আজঃ মঙ্গলবার ১৬ জুন, ২০২৬

গণমাধ্যমে ফ্যাসিবাদ আমলের বৈষম্য দূর করতে হবে ।

প্রেস রিলিজ

মহান মে দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিএমইউজে)’র বিবৃতি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন


মহান মে দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন( সিএমইউজে)এর সভাপতি মোহাম্মদ শাহনওয়াজ ও সাধারণ সম্পাদক সালেহ নোমান এক বিববৃতিতে বলেন- আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি শ্রমিক শ্রেণির আত্মত্যাগ, সংগ্রাম এবং ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার ইতিহাসকে।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, গভীর উদ্বেগের সঙ্গে সিএমইউজে লক্ষ্য করছে—গণমাধ্যম অঙ্গনে এখনো ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ফ্যাসিবাদী শাসনামলে শুরু হওয়া বৈষম্য আজও বহাল রয়েছে। তখন চাকুরীচ্যূত অনেক সাংবাদিক এখনো চাকুরী ফেরত পায়নি। সংবাদপত্র মালিকদের একটি অংশ এখনো বেছে বেছে ফ্যাসিবাদের সমর্থক নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বলয়ের অনুগত সাংবাদিকদের চাকরি প্রদান করছে, পেশাগত ন্যায্যতা ও নৈতিকতায় গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য মারাত্মক বাধাগ্রস্ত।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—বিগত ফ্যাসিবাদী সময়ে সংঘটিত সাংবাদিক নির্যাতন, হামলা, মামলা ও হয়রানির বহু ঘটনা এখনো বিচারহীনতায় রয়ে গেছে। এই বিচারহীনতার সংস্কৃতি শুধু ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করছে না, বরং ভবিষ্যতেও এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তিকে উৎসাহিত করছে।

সিএমইউজে দৃঢ়ভাবে দাবি জানাচ্ছে—সেই সময়ের সকল নির্যাতন, হামলা ও হয়রানির ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
বর্তমান বাস্তবতায় সাংবাদিকরা একদিকে পেশাগত অনিশ্চয়তাসহ নানা চাপে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে বেতন-ভাতা বকেয়া, চাকরির কোনো নিশ্চয়তা নেই, আবার মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বিভিন্ন আইনের অপব্যবহারের মাধ্যমে।

সিএমইউজে নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি—নিরাপত্তা, ন্যায্য বেতন, আইনি সুরক্ষা এবং স্বাধীনতা এই চারটি ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ে সংগ্রাম অব্যাহত আছে। এই প্রেক্ষাপটে সিএমইউজে অবিলম্বে নিম্নোক্ত দাবিসমূহ বাস্তবায়নের জোর দাবি জানাচ্ছে—
* নবম ওয়েজ বোর্ড দ্রুত ও বাধ্যতামূলকভাবে বাস্তবায়ন ও দশম ওয়েজ বোর্ড ঘোষণা করতে হবে।
* সাংবাদিকদের চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং বিনা কারণে ছাঁটাই বন্ধ করতে হবে।
* গণমাধ্যমকর্মী সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও কার্যকর বাস্তবায়ন করতে হবে।
* বিগত ফ্যাসিবাদী সময়ে সংঘটিত সকল সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
* সাংবাদিক নির্যাতন, হামলা ও হয়রানির বিরুদ্ধে কার্যকর রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
* ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহার বন্ধ এবং হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।
* সাংবাদিকদের জন্য স্বাস্থ্যবীমা, পেনশন, গ্র্যাচুইটি ও কল্যাণ তহবিল নিশ্চিত করতে হবে।
* ফ্রিল্যান্স ও অনলাইন সাংবাদিকদের আইনি স্বীকৃতি ও সমান অধিকার প্রদান করতে হবে।
* ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার নিশ্চিত এবং সংগঠন পরিচালনায় কোনো বাধা দেওয়া যাবে না।
* গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সম্পাদকীয় স্বাতন্ত্র্য অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে।

সিএমইউজে স্পষ্টভাবে বলতে চায়—সাংবাদিকদের ন্যায্য অধিকার, নিরাপত্তা এবং বিচার নিশ্চিত না হলে একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও জবাবদিহিমূলক গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। মহান মে দিবসের এই দিনে সিএমইউজে নেতৃবৃন্দ নিজেদের অধিকার রক্ষায়, পেশার মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় এবং সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে নির্ভীক ভূমিকা পালনে সকল সাংবাদিককে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

পিতাকে‘হানি ট্র্যাপে’ ফেলে অপহরণের পর হত্যা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে তিন বিয়ে করা এক বৃদ্ধ বাবাকে ‘হানি ট্র্যাপে’ ফেলে অপহরণের পর হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনা উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। পরিকল্পিতভাবে নারী ব্যবহার করে ফাঁদ পেতে বাবাকে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। সম্পত্তি বিক্রি করে মেয়েকে টাকা দেওয়ায় ক্ষুব্ধ ছিলেন বড় ছেলে। ক্ষোভ থেকেই বাবাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তিনি। তবে কাজটি সরাসরি না করে বেছে নেন ভিন্ন পথ। নিজের এক প্রেমিকাকে লেলিয়ে দেন ষাটোর্ধ্ব বাবার পেছনে।

ফোনে প্রেমের অভিনয় করে ওই নারী ডেকে আনেন প্রবীণ বাবুর্চি মীর মজিবুর রহমান খানকে। এরপর ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে, গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় তাকে। হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ দুই বছর পর গা শিউরে ওঠা এই ‘হানিট্র্যাপ’ ও খুনের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চট্টগ্রাম মেট্রো। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ভুক্তভোগীর ছেলে মো. বেলাল হোসেন (৩৫) ও তার ভায়রা ভাই (স্ত্রীর বড় বোনের স্বামী) আব্দুল জলিলকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার (এসপি) এস এম রফিকুল ইসলাম।

তিনি জানান, নিহত মুজিবুর রহমান পেশায় একজন বাবুর্চি ছিলেন। তার বাড়ি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার চাম্বল এলাকায়। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি তিনটি বিয়ে করেছিলেন। প্রথম স্ত্রীর ঘরে দুই ছেলে, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্ত্রীর ঘরে একটি করে মেয়ে রয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জীবনের শেষ সময়ে মুজিবুর রহমান তার দুই মেয়ের সঙ্গে বসবাস করতেন। নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে মেয়েদের পেছনে খরচ করতেন। এ নিয়ে প্রথম পক্ষের দুই ছেলের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। একপর্যায়ে তারা বাবাকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন।

তদন্তে জানা যায়, বেলাল হোসেন তার পরিচিত এক নারীকে বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। ওই নারী নিয়মিত ফোনে কথা বলে মুজিবুর রহমানের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। তাকে নতুন করে বিয়ে দেওয়ার আশ্বাসসহ বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে নিজের বাসায় ডেকে নেন।

পুলিশ সুপার এস.এম রফিকুল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের ৭ জুন মুজিবুর রহমান ওই নারীর বাসায় যান। এটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত ফাঁদ। সেখানে তাকে আপ্যায়নের সময় কোমল পানীয় বা শরবতের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেওয়া হয়। ওষুধের প্রভাবে তিনি নিস্তেজ হয়ে পড়লে বেলাল ও তার বড় ভাই আবদুল জলিল সেখানে পৌঁছান।পরে তাকে অসুস্থ রোগী পরিচয়ে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে সিআরবি এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে ভাড়া করা একটি মাইক্রোবাসে তুলে নগরের বিভিন্ন এলাকায় ঘোরানো হয়। হত্যার জন্য নির্জন স্থান খুঁজতে খুঁজতে তারা হালিশহরের আউটার লিংক রোড এলাকায় পৌঁছায়।

মুজিবুর রহমানের মৃত্যুর কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সন্ধ্যার দিকে মাইক্রোবাসের ভেতরেই গামছা দিয়ে মুজিবুর রহমানের গলায় পেঁচিয়ে দুই পাশ থেকে টান দেন বেলাল ও জলিল। এতে তার মৃত্যু হয়। পরে রাস্তার পাশের ঝোপে মরদেহ ফেলে রেখে চলে যান তারা। ঘটনার পর মুজিবুর রহমানের মেয়ে কোতোয়ালী থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন। তদন্তের এক পর্যায়ে নিহতের মোবাইল ফোন বেলালের শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার হয়। এরপর মামলাটি নতুন মোড় নেয়।

পুলিশ জানায়, মামলা হওয়ার পর বেলাল আত্মগোপনে চলে যান এবং দীর্ঘ সময় কক্সবাজার এলাকায় অবস্থান করেন। সম্প্রতি এলাকায় ফিরে এলে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দেন এবং ঘটনাস্থল শনাক্ত করেন। তার তথ্যের ভিত্তিতে আবদুল জলিলকেও গ্রেফতার করা হয়।
তদন্তে আরও জানা যায়, হত্যার দুই দিন পর হালিশহর এলাকার একই স্থান থেকে একটি অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। ওই লাশের গলায় থাকা গামছা ও পরনের পোশাকের বর্ণনা আসামিদের বক্তব্যের সঙ্গে মিলে গেছে।

পুলিশ ধারণা করছে, সেটিই মুজিবুর রহমানের লাশ। বিষয়টি নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে।
পিবিআই এসপির দাবি, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ থেকেই ছেলে বেলাল হোসেন ও তার সহযোগীরা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার বেলাল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

এডিসের প্রজনন দুর্গ খুঁজতে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে বিশেষ কীটতাত্ত্বিক ও ডেঙ্গু জরিপ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

প্রতি বছর জুলাই মাস এলেই চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা এক লাফে ৪ থেকে ৫ গুণ বেড়ে যায়। চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত চট্টগ্রামে মোট ২০৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের মে মাসে যেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১১৬ জন, সেখানে চলতি বছরের মে মাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৭ জন। এছাড়া গত বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রামে মৃত্যু হয়েছে ২৭ জনের। আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৪৮৬৪ জন। যদিও আক্রান্তের সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি ছিল। গত বছর চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর ভয়াবহ বিস্তারের মূলে ছিল এডিস মশার অস্বাভাবিক প্রজনন।

বিগত বছরের সেই বিষাদ অভিজ্ঞতা ও ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে এবার ডেঙ্গুর মূল মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই মাঠে নেমেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং মশার বংশবিস্তার চিহ্নিত করতে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে একযোগে শুরু হয়েছে বিশেষ কীটতাত্ত্বিক ও ডেঙ্গু জরিপ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১০ দিনব্যাপী এই বিশেষ কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে জরিপকারী দলের সদস্যরা কোতোয়ালীর পাথরঘাটা, ফিরিঙ্গি বাজার, আন্দরকিল্লা, মোমিন রোড, নন্দনকাননসহ আশপাশের এলাকা থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছেন। এছাড়া বায়েজিদ এলাকার শেরশাহ ও আশপাশের এলাকাতেও মশার লার্ভা শনাক্তে ল্যাব-নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। একই সাথে কাজির দেউড়ি, ব্যাটারি গলি ও বাগমনিরাম এলাকার বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও নির্মাণাধীন ভবনেও পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য বিভাগের এই বিশেষ টিম।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, চলতি বছরের ৮ জুন থেকে মাঠপর্যায়ে এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা চলবে আগামী ১৭ জুন পর্যন্ত।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তর ও জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে কীটতাত্ত্বিকদের বিশেষ টিম এই জরিপ পরিচালনা করছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই জরিপের মাধ্যমে নগরের কোন কোন ওয়ার্ডে এডিস মশার লার্ভার ঘনত্ব (ব্রেটো ইনডেক্স) বেশি, তা সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা হচ্ছে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আগাম প্রস্তুতি হিসেবে আমরা কাজ শুরু করেছ।

এদিকে, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রাপ্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত বছর (২০২৫) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রামে মৃত্যু হয়েছে ২৭ জনের। আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৪৮৬৪ জন। যদিও আক্রান্তের সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি ছিল। যারা বাসায় থেকে চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন।

এদিকে, সিভিল সার্জন দপ্তর থেকে পাওয়া গত ছয় মাসের পরিসংখ্যান (১১ জুন ২০২৬ পর্যন্ত) বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত চট্টগ্রামে মোট ২০৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের মে মাসে যেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১১৬ জন, সেখানে চলতি বছরের মে মাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৭ জন। আর চলতি জুনের প্রথম ১১ দিনে আক্রান্তের সংখ্যা ৩০ জন। আক্রান্তের এই চিত্র গত বছরের তুলনায় বেশ স্বস্তিদায়ক মনে হলেও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এখনই নিশ্চিন্ত হতে নিষেধ করছেন।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রতি বছর জুলাই মাস এলেই চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা এক লাফে ৪ থেকে ৫ গুণ বেড়ে যায়। ২০২৩ সালের জুন মাসে যেখানে আক্রান্ত ছিল ২৮৩ জন, জুলাইয়ে তা এক লাফে পৌঁছায় ২ হাজার ৩১১ জনে। একইভাবে ২০২৫ সালের জুনে ১৭৬ জনের বিপরীতে জুলাইয়ে আক্রান্ত হয় ৪৩০ জন। যার চূড়ান্ত বিস্ফোরণ ঘটে আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে।

চিকিৎসকদের মতে, জুলাই মাস থেকেই চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর আসল ‘পিক সিজন’ বা বিপজ্জনক সময় শুরু হয়। আর সেই হিসাব অনুযায়ী ডেঙ্গু বিস্তার ঠেকানোর জন্য নগরের এডিসের প্রজনন দুর্গগুলো খুঁজতে জুনের আগাম এই জরিপ।

এদিকে, স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্বাস্থ্য বিভাগ মাঠপর্যায়ে জরিপ করে ‘এডিসের হটস্পট’ বা রেড জোনগুলো চিহ্নিত করে দিলেও, মশক নিধনের মূল দায়িত্ব চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক)। স্বাস্থ্য বিভাগের দেওয়া এই ‘বৈজ্ঞানিক গাইডলাইন’ বা ম্যাপ ব্যবহার করে চসিক এবার কতটা সফলভাবে ক্রাশ প্রোগ্রাম চালাতে পারে, তার ওপরই নির্ভর করছে চলতি বছরের ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মশক নিধন কর্মকর্তা শরফুল ইসলাম মাহি বলেন, ইতিমধ্যে মশক নিধনের জন্য বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রাম হাতে নেয়া হয়েছে। এর বাইরে স্বাস্থ্য বিভাগের জরিপের ফলাফল হাতে আসলে, তাদের মতামতের ভিত্তিতে সুনির্দিষ্টভাবে কার্যক্রম চালানো হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গত বছর যে অস্বাভাবিক প্রজননের কারণে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছিল, এবার মৌসুমের শুরুতেই মাঠপর্যায়ে জরিপ ও লার্ভা চিহ্নিতকরণের এই উদ্যোগ এবং চসিকের ক্রাশ প্রোগ্রাম শতভাগ কার্যকর হলে চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব ঠেকানো সম্ভব হবে।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ