মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে গত ২ মার্চ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত মোহাম্মদ তারেকের জানাজা চট্টগ্রাম মহানগরীর হালিশহরে অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার জানাযায় যোগ দেন সাংসদ সাঈদ আল নোমান, সন্দ্বীপের সাংসদের প্রতিনিধি, জামায়াত নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় অধিবাসীরা।
এসময় এমপি সাঈদ আল নোমান মোহাম্মদ তারেককে একজন কষ্টসহিষ্ণু প্রবাসী হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তিনি বিদেশের মাটিতে হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে পরিবারের হাল ধরেছিলেন। মরদেহটি দ্রুত দেশে আনার জন্য ব্যক্তিগতভাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছিলাম।
এজন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। উপস্থিত মুসল্লিদের কাছে অনুরোধ করছি, যেন মোহাম্মদ তারেকের কোনো লেনদেন বা ভুলত্রুটি থাকলে তাকে ক্ষমা করে দেবেন। পাশাপাশি অসহায় পরিবারটির পাশে থাকার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। এর আগে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে বাহরাইনের রাজধানী মানামার কানু মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
তারেকের বাড়ি সন্দ্বীপের আজিমপুর ইউনিয়নে হলেও নদী ভাঙনের কারণে তার পরিবার বর্তমানে হালিশহরে বসবাস করছে। তার ঘরে তাসনিম তামান্না নামে এক কন্যা সন্তান রয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে তারেকের মরদেহ সৌদি আরবের দাম্মাম হয়ে শুক্রবার বাংলাদেশে পাঠানো হয়। মোহাম্মদ তারেক দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে বাহরাইনে প্রবাস জীবন কাটাচ্ছিলেন।তিনি বাহরাইনের রাজধানী মানামার কাছে শিপইয়ার্ড কোম্পানি ‘দ্রাইডকে’ কর্মরত ছিলেন। ঘটনার দিন সকালে একটি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ জাহাজের ওপর এসে পড়লে তিনি নিহত হন। বছর দেড়েক আগে ছুটিতে তিনি দেশে এসেছিলেন।
তারেকের জানাজার আগে সন্দ্বীপের এমপির প্রতিনিধি বলেন, তারেকের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রায় এক মাস সময় লাশ আনার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করার জন্য প্রধানমন্ত্রী, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় এমপি সাঈদ আল নোমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।
নিহত তারেকের মামাতো ভাই মোশাররফ হোসেন বলেন, বিমানবন্দরে মন্ত্রীরা লাশ গ্রহণ করে আমাদের বুঝিয়ে দিয়েছেন। সরকার লাশ দাফন করার জন্য ৩৫ হাজার টাকা এবং পরিবারের জন্য ৫০ হাজার টাকা দিয়েছে, আরও ১০ লাখ টাকা দেবে। স্থানীয় এমপি সাঈদ আল নোমান তারেকের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা দিয়েছেন, তার মেয়ের পড়ালেখার দায়িত্ব নিয়েছেন’। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জানাজা শেষে লাশ হালিশহরের ঈদগাহ বউবাজার এলাকার কবরস্থানে দাফন করা হয়।