চট্টগ্রামের রাউজানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে এখন পর্যন্ত ২৩টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।সোমবার দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খান এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, কিছু কিছু খুনের ঘটনা আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে হয়ে থাকে। কিছু কিছু ঘটনা বালুমহাল দখল, পাহাড় কাটা, মাটি কাটা বা চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন কারণে ঘটতে পারে। অপরাধ যে কোনো কারণেই ঘটুক, যারা অপরাধ করবে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
জানা গেছে, চট্টগ্রামের রাউজানের লেংগা বাইল্যার ঘাটা এলাকায় গত রবিবার রাত ৯টার দিকে নাছির উদ্দিন নামের এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এর আগে শনিবার চট্টগ্রামের রাউজানে কাউসার জামান বাবুল নামের আরেক যুবককে গুলি করে হত্যা করা হয়।
নাজির আহমেদ খান বলেন, চট্টগ্রামের রাউজান ও রাঙ্গুনিয়ায় সন্ত্রাসীদের কার্যক্রম আর চলতে দেওয়া যাবে না। তারা যেন মানুষের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে না পারে, সেজন্য যা যা করা দরকার আমরা করব।আমরা সেই ব্যবস্থা নিয়েছি।
পুলিশ সুপার বলেন, রাউজানের সবশেষ দুটি খুনের ঘটনায় ইতিমধ্যে প্রধান সন্দেহভাজনসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। আমাদের কাজ চলমান রয়েছে। রাউজানে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে।পাহাড়ি এলাকাগুলোতে চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।
নাজির আহমেদ আরো বলেন, চট্টগ্রামে ভৌগোলিক ও পরিবেশগত কারণে কিছু সন্ত্রাসপ্রবণ এলাকা রয়েছে। সন্ত্রাসী এলাকা ছিল জঙ্গল সলিমপুর। আমরা তা সন্ত্রাসমুক্ত করেছি।
আরো কয়েকটি এলাকা আছে, যেগুলো আমরা ইতিমধ্যে চিহ্নিত করেছি। সেখানে আমরা গতরাত থেকে অভিযান পরিচালনা করছি। এ অভিযানের মাত্রা আরো বৃদ্ধি পাবে। এসব এলাকায় বেশ কয়েকটি চেকপোস্টের ব্যবস্থা করা হয়েছে।চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার বলেন, অপরাধীদের কোনো পরিচয় আমাদের কাছে মুখ্য বিষয় নয়। অপরাধীকে একজন অপরাধী হিসেবেই বিবেচনা করি। অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।