চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ‘ডি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা দিতে এসে দুই শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েন। অসুস্থ শিক্ষার্থীদের একজন চট্টগ্রাম মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী কোহিনূর আক্তার এবং অপরজন রামগতি আহমদিয়া ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী সাদিয়া আক্তার।তাৎক্ষণিকভাবে তাদের মেডিক্যাল সেন্টারে নেওয়া হলে সেখানেই বসে পরীক্ষায় অংশ নেন তারা। অসুস্থতাও থামাতে পারেনি এই দুই শিক্ষার্থীর স্বপ্নযাত্রা।
অসুস্থ হলেই মানবিক বিবেচনা ও বিশেষ ব্যবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারেই তাদের পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছে প্রশাসন।শনিবার সকালে অসুস্থ দুই শিক্ষার্থীর একজন পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশের আগে এবং অন্যজন কেন্দ্রে প্রবেশের পর শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন।
চবি সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী কোহিনূর আক্তারের পরীক্ষা কেন্দ্র ছিল জীববিজ্ঞান অনুষদে। তিনি একাধিকবার বমি করতে থাকেন, ফলে পরীক্ষা দেওয়ার মতো শারীরিক অবস্থায় ছিলেন না।
পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশের পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে কর্তব্যরত চাকসু (চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ) প্রতিনিধিদের সহায়তায় এবং প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে তাকে দ্রুত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। অন্যদিকে রামগতি আহমদিয়া ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী সাদিয়া আক্তারের পরীক্ষা কেন্দ্র ছিল নতুন কলা ভবন (শহিদ হৃদয় তরুয়া ভবন)। তিনি পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশের আগেই অসুস্থ হয়ে পড়লে তার স্বামী তাকে মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যান।
পরে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবহিত করা হলে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যদ্বয় মেডিকেল সেন্টারে উপস্থিত হন। প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থায় মেডিকেল সেন্টারেই তাদের জন্য পৃথকভাবে পরীক্ষা নেওয়া হয়। অসুস্থ শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন ও অধ্যাপক ড. মঈনুদ্দিন। এছাড়া চাকসুর পক্ষ থেকে সহ-ছাত্রীকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদাউস রিতা শিক্ষার্থীদের সার্বক্ষণিক দেখভাল করেন।
এ বিষয়ে জান্নাতুল ফেরদাউস রিতা বলেন, একজন ছাত্রী জীববিজ্ঞান অনুষদে অসুস্থ হয়ে পড়লে চাকসুর সহায়তায় তাকে মেডিকেলে নেওয়া হয়। আরেকজন পরীক্ষার্থী নতুন কলা ভবনের সামনে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকেও মেডিকেলে আনা হয়। পরে প্রশাসনের সহযোগিতায় দুজনকেই চিকিৎসা দিয়ে সেখানেই পরীক্ষা নেওয়া হয়। তারা সুস্থভাবেই পরীক্ষা সম্পন্ন করতে পেরেছেন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের সিনিয়র মেডিকেল অফিসার ডা. সাঈদা আক্তার শাহনাজ বলেন, রাতের পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া এবং সকালে খাবার না খাওয়ার কারণে শিক্ষার্থীরা শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন। তারা বেশি পরিমাণে বমি করেছেন। প্রয়োজনীয় বমি প্রতিরোধক ওষুধ দেওয়ার পর তাদের অবস্থার উন্নতি হয়।