বন্দর সীমানায় ড্রেজিং কার্যক্রমে যুগোপযোগী পরিবর্তন

চট্টগ্রাম বন্দরে নিজস্ব ড্রেজারে এক বছরে ড্রেজিং খাতে ৫০ পঞ্চাশ কোটি টাকা সাশ্রয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সুদক্ষ ব্যবস্থাপনা ও বাস্তবধর্মী পরিকল্পনায় কর্ণফুলী চ্যানেল ও বন্দর সীমানায় ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালনায় যুগোপযোগী পরিবর্তন এসেছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট সকলের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও সরাসরি হাইড্রোগ্রাফী বিভাগের তত্ত্বাবধানে কর্ণফুলী নদীর মোহনা হতে বন্দর সীমানার অন্তর্গত প্রধান জেটি এবং কালুরঘাট পর্যন্ত নেভিগেশনাল চ্যানেলে ও বন্দর সীমার অন্যান্য চ্যানেলে নাব্যতা রক্ষায় এখন এক সাশ্রয়ী ও কার্যকর মডেল অনুসরণ করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের পরিকল্পিত এবং বাস্তবধর্মী কার্যকর উদ্যোগের ফলে ড্রেজিং খাতের ব্যয় অতীতের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে, যা সংস্থার আর্থিক সাশ্রয়ে এক যুগান্তকারী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বাস্তবসম্মত ব্যয় নির্ধারণ এবং আধুনিক মনিটরিং ব্যবস্থার ফলে ড্রেজিং খাতের অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রবণতা কমানো সম্ভব হয়েছে।

গত এক বছরে চবক এর নিজস্ব ড্রেজার এর মাধ্যমে ড্রেজিং ও পরিকল্পিতভাবে ড্রেজিং কার্য সম্পাদনের ফলে চবক এর ড্রেজিং খাতে কমপক্ষে ৫০ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে।জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সহ সংশ্লিষ্ট সদস্য (হারবার ও মেরিন) এর তত্ত্বাবধানে হাইড্রোগ্রাফী বিভাগের মাধ্যমে পরিচালিত এই ড্রেজিং কার্যক্রমে বর্তমানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে দক্ষ ঠিকাদার নিয়োগ নিশ্চিত করে ড্রেজিংয়ের কাজগুলোকে ছোট ছোট পরিকল্পিত অংশে ভাগ করে নির্দিষ্ট সময়সীমা ও কাজের পরিমাণ নির্ধারণ করে দেওয়ায় ঠিকাদাররা অনেক বেশি দায়বদ্ধতার সাথে কাজ সম্পন্ন করতে পারছে।

মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত মনিটরিং ও কঠোর প্রশাসনিক তদারকি এই সাফল্যের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। চবক-এর সরাসরি তত্ত্বাবধানে নিয়মিত তদারকির ফলে ড্রেজিংয়ের প্রকৃত পরিমাণ ও মান নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে, যা রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। এই কৌশলী উদ্যোগের ফলে বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ নৌ-চ্যানেলগুলোতে প্রয়োজনীয় নাব্যতা সার্বক্ষণিক বজায় থাকছে, যার ফলে বড় আকৃতির বাণিজ্যিক জাহাজগুলো এখন অনেক বেশি নিরাপদে এবং নির্বিঘ্নে বন্দরে যাতায়াত করতে পারছে। এর ফলে বন্দরের পণ্য খালাস ও হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নৌ-রুটে চট্টগ্রাম বন্দরের বিশ্বস্ততা আরও সুদৃঢ় হয়েছে।

এছাড়া কর্ণফুলী নদীর উপর সীমানায় বিশেষ করে সদরঘাট হতে ৩য় কর্ণফুলী সেতুর উজানে ১.৫ কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকায় নেভিগেশনাল চ্যানেল ও সংযুক্ত খাল সমূহে পরিকল্পিতভাবে সংরক্ষণ ড্রেজিং কাজ সম্পাদনের ফলে উক্ত এলাকায় লাইটার জাহাজ সহ অন্যান্য নৌযান সমূহ সমন্বিতভাবে শৃংখলাবদ্ধ উপায়ে বার্থিং করা হচ্ছে বিধায় নৌ দূর্ঘটনা অনেকাংশে উল্লেখযোগ্য হারে কমে এসেছে। একইসাথে উক্ত এলাকায় শহরের সাথে সংযুক্ত ৮ টি গুরুত্বপূর্ণ খালের মূখে চবক সীমানায় ড্রেজিং পূর্বক নাব্যতা রক্ষা করার ফলে খাল দিয়ে চট্টগ্রাম শহর থেকে আগত পানি সমূহ নির্বিঘ্নে কর্ণফুলী নদীতে পতিত হচ্ছে। যার ফলশ্রুতিতে ইহা আগামী বর্ষায় চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে অনেকাংশে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

এরূপ পরিকল্পিত ড্রেজিংয়ের ফলে কর্ণফুলী নদীর নেভিগেশনাল চ্যানেল ও অন্যান্য অংশে দীর্ঘ মেয়াদী টেকসই হাইড্রো-মরফোলজিক্যাল অবস্থার তেমন পরিবর্তন পরিলক্ষিত হচ্ছে না, যা নদীর স্বাভাবিক গতি প্রবাহে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সহ নদীতে পলি জমার হার অনেকাংশে কমে আসছে এবং চট্টগ্রাম বন্দর সহ অন্যান্য ব্যাক্তি মালিকানাধীন জেটি/ বার্থ সমূহ এর সুফল পাচ্ছে। উল্লেখ্য, উক্ত খাল সমূহের সম্মুখভাগে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক ড্রেজিং করা হলে উক্ত সংস্থার খাল ড্রেজিং খাতে অতিরিক্ত কমপক্ষে ৮৫ পঁচাশি কোটি টাকা খরচ হত, যা চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ড্রেজিং করার কারণে সাশ্রয় হয়েছে।


ড্রেজিং খাতে সাশ্রয় হওয়া এই বিপুল অর্থ এখন বন্দরের অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন প্রকল্পে বিনিয়োগ করা সম্ভব হচ্ছে। যথাযথ তদারকির ফলে ঠিকাদার-নির্ভর ড্রেজিং কার্যক্রমে এই ধরনের আর্থিক শৃঙ্খলা ও ব্যয়-সাশ্রয়ী ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি শুধুমাত্র বন্দরের অভ্যন্তরীণ ভিত্তিকেই শক্তিশালী করেনি, বরং জাতীয় অর্থনীতিতেও অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। স্বচ্ছতা ও টেকসই উন্নয়নের এই ধারা বজায় রেখে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের এই প্রধান প্রবেশদ্বারকে বিশ্বমানের আধুনিক বন্দরে রূপান্তর করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

পোশাক শ্রমিকদের নতুন মজুরি কাঠামো ডিসেম্বরের মধ্যে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত করার বিষয়ে একমত হয়েছেন শ্রমিক ও মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা। নতুন কাঠামো অনুযায়ী জানুয়ারি থেকে বেতন পাবেন শ্রমিকরা। তবে ন্যূনতম মজুরির পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

৪ নভেম্বর বুধবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা শেষে এ তথ্য জানান বোর্ডের চেয়ারম্যান সৈয়দ আজাদ সুবহানী এবং শ্রমিক ও মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা।তিনি বলেন, আগের মতো মজুরি নির্ধারণে দীর্ঘসূত্রতা করা হবে না।

শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা এবং শিল্পের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হবে।বোর্ডের শ্রমিক প্রতিনিধি বাবুল আখতার বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো নির্ধারণের বিষয়ে শ্রমিক ও মালিকপক্ষ একমত হয়েছে। সেই অনুযায়ী জানুয়ারি থেকে শ্রমিকরা নতুন কাঠামোয় বেতন পাবেন।

বিশ্ববিদ্যালয় কিউএস এশিয়া র‌্যাঙ্কিংয়ে দেশ সেরা ঢাবি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক শিক্ষা ও গবেষণা সংস্থা কোয়াককোয়ারেলি সায়মন্ডসের (কিউএস) ‘ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‌্যাঙ্কিংস: এশিয়া ২০২৭’-এ বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এবারের র‌্যাঙ্কিংয়ে এশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ১৩৬তম এবং দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ১৬তম।

গত বছরও বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শীর্ষস্থান অর্জন করেছিলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। গত ৩ নভেম্বর ২০২৬ কিউএস এ র‌্যাঙ্কিং প্রকাশ করে।এবারের র‌্যাঙ্কিংয়ে এশিয়ার ২৬টি দেশের ১ হাজার ৭২২টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে। এতে প্রথম স্থান অর্জন করেছে হংকং বিশ্ববিদ্যালয় এবং দ্বিতীয় হয়েছে চীনের পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়।

আলোচিত খবর

১২ লাখ ৭০ হাজার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ আগামীকাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আগামীকাল শনিবার প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সারা দেশের ১২ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটছে।আগামীকাল সকাল ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।


অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিব, সকল বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
উদ্বোধনের পরপরই পরীক্ষার্থীরা একযোগে নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নির্ধারিত ওয়েবসাইট এবং এসএমএসের মাধ্যমে তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল জানতে পারবেন। অনলাইনে https://eduboardresults.gov.bd I https://educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ফল জানা যাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ