চলতি বছর বিভিন্ন সময়ে দাবি আদায়ের জন্য এনবিআর কর্মকর্তাদের আন্দোলন ও কর্মবিরতি, পরিবহন শ্রমিক ও মালিকদের কয়েক দফা ধর্মঘটে চট্টগ্রাম বন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হলেও কন্টেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে রেকর্ড গড়েছে। বিশেষ করে শুল্ক কর্মকর্তাদের কর্মবিরতি, পরিবহন ধর্মঘটসহ নানা প্রতিকূলতার পরও বছর শেষ হওয়ার আগেই কন্টেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে রেকর্ড গড়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। বেড়েছে বন্দরে জাহাজ আসার সংখ্যাও।
বন্দরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত জাহাজ এসেছে ৪৩৯৬টি, ২০২৪ সালে বন্দরে মোট জাহাজ হ্যান্ডলিং হয়েছিল ৩৮৫৭টি।২০২৩ সালে এ সংখ্যা ছিল ৪১০৩; ২০২২ সালে ৪৩৬১টি, ২০২১ সালে ৪২০৯টি এবং ২০২০ সালে ৩৭২৮টি জাহাজ বন্দরে এসেছিল। অন্যদিকে ২০২৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত আমদানি-রপ্তানি মিলিয়ে কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে ৩৩ লাখ ৬৩ হাজার ৫৭৭ টিইইউএস (প্রতিটি ২০ ফুট দৈর্ঘ্যের), যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। ২০২৪ সালে কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছিল ৩২ লাখ ৭৫ হাজার ৬২৭ টিইইউএস।তার মানে চলতি বছর শেষ হওয়ার চারদিন আগেই চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আগের বছরের চেয়ে ৮৭ হাজার ৯৫০ টিইইএস কন্টেইনার বেশি হ্যান্ডলিং করেছে।
বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ৩০ লাখ ৫০ হাজার ৭৯৩ টিইইউএস, ২০২২ সালে ৩১ লাখ ৪২ হাজার ৫০৪ টিইইউএস, ২০২১ সালে ৩২ লাখ ১৪ হাজার ৫৪৮ টিইইউএস এবং ২০২০ সালে ২৮ লাখ ৩৯ হাজার ৯৭৭ টিইইউএস কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছিল। অন্যদিকে চলতি বছরের ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্গো (খোলা পণ্য) হ্যান্ডলিং হয়েছে ১৩ কোটি ৬৩ লাখ ২৬ হাজার ৮৬ টন। আগের বছরে এই পরিমাণ ছিল ১২ কোটি ৩৯ লাখ ৮৩ হাজার ১৪ টন। অর্থ্যাৎ, চলতি পঞ্জিকাবর্ষে ১ কোটি ২৩ লাখ ৪৩ হাজার ৭২ ক টন বেশি পণ্য হ্যান্ডলিং হয়েছে।
বন্দর সূত্র জানা গেছে, ২০২৩ সালে ১২ কোটি ২ লাখ ৩০ হাজার ২৯৩ টন, ২০২২ সালে ১১ কোটি ৯৬ লাখ ৬৫ হাজার ৬৮২ টন, ২০২১ সালে ১১ কোটি ৬৬ লাখ ১৯ হাজার ১৫৮ টন এবং ২০২০ সালে ১০ কোটি ৩২ লাখ ৯ হাজার ৭২৪ টন খোলা পণ্য হ্যান্ডলিং হয়েছে।
বন্দর কর্মকর্তারা বলছেন, বন্দরের ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অক্লান্ত পরিশ্রম, বন্দর ব্যবহারকারীদের সহযোগিতার কারণে এ অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, চলতি বছর শেষ হতে বেশ কয়েকদিন বাকি রয়েছে। তার আগেই কন্টেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে এ অগ্রগতি বন্দরের সক্ষমতা বাড়ার দিকটাই নির্দেশ করে। আগামীতে আরও বেশি হ্যান্ডলিংয়ের জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমডোর আমিন আহমেদ আবদুল্লাহ বলেন, এক পঞ্জিকাবর্ষে আমরা আগেরবারের চেয়ে বেশি কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করেছি। বছর শেষ হতে বেশ কয়েকদিন বাকি রয়েছে। বছর শেষে এ পরিমাণ আরও বাড়বে।
তিনি বলেন, চলতি বছরে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং বন্দরের ধারণক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে রেকর্ড পরিমাণে কন্টেইনার এবং কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে।জাহাজের অপেক্ষমান সময় প্রায় শূন্যে নামিয়ে আনা গেছে। এর ফলে জাহাজ সাথে সাথে বার্থিং পাচ্ছে এবং দ্রুত পণ্য খালাস সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, “ই-গেট পাস, কন্টেইনার ট্র্যাকিং এবং স্বয়ংক্রিয় পেমেন্ট সিস্টেমের ফলে স্বচ্ছতা এসেছে এবং ভোগন্তিও কমেছে।
এছাড়া চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রথমবারের মতো মার্কি কোস্ট গার্ডের আইএসপিএস অডিটে প্রথমবারের মতো ‘জিরো অবজারভেশন’ পেয়ে নিরাপদ ও আর্ন্তজাতিক মানসম্পন্ন বন্দরে পরিণত হয়েছে।
আমিন আহমেদ আবদুল্লাহ আরো বলেন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সময়োপযোগী নীতিমালা বিশ্ব সামুদ্রিক বাণিজ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এ অর্জন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বন্দরের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে।