আজঃ শনিবার ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় মা-মেয়ের খালে ঝাঁপ, মেয়ের মৃত্যু।

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় নিজের মেয়েকে নিয়ে খালে লাফ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টাকালে ৮বছর বয়সী মেয়ে রাইছার মৃত্যু হয়েছে। এই অবস্থায় মা জান্নাতুল ফেরদৌস (৩২) চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার খাদ্য গুদামের পাশে ইছামতী খালে এই ঘটনা ঘটে। বিকেলে এ রিপোর্ট লেখাকালে মেয়েটির লাশ চমেক হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।

জানা গেছে, নিহত রাইছা (০৮) উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের সৈয়দ কুচাইয়া হাজী আফজাল আহমদের বাড়ির প্রবাসী কায়সারের মেয়ে। ২ ছেলে ও ১ মেয়ের মাঝে রাইছা সবার ছোটো এবং সে সদরের এক কিন্ডারগার্টেনের কেজি স্কুলের শিক্ষার্থী। তার মা জান্নাতুল ফেরদৌস উপজেলার চাতরী ইউনিয়নের সুজারমল্লা পাড়ার আব্দুল লতিফের মেয়ে।

জান্নাতুল ফেরদৌসের শ্বশুর বাড়ির মহিম জানান, প্রতিদিনের মত মেয়েকে নিয়ে স্কুলে বের হয় জান্নাতুল ফেরদৌস। পরবর্তীতে খবর পেয়ে হাসপাতালে এসে দেখতে পাই রাইছা মনি মারা গেছে এবং তার মা চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে।

তবে জান্নাতুল ফেরদৌসের মা খদিজা আক্তার দাবি করেন, তার শাশুড়ির অত্যাচারে তার মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস তার নাতনিকে নিয়ে খালে ঝাপ দেয়। তিনি এই ঘটনার জন্য মেয়ের শ্বশুর বাড়ির লোকজনকে দায়ী করেন।

উদ্ধারকারী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. আব্দুল্লাহ জানান, এক ভ্যানচালকের কাছে খবর পেয়ে পৌণে ১টার দিকে মা-মেয়েকে উদ্ধার করে আনোয়ারা হাসপাতালে নেওয়া হয়।

হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মুছার্রাত জানান, পরীক্ষা নিরীক্ষার পর মেয়েটির মৃত্যু বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়। মেয়ের মাকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুনায়েত চৌধুরী বলেন, শিশুটিকে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। আর মা’কেও চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

কালিয়াকৈরে সায়েন্স অলিম্পিয়াড ২০২৬-এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে তরুণ বিজ্ঞানীদের সম্মাননা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। সায়েন্স অলিম্পিয়াড ২০২৬ (সিজন–১) উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানচর্চায় উদ্বুদ্ধ করতে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ. এইচ. এম. ফখরুল ইসলাম। তিনি বলেন, বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা তরুণ প্রজন্মকে উদ্ভাবনী ও সৃজনশীল করে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন কালিয়াকৈর সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান এস. এম. খালিদ হোসেন। প্রধান বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন সরকারি সাদাত কলেজ, করটিয়া, টাঙ্গাইলের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর শাহজাহান আলী।

বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন কালিয়াকৈর সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ ইফতেখারুল ইসলাম, শাহজাহান আলী কলেজের উপাধ্যক্ষ মো. শহিদুর রহমান এবং আব্দুল মান্নান ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ শাহ আলম।
অনুষ্ঠানের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন সরোয়ার হোসেন আকুল, যিনি সায়েন্স অলিম্পিয়াড প্রোগ্রামের আহ্বায়ক ও পূর্ববচন্দ্র স্পোর্টিং ক্লাব (পিএসসি)-এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক।পূর্ববচন্দ্র স্পোর্টিং ক্লাব (পিএসসি) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন

চট্টগ্রামে মানবিক ডিসির সহায়তায় এগিয়ে গেল দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীর শিক্ষার পথ ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নওগাঁ জেলার রানীনগর উপজেলার খটেশ্বর গ্রামের রিকশাচালক আমজাদ ফকির ও গৃহকর্মী ছামেনা বেগম দম্পত্তির কন্যা মাফিয়া খাতুন। জন্ম থেকেই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হলেও তার স্বপ্ন দেখার চোখ কখনো অন্ধ হয়নি। চরম প্রতিকূলতার মাঝেও মাফিয়া খাতুন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগ থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে তিনি মাস্টার্সে ভর্তিও অপেক্ষায়। কিন্তু অর্থাভাবে সেই স্বপ্ন আজ থমকে যাওয়ার মুখে। মাফিয়ার বাবা আমজাদ ফকির রিকশা চালিয়ে আর মা ছামেনা বেগম বিভিন্ন বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করে সন্তানদের পড়াশোনার খরচ চালানোর চেষ্টা করতেন। ২০২০ সালে আমজাদের মৃত্যুর পর পরিবারটির জীবনসংগ্রাম আরও কঠিন হয়ে ওঠে। একা ছামেনার পক্ষে চার সন্তানের ভরণপোষণই হয়ে পড়ে প্রায় অসম্ভব। সেখানে উচ্চশিক্ষার ব্যয় বহন ছিল কল্পনাতীত। মাফিয়ার সংগ্রাম শুধু তার একার নয়। তার আরেক ভাই মোহাম্মদ আশিকও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। আশিক বর্তমানে সিরাজগঞ্জের একটি কলেজে এইচএসসি পর্যায়ে পড়াশোনা করছে বলে জানিয়েছে পরিবার। সীমাহীন দারিদ্র্যের মাঝেও দুই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী সন্তানের শিক্ষার স্বপ্ন আঁকড়ে ধরে রেখেছেন মা ছামেনা বেগম। তবে একার আয়ে সেই স্বপ্ন টিকিয়ে রাখা দিন দিন আরও কঠিন হয়ে পড়ছে।

তবু থেমে যাননি মাফিয়া। মানুষের কাছে ধার-দেনা করে কোনোভাবে পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন তিনি। কিন্তু মাস্টার্সে ভর্তির ফি ও আনুষাঙ্গিক শিক্ষা ব্যয় জোগাড় করা তার পক্ষে আর সম্ভব হয়ে উঠছিল না। কেবল অর্থাভাবে একজন মেধাবী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।
এমন পরিস্থিতিতে মাফিয়া বৃহস্পতিবার হাজির হন সারাদেশে ‘মানবিক ডিসি’ হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞার কার্যালয়ে। সেখানে নিজের জীবনের করুণ বাস্তবতার কথা তুলে ধরেন তিনি।

মাফিয়ার কাহিনি শুনে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন,‘একজন মেধাবী শিক্ষার্থী, তাও আবার বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন—টাকার অভাবে মাস্টার্স শ্রেণিতে ভর্তি হতে পারবে না, এটা জেলা প্রশাসক হিসেবে মেনে নেওয়া কষ্টকর।’
নির্বাচনী কাজে চরম ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি মাফিয়াকে কার্যালয়ে আমন্ত্রণ জানান। সরকারি নানা সীমাবদ্ধতার মাঝেও তার পাশে দাঁড়ান, যেন সে বুঝতে পারে-রাষ্ট্রঅসহায় মানুষের পাশেই থাকে।

মাফিয়া খাতুন জানান, তিনি বরিশালের এ.আর.এস উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ঢাকার বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরে ভর্তি হন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগে। বর্তমানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামসুন্নাহার হলের আবাসিক শিক্ষার্থী।
জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা পাওয়ার পর এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি মাফিয়া। তিনি বলেন, ‘এত ব্যস্ততার মাঝেও ডিসি স্যার আমাকে সময় দিয়েছেন। উনি মানবিক না হলে নিশ্চয়ই আমার মতো মানুষের পাশে দাঁড়াতেন না।’

আলোচিত খবর

র‌্যাব নাম বদলে হচ্ছে এসআইএফ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতিসংঘের পাশাপাশি বিভিন্ন মানবাধিবকার সংগঠন বহুদিন ধরে পুলিশের বিশেষ বাহিনী র‌্যাব বিলুপ্ত করার আহ্বান জানিয়ে এলেও তার বদলে নাম বদলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান বা র‌্যাবের নতুন নাম হবে স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স বা এসআইএফ।

মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইনশৃঙ্খলা–সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন-ইতোমধ্যে এ ব্যাপারে প্রধান উপদেষ্টা অনুমোদন দিয়েছেন। শিগগিরই একটি সরকারি আদেশ জারি হবে।নামের সঙ্গে পোশাকেও পরিবর্তন আসছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন-ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসআইএফ সদস্যদের নতুন পোশাকে দেখতে পাবেন।বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট সরকারের সময়ে জঙ্গিবাদের উত্থান ও আইনশৃঙ্খলার ক্রমাগত অবনতির মধ্যে ২০০৪ সালের ২৬ মার্চ পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী, আনসার ও ভিডিপি, বিজিবি ও কোস্ট গার্ড সদস্যদের নিয়ে র‌্যাব গঠিত হয়।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ