চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে এলপিজি সংকটে জ্বলেনা সাড়ে চার লাখ চুলা।

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ শিল্প উপজেলা মিরসরাইয়ে ভয়াবহ এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) সংকট দেখা দিয়েছে। গত ২০ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই সংকটে উপজেলার প্রায় সাড়ে চার লাখ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। অধিকাংশ বাড়িতে রান্নার চুলা বন্ধ হয়ে গেছে, বিপাকে পড়েছে গ্যাসনির্ভর মিল-কারখানা ও ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। দেশের অন্যতম বৃহৎ মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলকে ঘিরে একের পর এক শিল্পকারখানা, আবাসন ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। প্রাকৃতিক গ্যাস সংযোগ না থাকায় এসব এলাকায় রান্না ও উৎপাদনে এলপিজির ওপর নির্ভরশীলতা বেড়েছে কয়েকগুণ। কিন্তু চাহিদার তুলনায় সরবরাহ মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি দিন দিন আরও সংকটাপন্ন হয়ে উঠছে।

উপজেলার প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র বারৈয়ারহাট, করেরহাট, শান্তিরহাট, আবুতোরাব বাজার, বড়তাকিয়া, মিরসরাই সদর, জোরারগঞ্জ, মিঠাছড়া ও নিজামপুর বাজার ঘুরে দেখা গেছে— অধিকাংশ দোকানেই এলপিজি সিলিন্ডার নেই। কোথাও সীমিত পরিমাণে পাওয়া গেলেও নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত দাম।আবুতোরাব বাজার এলাকার বাসিন্দা আবদুল আউয়াল বলেন, ‘তিন দিন ধরে বাসায় গ্যাস নেই। বাজারে ঘুরেও সিলিন্ডার পাইনি। পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটছে।’

বড়তাকিয়া বাজারের একটি খাবার হোটেলের মালিক মো. রিপন বলেন, ‘আমাদের ব্যবসা পুরোপুরি গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। গ্যাস না থাকায় দোকান প্রায় বন্ধ রাখার মতো অবস্থা। প্রতিদিন লোকসান গুনতে হচ্ছে।’
মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলের একটি কারখানার একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘দীর্ঘদিন এই সংকট চললে উৎপাদন ব্যাহত হবে। বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করলে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে যাবে।’
স্থানীয় বিএম গ্যাস ও যমুনা গ্যাসের ডিলারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অপ্রতুল। এক ডিলার জানান, ‘কোম্পানি থেকে নিয়মিত গ্যাস আসছে না। যে পরিমাণ আসে, তা মুহূর্তেই বিক্রি হয়ে যায়।

এদিকে এলপিজির দাম বাড়বে নাকি কমবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসবে রবিবার (৪ জানুয়ারি)। তবে একটি গ্যাস কোম্পানির প্রতিনিধি ইঙ্গিত দিয়েছেন, আন্তর্জাতিক রুট ব্যবহারে জটিলতার কারণে সংকট তৈরি হয়েছে এবং দাম বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।এলপিজি সংকট দ্রুত সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়া হলে শিল্পাঞ্চল মিরসরাইয়ে জনজীবন ও উৎপাদন ব্যবস্থা আরও বিপর্যয়ের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

নিধারিত ভাড়া না মানলে ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যবস্থা: ইউএনও

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে সিএনজি অটোরিকশায় নির্ধারিত ভাড়ার চার্ট না থাকলে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর থেকে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে উপজেলার সব সিএনজি অটোরিকশায় দৃশ্যমান স্থানে ভাড়ার চার্ট টাঙানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় বোয়ালখালী উপজেলা অডিটোরিয়ামে সিএনজির ভাড়া, যাত্রীসেবা ও পরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান ফারুক।

সভায় যাত্রীদের স্বার্থ, চালক ও মালিকদের ন্যায্যতা এবং সিএনজি পরিবহনে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে সিএনজিতে যাত্রী উঠানামার ভাড়া ৫ টাকা এবং ইউএনও কার্যালয় থেকে ফুলতল পর্যন্ত ভাড়া ৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।এ ছাড়া স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা চলাকালীন সময়ে ইউনিফর্ম পরিহিত কিংবা বৈধ পরিচয়পত্রধারী শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্ধেক ভাড়া নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়, প্রতিটি সিএনজি অটোরিকশায় নির্ধারিত ভাড়ার চার্ট দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করতে হবে। ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব গাড়িতে ভাড়ার চার্ট লাগানো নিশ্চিত করতে হবে। ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ভাড়ার চার্ট না থাকা গাড়ির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ছাড়া নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত আদায় না করা এবং যাত্রীদের সঙ্গে শালীন, ভদ্র ও দায়িত্বশীল আচরণ করতে চালকদের নির্দেশ দেওয়া হয়। যাত্রী হয়রানি, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় কিংবা সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অমান্যের অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, বোয়ালখালীর পাঁচটি স্টেশনে পূর্বের নির্ধারিত ভাড়ার সঙ্গে ৫ টাকা করে বৃদ্ধি করা হবে। অন্য স্টেশনগুলোর ভাড়া আগের মতোই বহাল থাকবে।

সভায় বোয়ালখালী সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কানিজ ফাতেমা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফফর হোসেন, জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আজিজুল হক চেয়ারম্যান, পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ইসহাক চৌধুরী, বিএনপি নেতা শহিদুল্লাহ চৌধুরী, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতা মুজাহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির বোয়ালখালী উপজেলা শাখার সভাপতি অধীর বড়ুয়া ও সাধারণ সম্পাদক আকরাম হোসেন দুলালসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া বোয়ালখালী প্রেস ক্লাবের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, এস এম মোদাচ্ছের, বোয়ালখালী সিএনজি অটোরিকশা টেম্পু শ্রমিক ও মালিক সমন্বয় পরিষদের সভাপতি মো. ইদ্রিস, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ হাবিবুর রহমান, শ্রমিকনেতা আবদুল সাত্তার এবং কালুরঘাট-ফুলতল, শাকপুরা, সিও অফিস, জোটপুকুর, কানুনগোপাড়া, দাশেরদীঘি, বেংগুরাসহ বিভিন্ন এলাকার সিএনজি চালক ও সমিতির প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন।সভায় উপস্থিত বিভিন্ন পক্ষ পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে যাত্রীবান্ধব, সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ সিএনজি পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়ে একমত পোষণ করেন।

জেলখানায় মায়ের আদ্যশ্রাদ্ধ করার ইচ্ছে চিন্ময়ের, অনুমতি চেয়ে আবেদন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

প্যারোলে মুক্তির পর এবার চট্টগ্রাম কারাগারে মৃত মায়ের ‘আদ্যশ্রাদ্ধ’ অনুষ্ঠান আয়োজন করতে চান রাষ্ট্রদ্রোহ ও আইনজীবী হত্যার মামলায় কারাবন্দি চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী। এজন্য চিন্ময়ের বড় ভাই রঞ্জন কুমার ধর ধর্মীয় উপকরণ নিয়ে একজন পুরোহিতের কারাগারে প্রবেশ ও শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের অনুমতি চেয়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন করেছেন।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক বললেন, প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতির প্রয়োজন ছিল। সেটা দেওয়া হয়েছে। এখন যে আবেদন সেটার জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতির প্রয়োজন নেই। এটা কারাবিধি অনুযায়ী জেলা সুপার সিদ্ধান্ত নেবেন।

চট্টগ্রাম বিভাগের কারা উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি-প্রিজন্স) মোহাম্মদ ছগির মিয়া বললেন, এ ধরনের আবেদন খুবই রেয়ার। কারাবিধিতে এ বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলা নেই। যেহেতু ধর্মীয় বাধ্যবাধকতার বিষয় আছে এবং বন্দিও একজন বিশেষ বন্দি, তাই সিদ্ধান্ত হতে পারে বিশেষ বিবেচনায়। সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের। জেল কর্তৃপক্ষ কারাবিধির বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।

এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর চিন্ময়ের মা সন্ধ্যা রাণী ধর মারা যান। মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নিতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাকে পাঁচ ঘন্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দিয়েছিলেন। এরপর রঞ্জন কুমার ধর আরেকটি আবেদন করেন। এতে সনাতন ধর্মীয় অনুশাসন ও শাস্ত্রীয় আচারের কথা উল্লেখ করে চিন্ময়কে কারাগারের ভেতরে আগামী ২০ সেপ্টেম্বর মায়ের আদ্যশ্রাদ্ধ অনুষ্ঠান আয়োজনের সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়। এজন্য শ্রাদ্ধের সরঞ্জাম নিয়ে হারাধন রুদ্র নামে একজন পুরোহিতকে কারাগারে ভেতরে প্রবেশের অনুমতির আবেদন করা হয়।

চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ইসকনের সাবেক সংগঠক। সম্মিলিত সনাতনি জাগরণ জোট নামে একটি সংগঠনের মুখপাত্রও। জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে হওয়া রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর গ্রেপ্তারের পর থেকে কারাগারে আছেন তিনি। আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যাসহ তার বিরুদ্ধে মোট ৬টি মামলা আছে।

আলোচিত খবর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ