আজঃ শুক্রবার ৮ মে, ২০২৬

ঠাকুরগাঁওয়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদান

রেজাউল ইসলাম মাসুদ, জেলা প্রতিনিধি, ঠাকুরগাঁও:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পুষ্টিসমৃদ্ধ জিংক ধানের সম্প্রসারণে ঠাকুরগাঁওয়ে ২৫জন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। ‘পুষ্টি নিরাপত্তায় জিংক ধান’ এই স্লোগান সামনে রেখে সোমবার (৩০ মার্চ) ঠাকুরগাঁও শহরের গোবিন্দনগর এলাকায় অবস্থিত ইএসডিও’র প্রধান কার্যালয়ের বোর্ডরুমে প্রশিক্ষণটি প্রদান করা হয়।

আর এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করে আন্তর্জাতিক খাদ্যনীতি গবেষণা ইনস্টিটিউট হারভেস্ট প্লাস প্রোগ্রামের রিঅ্যাক্টস- ইন প্রকল্প ও বাস্তবায়ন করে ইএসডিও।
বিশেষ এই প্রশিক্ষণ নিতে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা, পীরগঞ্জ ও রাণীশংকৈল উপজেলার ২৫ জন উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন।

প্রশিক্ষণে উদ্বোধনী বক্তব্য প্রদান করেন হারভেস্টপ্লাস বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার মোঃ ওয়াহিদুল আমিন। এরপর বক্তব্য প্রদান করেন ইএসডিও’র প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ড. মুহম্মদ শহীদ উজ জামান।

উক্ত প্রশিক্ষণে প্রধান রিসোর্স পার্সন হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কৃষিবিদ মোঃ মাজেদুল ইসলাম, উপ-পরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, ঠাকুরগাঁও এবং কৃষিবিদ ডক্টর মোঃ রকিবুল হাসান, সিনিয়র সাইন্টিফিক অফিসার ও হেড, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, রংপুর। হারভেস্টপ্লাস বাংলাদেশ এর পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন কৃষিবিদ মোঃ মজিবর রহমান, প্রোগ্রাম ম্যানেজার, ও কৃষিবিদ মোঃ শরিফুল ইসলাম, মনিটরিং ও ইভালুএসন অফিসার। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কৃষিবিদ মোঃ আশরাফুল আলম, প্রজেক্ট ফোকাল, রিএক্টস-ইন প্রজেক্ট, ইএসডিও, মোঃ আবু তালহা শিশির, প্রজেক্ট অফিসার, ইএসডিও সহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া ব্যক্তিত্ব।

মানবদেহে জিংকের উপকারিতা, অভাবজনিত লক্ষণ ও জিংকের ঘাটতি মেটানোর উপায়সহ জিংক সমৃদ্ধ ধান ও গমের বিভিন্ন জাত, তাদের উৎপাদন প্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা প্রশিক্ষণে স্বতস্ফুর্ত ভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং তারা প্রশিক্ষণের এই অর্জিত জ্ঞান মাঠ পর্যায়ে সঠিক ভাবে কাজে লাগাবেন মর্মে দৃঢ়তা প্রকাশ করেন।

রিএক্টস-ইন প্রকল্পটি কানাডা সরকারের অর্থায়নে, ওয়ার্ল্ড ভিশন, হারভেস্টপ্লাস, নিউট্রিশন ইন্টারন্যাশনাল এবং ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয় কনসোর্টিয়াম এর মাধ্যমে অন্যান্য তিনটি দেশের মতো বাংলাদেপিশের ঠাকুরগাঁও জেলায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই প্রকল্পের হারভেস্টপ্লাসের কার্যক্রম গুলি ইএসডিও এর মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে। হারভেস্টপ্লাস ভিটামিন এবং খনিজ সমৃদ্ধ বায়োফোর্টিফাইড খাদ্যশস্যের বিকাশ ও প্রচার করে এবং বায়োফরটিফিকেশন প্রমাণ এবং প্রযুক্তিতে বিশ্বব্যাপী নেতৃত্ব প্রদান করে পুষ্টি এবং জনস্বার্থেও উন্নতি করে। হারভেস্টপ্লাস বাংলাদেশে জিংক ধান, জিংক গম এবং জিংক ও আয়রন মসুর এর সম্প্রসারণ এবং অভিযোজনে কাজ করছে। বর্তমানে বাংলাদেশে আমন মৌসুমে ব্রি ধান ৭২ ও বিনা ধান ২০ এবং বোরো মৌসুমে ব্রি ধান ৭৪, ৮৪, ১০০ ও ১০২ ধানের ব্যাপক চাষাবাদ হচ্ছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

কালিয়াকৈরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মুরগি দোকানে ড্রেসিং, মানুষ ক্যান্সার জীবাণুর ঝুঁকিতে।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় সদবাজার ও চন্দ্রা এলাকার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মুরগি প্রক্রিয়াজাত করার অভিযোগ উঠেছে। একই পানিতে দীর্ঘসময় ধরে শত শত মুরগি ড্রেসিং করায় জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

বাজারের মুরগি পট্টিতে একাধিক দোকানে গ্যাসের চোলাই গরম পানি দিয়ে পানিতে মুরগি চুবাচ্ছেন। পাশে ময়লাযুক্ত ড্রেসিং মেশিন ও ঝাড়ু পড়ে আছে। মেঝে কাদা-পানিতে একাকার। মেঝেতে বসে মুরগির পালক ছাড়ানো হচ্ছে, খাঁচায় গাদাগাদি করে রাখা হয়েছে জীবন্ত মুরগি, আরেকজন কর্মচারী ড্রামের পানিতে মুরগি ধুচ্ছেন। পুরো জায়গাটি নোংরা ও স্যাঁতসেঁতে। এক ড্রামে ৩০০ মুরগি, পানি বদলানোর বালাই নেই।
সরেজমিনে সদর বাজারসহ মুরগি পট্টিতে গিয়ে দেখা যায় ১৫-২০টি দোকানে একই চিত্র। প্রতিটি দোকানের সামনে বড় ড্রামে পানি গরম করা হচ্ছে। সকাল ৭টায় গরম করা পানি দিয়েই সন্ধ্যা পর্যন্ত ২০০-৩০০ মুরগি ড্রেসিং করা হয়। দীর্ঘ সময় ব্যবহারের ফলে পানি কালো হয়ে যায়, ভেসে ওঠে রক্ত, পালক ও নাড়িভুঁড়ির অংশ। তীব্র দুর্গন্ধে টেকা দায়।

এক মুরগি ব্যবসায়ী বলেন, ঘন ঘন পানি বদলাইতে গেলে গ্যাস বেশি লাগে, সময়ও নষ্ট হয়। কাস্টমার দাঁড়াইয়া থাকে। সকালের পানিই সারাদিন চালাই। সবাই তো এমনে করে। বাজারে মুরগি কিনতে আসা স্কুল শিক্ষক আব্দুল হালিম বলেন, চোখের সামনে দেখতেছি কালো পানিতে মুরগি চুবাইতেছে। গন্ধে বমি আসে। বাসায় নিয়া আবার গরম পানি, লবণ, ভিনেগার দিয়া ধুই। তবুও ভয় লাগে। বাচ্চারা খায়। এইভাবে রোগজীবাণু ছড়াইতেছে।

কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার বলেন, একই পানিতে শত শত মুরগি ড্রেসিং করলে সালমোনেলা, ই-কোলাই, ক্যাম্পাইলোব্যাক্টর ও কলেরার জীবাণু সহজেই ছড়ায়। একটা অসুস্থ মুরগির জীবাণু বাকি সব মুরগিতে যায়। এই মাংস খেলে ডায়রিয়া, টাইফয়েড, ফুড পয়জনিং, এমনকি কিডনি বিকলও হতে পারে। শিশু ও বয়স্কদের জন্য এটা মৃত্যুর কারণ হতে পারে।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, এই বিষয়টি খুব স্বাস্থ্য ঝুঁকিপূর্ণ। আমরা ইউএনও মহোদয়ের অনুমতিক্রমে এসিল্যান্ড মহোদয়কে সাথে নিয়ে দ্রুত ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ করব। যেসব দোকানে এই ধরনের কার্যক্রম করে তাদের তথ্য আপনারা দিয়ে সহযোগিতা করবেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ.এইচ.এম. ফখরুল হোসাইন বলেন, “জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এ ধরনের কার্যক্রম বরদাশত করা হবে না। প্রানী সম্পদ অফিসার কে সাথে নিয়ে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে জরিমানা ও দোকান সিলগালা করা হবে। নিয়মিত মনিটরিংয়ের ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।।স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের অনিয়ম চললেও কার্যকর নজরদারির অভাবে ব্যবসায়ীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। দ্রুত তদারকি জোরদার করে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে ২জন নিহত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলায় ট্রাক ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।উপজেলার বেনিপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহতরা হলেন— নাচোল উপজেলার আজিপুর গ্রামের সালামের ছেলে মো. সোহাগ (১৭) এবং শিবগঞ্জ উপজেলার বালুটঙ্গি গ্রামের মোজাম্মেল হকের ছেলে রবিউল আওয়াল জিসান (২৭)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোরবেলা সোহাগ ও জিসান মোটরসাইকেলে করে আজিপুর থেকে ধানসুরার দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে বেনিপুর এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে তাদের মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই দুই আরোহীর মৃত্যু হয়।

নাচোল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুকোমল চন্দ্র দেবনাথ জানান, দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ট্রাকটি আটক করা হলেও চালক পালিয়ে গেছে। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হচ্ছে।াঅ

আলোচিত খবর

দীর্ঘ ২১ দিন বন্ধ থাকার পর চালু হলো ইস্টার্ন রিফাইনারি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম ব্যুরো: দীর্ঘ ২১ দিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে উৎপাদনে ফিরেছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)। শুক্রবার সকাল ৮ থেকে চট্টগ্রামের এই শোধনাগারটিতে পুনরায় পরিশোধন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
ইআরএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শরীফ হাসনাত বলেন, কুতুবদিয়ায় অবস্থানরত ক্রুড অয়েলবাহী জাহাজ থেকে লাইটারিংয়ের মাধ্যমে অপরিশোধিত তেল রিফাইনারিতে পৌঁছানো শুরু হয়েছে। এর পরপরই চালু করা হয় শোধনাগারটি।ইআরএল সূত্র জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর নতুন কোনো ক্রুড অয়েলের চালান দেশে পৌঁছায়নি। ফলে মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় গত ১২ এপ্রিল রাতে ইস্টার্ন রিফাইনারির ক্রুড অয়েল ডিস্টিলেশন ইউনিট সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

এর মধ্যে বুধবার দুপুরে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের জাহাজটি কুতুবদিয়া চ্যানেলে এসে পৌঁছায়। যুদ্ধ শুরুর পর এটিই দেশে আসা প্রথম ক্রুড অয়েলের চালান। হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে জাহাজটি বাংলাদেশে আসে। ২৪৯ দশমিক ৯৫ মিটার দীর্ঘ জাহাজটি কর্ণফুলী নদী হয়ে বন্দরের ডলফিন জেটিতে ভিড়তে না পারায় নিয়ম অনুযায়ী ছোট ছোট ট্যাংকারে তেল খালাস করে পতেঙ্গার ইআরএলে নেওয়া হচ্ছে। এ প্রক্রিয়াকে লাইটারিং বলা হয়।এদিকে হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ থাকায় ‘নর্ডিকস পলাক্স’ নামের আরেকটি জাহাজে থাকা বিপিসির এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়ে আছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন রিফাইনারি বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিশোধন করে, যা দেশের মোট চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ পূরণ করে। দেশের বাকি জ্বালানি চাহিদার বড় অংশ আমদানিনির্ভর। বর্তমানে দেশে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এছাড়া ফার্নেস অয়েল, পেট্রোল, অকটেন, কেরোসিন ও জেট ফুয়েলেরও উল্লেখযোগ্য চাহিদা রয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) মোট ৬৮ লাখ ৩৫ হাজার ৩৪১ টন জ্বালানি তেল বিক্রি করেছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ