চট্টগ্রামে বিদায়ী ২০২৫ সালে ডিসেম্বর মাসে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের অধীন চট্টগ্রাম বিভাগে টিকেট চেকিং কার্যক্রমের মাধ্যমে টিটিইদের সর্বোচ্চ আয়ের রেকর্ড হয়েছে। এই বিভাগের অধীন চট্টগ্রাম ও লাকসাম হেডকোয়ার্টার থেকে আয় হয়েছে ৫৩ লক্ষ ৮১ হাজার ৬২০ টাকা। যা দুই ঈদের মাস ব্যাতিত স্বাভাবিক সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ।
জানা গেছে, রেলওয়ের টিকেট চেকিং প্রোগ্রামে অংশ নেয়া টিটিই কর্তৃক বিনা টিকিটের যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া ও জরিমানা আদায় করা হয়। যা রেলওয়ের চলমান কার্যক্রমের অংশ। এর সাথে বিভিন্ন সময় রেলওয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের তত্বাবধানে পরিচালিত হয় বিশেষ চেকিং প্রোগ্রাম ও টাস্কফোর্স চেকিং। এসব চেকিং প্রোগ্রামে বিনা টিকিটের যাত্রী প্রতিরোধে ও তাদের কাছ থেকে ভাড়া ও জরিমানা আদায়ে করা হয় চিরুনি অভিযান। এতে বিনা টিকিটের যাত্রী প্রতিরোধের পাশাপাশি রেলওয়ের রাজস্বে জমা হয় বিপুল পরিমান অর্থ।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম বিভাগের আওতাধীন চট্টগ্রাম ও লাকসাম হেডকোয়ার্টারে কর্মরত আছেন ৩৫জন টিটিই। বিগত সময়ে কেবল বছরের দুই ঈদে বিশেষ চেকিংয়ের মাধ্যমে বিপুল পরিমান রাজস্ব আদায় করা হয়ে থাকলেও এখন বছরের অন্যান্য সময়ও বিশেষ চেকিং পরিচালিত হচ্ছে ফলে রেলওয়ের আয় বেড়েছে কয়েকগুণ। দুই ঈদের মাস ব্যাতিত গত ডিসেম্বরেই শুধু চট্টগ্রাম বিভাগের টিটিই কর্তৃক আয় হয়েছে অর্ধ কোটি টাকারও বেশী। কেবল চট্টগ্রাম হেডকোয়ার্টারের ২২ জন টিটিই চেকিং কার্যক্রমে অংশ নিয়ে ডিসেম্বরে আয় করেছে ৩৯ লক্ষ ২৩ হাজার ৪৭৫ টাকা। ১১ হাজারের বেশী যাত্রী থেকে তারা এই ভাড়া ও জরিমানা আদায় করেন।
অন্যদিকে লাকসাম হেডকোয়ার্টারে ১৩ জন টিটিই কাজ করেছেন সারা মাস জুড়ে, ১৪ লক্ষ ৫৮ হাজার একশত পয়তাল্লিশ টাকা আদায় করেছেন প্রায় ৯ হাজার যাত্রী থেকে। চট্টগ্রাম বিভাগের এই দুই হেডকোয়ার্টার মিলিয়ে চট্টগ্রামের জুনিয়র টিটিই সাইদুল ইসলাম একাই রেলওয়েকে রাজস্ব দিয়েছেন ৩ লক্ষ ৯২ হাজার ২০৫ টাকা। যা দুই হেডকোয়ার্টারে সর্বোচ্চ।
এত বিপুল পরিমান রাজস্ব আদায় কিভাবে সম্ভব হলো জানতে চাইলে ওই টিটিই জানান, ডিসেম্বরে যাত্রীর চাপ ও বিনা টিকিটের যাত্রী সংখ্যা অনেক বেশী ছিল। টিটিইদের যথাযথ দায়িত্ব পালন একই সাথে উর্ধতন কর্মকর্তাদের সহায়তায় বিপুল রাজস্ব আয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে'।

রেলওয়ের অনন্য এই রাজস্ব আয় প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বিভাগীয় বানিজ্যিক কর্মকর্তা তৌষিয়া আহমেদ বলেন, রেলওয়েকে আরো গতিশীল করার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বানিজ্যিক বিভাগ রাজস্ব বৃদ্ধি আদায়ে কাজ করে যাচ্ছে। চট্টগ্রামে কর্মরত সকল টিটিই গণের প্রচেষ্টায় সফলতা পাওয়া যাচ্ছে'। টিটিইদের সাধুবাদ জানিয়ে তিনি এই কর্মপ্রচেষ্টাকে অব্যাহত রাখার আহবান জানান।