলে যন্ত্রপাতির ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। তাই নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এবং সরকারি সিদ্ধান্তের আলোকে কারখানাগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
হঠাৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সার সরবরাহ নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ দেখা দিলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশ্বস্ত করেছেন, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলেই দ্রুত উৎপাদন পুনরায় চালু করে বাজারে সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।
এ বিষয়ে জানতে দুই কারখানার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এর আগে গত বছরের ১ নভেম্বর দীর্ঘ সাড়ে ছয় মাস বন্ধ থাকার পর বহুল আলোচিত রাষ্ট্রায়ত্ত সিইউএফএল পুনরায় চালু করা হলেও তা ১২ ঘণ্টাও উৎপাদন সচল রাখতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। এরপর কয়েক দফায় যান্ত্রিক ত্রুটি, গ্যাস সংকটসহ নানা কারণ দেখিয়ে কারখানাটি চালু ও বন্ধের মধ্যে ছিল। সবশেষ আবারও গ্যাস সংকটে বন্ধ হলো কারখানাটি।অন্যদিকে কাফকোও গত বছরের অক্টোবর মাসে অভ্যন্তরীণ সমস্যাজনিত কারণে প্রায় ১৫ দিন উৎপাদন বন্ধ রেখেছিল। এরপর সবশেষ গতকাল গ্যাস সংকটের কারণে কারখানাটির উৎপাদন কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে যায়।

আলোচিত খবর

জুলাই জাতীয় সনদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ডেপুটি স্পিকার বিরোধী দল থেকে নেওয়ার সিদ্ধান্ত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাজনৈতিক সমঝোতার অংশ হিসেবে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার পদে বিরোধী দল থেকে প্রতিনিধি নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন- জুলাই জাতীয় সনদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সোমবার ২ মার্চ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ তথ্য জানান। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি জানান, রাজনৈতিক ঐকমত্যকে গুরুত্ব দিয়ে প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে ডেপুটি স্পিকারের জন্য একটি নাম প্রস্তাব করতে অনুরোধ করা হয়েছে। তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে মৌখিক ও সরাসরি যোগাযোগও করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

স্পিকার নির্বাচনের দিনই ডেপুটি স্পিকার পদেও নির্বাচন সম্পন্ন করা যেতে পারে। এতে সংসদ পরিচালনায় ভারসাম্য ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়- জাতীয় সনদের আলোকে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে সমঝোতা হয়েছে, সেটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ