
বাংলাদেশকে একটি শান্তির ও নিরাপদ জনপদ হিসেবে কবুল করার জন্য মহান আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ জানিয়েছেন মাইজভাণ্ডার শরীফ গাউসিয়া হক মনজিল এর সম্মানিত সাজ্জাদানশীন রাহবারে আলম হযরত সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মাইজভাণ্ডারী (ম.)।গতকাল শনিবার দিবাগত মধ্যরাতে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফে গাউসুল আযম হযরত মাওলানা শাহ্সূফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ্ মাইজভাণ্ডারী (ক.)-এর ১২০তম বার্ষিক উরস্ শরীফের আখেরি মোনাজাতে মহান আল্লাহর কাছে তিনি উক্ত ফরিয়াদ করেন।
পবিত্র উরস্ উপলক্ষে দরবারে সমবেত লাখো আশেক ভক্তের উপস্থিতিতে হওয়া মোনাজাতে তিনি বলেন, "বাংলাদেশের প্রতিটি সংকট-সমস্যার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য মহান অলি'র উছিলায় হে আল্লাহ আপনি আমাদের তৌফিক দান করুন।"
বিশ্বের দিকে দিকে নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষের মুক্তি কামনা করে সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মাইজভাণ্ডারী বলেন, "বিশ্বের শক্তিধর দেশ দূর্বল রাষ্ট্রগুলোর প্রতি ক্রমাগত অন্যায়, অবিচার, জুলুম করছে, নিরস্ত্র নারী-পুরুষদের হত্যা করছে। এসব অত্যাচারীর হাত থেকে মানবজাতিকে রক্ষা করুন।"
হালাল রুজির মাধ্যমে পিতামাতার উপযুক্ত খেদমত করার তৌফিক কামনা করে সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মাইজভাণ্ডারী বলেন, "পরিবার-পরিজন নিয়ে আমাদের একটি শান্তিময়, স্বচ্ছল ও নিরাপদ জীবন দান করুন৷ শ্রমজীবী- পেশাজীবি-বুদ্ধিজীবী-ব্যবসাজীবি'র উন্নত জীবন দান করুন।"
হুজুর গাউসুল আজম মাইজভাণ্ডারী (ক.) প্রবর্তিত ত্বরীকা এবং তাঁর গাউসিয়ত আজমিয়তের শান-মান মানুষের সামনে যথাযথ ভাবে তুলে ধরার তৌফিক কামনা করে তিনি আরও বলেন, "বিশ্বের আনাচে-কানাচে যুগে যুগে আল্লাহর দ্বীনের পতাকাকে উড্ডীন রাখার জন্য যেসব বান্দা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন তাদের পথেই আমাদের পরিচালিত করুণ।"
পবিত্র উরস্ উপলক্ষে জাতি-ধর্ম-বর্ণ, ধনী-গরিব, দল-মত নির্বিশেষে আল্লাহ'র মহান এই অলি'র দরবারে যারা হাজির হয়েছেন তাদের সকলের উপস্থিতি কবুল করার ফরিয়াদ জানিয়ে সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মাইজভাণ্ডারী মোনাজাতে আরও বলেন, "হে আল্লাহ আমরা আপনার কাছে শূন্য হাতগুলো তুলে দিয়েছি। আমাদের ত্রুটিপূর্ণ ইবাদত বন্দেগী কবুল করুন। হে আল্লাহ আপনি হুজুর গাউসুল আজম মাইজভাণ্ডারী (ক:)-কে আমাদের মাঝে আপনার বন্ধুরুপে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। মহান এই অলি'র পবিত্র উরস্ মোবারকের উছিলায় নেয়ামত হাসিলের তৌফিক দিন। উরস্ উপলক্ষে আপনার বান্দারা অগণিত সামাজিক, মানবিক, শিক্ষামূলক কর্মসূচির মাধ্যমে ইবাদত বন্দেগী করেছেন। তাদের সকল প্রচেষ্টা ও হাজিরী কবুল করুন।"
প্রসঙ্গত, মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফের ১০ই মাঘের প্রধান এই উরসকে কেন্দ্র করে প্রতিবছরের মতো এবারও লাখ লাখ আশেক ভক্ত জাতি ধর্ম বর্ণ শ্রেণী পেশার মানুষ ভেদাভেদ ভুলে সমবেত হয়েছেন। গতকাল শনিবার বা'দ ফজর শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.)-রওজা শরিফ গোসল ও গিলাফ চড়ানোর মাধ্যমে উরস শরিফের উক্ত আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। উক্ত উরস্ শরীফ উপলক্ষে শাহানশাহ্ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) ট্রাস্টের উদ্যোগে যথাযথ ভাব-গাম্ভীর্যের ভিতর দিয়ে ইতঃমধ্যে ১০ দিনব্যাপী ধর্মীয়, আধ্যাত্মিক, সামাজিক ও মানবিক বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।