আজঃ মঙ্গলবার ২৬ মে, ২০২৬

স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতামুক্ত হচ্ছে প্রবর্তক মোড় এলাকা: চসিক মেয়র।

প্রেস রিলিজ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম নগরীর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে প্রবর্তক মোড়সহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা শিগগিরই জলাবদ্ধতামুক্ত হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

আজ নগরীর প্রবর্তক মোড় এলাকায় হিজড়া খাল সংস্কার কার্যক্রম পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা জানান। এসময় মেয়র দ্রুত সময়ের মধ্যে খালের কাজ সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন।

মেয়র বলেন, “এ বছর বর্ষা মৌসুমে নগরীর সামগ্রিক জলাবদ্ধতা অনেকটা কমে এলেও কিছু এলাকায় পানি জমেছিল। আমি নিজে পানিতে নেমে নালা পরিষ্কার করেছি এবং সমস্যার কারণ অনুসন্ধান করেছি। তখনই বুঝেছি, সাময়িক নয়—স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।”

তিনি জানান, সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেডের অধীনে ৩৬টি খাল খনন প্রকল্পের অংশ হিসেবে হিজড়া খাল খনন, সম্প্রসারণ ও সংস্কার কাজ চলছে। খালটি গোল পাহাড়–মেহেদীবাগ এলাকা থেকে শুরু হয়ে কাতালগঞ্জ, পাঁচলাইশ, দামপাড়া, বাকলিয়া, চকবাজার ও কাপাসগোলা হয়ে ফুলতলী–চাক্তাই খালে গিয়ে মিলিত হয়েছে। দীর্ঘদিন দখল ও অপরিকল্পিত স্থাপনার কারণে খালটি সংকুচিত হয়ে পড়ায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছিল।

মেয়র বলেন, “খালটির প্রকৃত প্রস্থ প্রায় ৩০ ফুট হলেও দখলের কারণে অনেক জায়গায় তা ১২–১৫ ফুটে নেমে এসেছে। আরএস, পিএস ও বিএস ম্যাপ অনুযায়ী খালকে তার মূল প্রস্থে ফিরিয়ে আনতেই এই সংস্কার কাজ করা হচ্ছে। এজন্য কিছু স্থাপনা আংশিক অপসারণ করতে হবে, যা বৃহত্তর জনস্বার্থে জরুরি।”

তিনি আরও বলেন, “খাল খননের সময় কিছু স্থানে অস্থায়ী বাঁধ দেওয়ায় সাময়িকভাবে পানি জমে মানুষের ভোগান্তি হচ্ছে। আগামী দুই মাস কিছুটা কষ্ট হলেও পরবর্তীতে এই এলাকা স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতামুক্ত হবে।”

তিনি জানান, হিজড়া খাল ও জামালখান খাল—এই দুটি খাল নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জামালখান খালের সংস্কার কাজও একযোগে চলছে এবং তা দ্রুত শেষ হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

মশার উপদ্রব প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, “মশক নিধন কার্যক্রম জোরদারভাবে চলবে। কোনো এলাকায় ওষুধ ছিটানো না হলে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড সচিব বা সুপারভাইজারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। দায়িত্বে অবহেলা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, নগরকে ক্লিন, গ্রিন, হেলদি ও সেফ সিটিতে রূপান্তরের লক্ষ্যে ১,৬০০ কিলোমিটার ড্রেন উন্নয়ন, আধুনিক সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস), দখলমুক্ত ফুটপাত এবং পুনর্বাসনমূলক অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

খাল সংস্কারের কারণে সাময়িক জলাবদ্ধতায় নগরবাসীকে কিছুটা ভোগান্তির মুখে পড়তে হলেও দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে পাইপ স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মেয়র।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বাকপ্রতিবন্ধীকে পিটিয়ে হত্যা:চোর সাজানোর নাটক: দামাচাপা দিতে মরিয়া মালিকপক্ষ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে বিসমিল্লাহ ফেব্রিক্স ফ্যাক্টরিতে” চুরির অপবাদ দিয়ে বাকপ্রতিবন্ধী যুবক হাসমত আলীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহতের মা মাজমা বেগম বাদী হয়ে বোয়ালখালী থানা এ হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ফ্যাক্টরির কর্মকর্তাসহ ১০ জনকে এজাহারভুক্ত এবং আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।

নিহত হাসমত আলী পটিয়া উপজেলার কোলাগাঁও ইউনিয়নের লাকুরা কালারপুল এলাকার ১নং ওয়ার্ডের ইয়াকুব আলীর ছেলে। তিনি বাকপ্রতিবন্ধী ছিলেন। তার তিন সন্তান রয়েছে— জিহাদ (১০), নিহাত (৮) ও ফাহাদ (৪)।

মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোর রাতে বিসমিল্লাহ ফেব্রিক্স ফ্যাক্টরিতে প্রবেশ করলে হাসমত আলীকে আটক করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এরপর তাকে বেধড়ক মারধর করা হয় এবং আহত অবস্থায় হাত-পা বেঁধে দীর্ঘ সময় ফেলে রাখা হয়। তাকে কোনো প্রাথমিক চিকিৎসাও দেওয়া হয়নি। ঘটনাটি ভোর রাতে ঘটলেও দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।স্থানীয়দের দাবি, নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করা হয়েছিল এবং সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ,এইচআর ম্যানেজার মোঃ মোশারফ হোসেন,জেনারেল অ্যাডমিন হাফেজ মোঃ মনিরুল ইসলাম, সিকিউরিটি শিফট ইনচার্জ আমির হোসেন
বোয়ালখালী থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মাহাফুজুর রহমান বলেন মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

জঙ্গল সলিমপুরে যৌথবাহিনীর ক্যাম্পে মুহুর্মুহু গুলিবর্ষণের পর আটক-৩০

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার আলোচিত জঙ্গল সলিমপুরে যৌথবাহিনীর ক্যাম্পে মুহুর্মুহু গুলিবর্ষণ করেছে সন্ত্রাসীরা। এ সময় তারা নির্মাণাধীন নতুন ক্যাম্প গুঁড়িয়ে দেয়। খবর পেয়ে গেশ, র‌্যাব, পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত যৌথবাহিনী রাতেই অভিযানে নামে। গুলিবর্ষণের পাশাপাশি সন্ত্রাসীরা যাতায়াতের সড়কগুলো কেটে দিয়েছে। ফলে যৌথবাহিনীর যানবাহন ছাড়াই অভিযান পরিচালনা করতে হয়েছে। অভিযানে র‌্যাব-পুলিশ ২০ থেকে ৩০ জনকে আটক করেছে। সোমবার (২৫ মে) সকাল সাড়ে ১১টায় র‌্যাব-৭-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, রোববার দিবাগত রাত ১টার পর জঙ্গল সলিমপুরে সদ্য প্রতিষ্ঠিত র‌্যাব ক্যাম্প লক্ষ্য করে সন্ত্রাসীরা মুহুর্মুহু গুলিবর্ষণ করেছে। সন্ত্রাসীরা একে-৪৭ থেকেও গুলি ছুড়েছে। আমাদের সদস্যরা প্রথমে রাবার বুলেট ব্যবহার করে তখন সন্ত্রাসীরা বুলডোজার দিয়ে নির্মাণাধীন নতুন ক্যাম্প গুঁড়িয়ে দিয়েছে।একপর্যায়ে আমাদের সদস্যরা রাইফেল থেকে ফাঁকা গুলি ছোড়েন। ততক্ষণে আমরা চতুর্পাশ থেকে ঘিরে ফেলি। রাস্তা কাটা থাকায় আমরা হেঁটে ক্যাম্পে পৌঁছতে যে সময় লেগেছে সেই সুযোগে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

এই হামলার জন্য তিনি ইয়াসিনবাহিনীকে দায়ী করে আরো বলেন, যৌথবাহিনীর অভিযানে জঙ্গল সলিমপুর থেকে বিতাড়িত সন্ত্রাসী ইয়াসিন গ্রুপ হামলা চালিয়েছে বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি। অভিযানে ২০ থেকে ৩০ জন আটক আছে।যাচাই-বাছাই করে নিরপরাধ ব্যক্তিদের আমরা ছেড়ে দেব।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, যে ক্যাম্পটি সন্ত্রাসীরা গুঁড়িয়ে দিয়েছে সেটির কাজ শেষ পর্যায়ে ছিল। ঈদের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চট্টগ্রাম সফরে সেটি উদ্বোধন করার কথা ছিল। সন্ত্রাসীদের হামলায় আমাদের কেউ আহত হয়ননি। সন্ত্রাসীরা জঙ্গল সলিমপুরে আর ফিরতে পারবে না।

প্রসঙ্গত, গত ৯ মার্চ সেনাবাহিনী, র‌্যাব, পুলিশের যৌথ অভিযান চালিয়ে জঙ্গল সলিমপুরের নিয়ন্ত্রণ নেয়। জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, এখানে ৩ হাজার ১০০ একর খাসজমি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটি নিয়ন্ত্রণ করে আসছে বিভিন্ন ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ অভিযানের পর এলাকাটিতে পুলিশ ও র‌্যাবের জন্য দুটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপনের ঘোষণা দেয় সরকার। এরই অংশ হিসেবে র‌্যাব আলীনগরে একটি ক্যাম্প তৈরির কাজ শুরু করে। গতকাল রাতে সেই ক্যাম্পটি গুঁড়িয়ে দিল সন্ত্রাসীরা।

আলোচিত খবর

পবিত্র ঈদুল আজহায় ৭ দিনের ছুটি ঘোষণা, ২৩ মে।শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহায় দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিসে ৭ দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। আগামী ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত এই ছুটি থাকছে। তবে ঈদের আগে সাপ্তাহিক ছুটির মধ্যে আগামীকাল শনিবারের ২৩ মে ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে ঈদের ছুটি সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ঈদুল আজহা উপলক্ষে আগামী ২৫ মে (সোমবার) থেকে ৩১ মে রোববার পর্যন্ত দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে। এর আগে ২৩ মে শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন ও পরদিন ২৪ মে রোববার অফিসগুলো খোলা থাকবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ