ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদির খুনিদের গ্রেফতারের দাবিতে চট্টগ্রাম মহানগরীর শাহ আমানত সেতুর প্রবেশমুখে অবরোধ কর্মসূচী পালন করেছেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা। এতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে শত, শত যানবাহন আটকা পড়ে। ভোগান্তিতে পড়ে শত, শত যাত্রী।পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী রোববার দুপুর ২টার দিকে শ’খানেক তরুণ-যুবক নগরীর বাকলিয়া এলাকায় সেতুর প্রবেশমুখে অবস্থান নেন। পরে সেখানে আরও লোকজন এসে জড়ো হন।
অবস্থানকারীরা জাতীয় পতাকা, হাদি হত্যার বিচার দাবিতে লেখা প্লেকার্ড নিয়ে স্লোগানে-স্লোগানে মুখর করে তুলে পুরো এলাকা। হাদির খুনিদের সবাইকে গ্রেফতার ও বিচার না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বেন না বলে জানিয়েছেন তারা।
অবরোধ কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, আজাদির লড়াইয়ে শহীদ হাদি একটি অনুপ্রেরণার নাম। বাংলাদেশকে আর কারও করদ রাজ্যে পরিণত করার সুযোগ দেওয়া হবে না। শহীদ হাদি যুগ যুগ ধরে আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে আমাদের পথ দেখিয়ে যাবেন।তারা আরও বলেন, ঘটনার তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও হাদি হত্যার মূল আসামিদের কাউকে গ্রেপ্তার করতে না পারা সরকারের চরম ব্যর্থতারই বহিঃপ্রকাশ। হাদি হত্যার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার বিকল্প নেই।
এদিকে প্রবেশমুখে অবস্থানের কারণে সেতু অতিক্রম করতে বাস, ট্রাকসহ অনেক যানবাহন সেতুর ওপর আটকে থাকে। এর ফলে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কেও যানজট সৃষ্টি হয়েছে। তবে প্রায় এক ঘণ্টা পর পুলিশ গিয়ে সেতুর একপাশ থেকে অবস্থানকারীদের সরিয়ে দেন। এতে সেতুর ওপর দিয়ে কক্সবাজারমুখী লেইনে গাড়ি চলাচল ধীরগতিতে শুরু হয়। তবে আরেকপাশে অবস্থানের কারণে নগরীতে কোনো যানবাহন প্রবেশ করতে পারেনি।
বাকলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, প্রথমে সেতুর উভয় লেইন তারা আটকে রেখেছিল। আমরা পরে বুঝিয়ে তাদের সরিয়ে একপাশের লেইন সচল করেছি। এখন কক্সবাজারের দিকে গাড়ি চলাচল সীমিত আকারে চলছে। আরেকপাশ থেকে বিক্ষোভকারীদের সরানোর চেষ্টা করে।
আগেরদিন শনিবার বিকেলে নগরীর ব্যস্ততম নিউমার্কেট মোড়ে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেছিলেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা।
গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনে রিকশায় থাকা ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বেশ কয়েকজনকে পুলিশ ও র্যাব গ্রেফতার করেছে। তবে গুলিবর্ষণকারী হিসেবে শনাক্ত হওয়া ফয়সাল করিম মাসুদ গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষুব্ধ হাদির অনুসারীরা।