চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন ঘিরে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদ, চট্টগ্রাম। বুধবার বিকেলে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। একইসঙ্গে বর্তমান নির্বাচন কমিশন বাতিল করে আগামী দুই মাসের মধ্যে নতুন কমিশন গঠন করে পুনঃনির্বাচনের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শামসুল আলম অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষতা হারিয়ে একটি পক্ষকে সুবিধা দিতে কাজ করছে। এতে সমিতির দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার সময় তাদের প্রার্থীরা নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়েন। অনেককে কমিশন কার্যালয়ে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি এবং বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী গত ৫ মে বিকেল ৫টার মধ্যে বৈধ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করা হয়। এছাড়াও নির্বাচন আয়োজন না করে আপসের মাধ্যমে নির্দিষ্ট প্রার্থীদের বিজয়ী ঘোষণা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা। এতে রাজি না হওয়ায় তাদের প্রার্থীদের ওপর চাপ সৃষ্টি ও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়, প্রার্থীদের বিরুদ্ধে পুলিশ ও প্রশাসনকে ব্যবহার করে হয়রানি করা হতে পারে। সার্বিক পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসন্ন নির্বাচনকে ‘প্রহসনের নির্বাচন’ আখ্যা দিয়ে তা বর্জনের ঘোষণা দেয় সংগঠনটি।
একইসঙ্গে বর্তমান নির্বাচন কমিশন বাতিল করে নিরপেক্ষ নতুন কমিশন গঠন এবং আগামী দুই মাসের মধ্যে পুনরায় নির্বাচন আয়োজনের জোর দাবি জানানো হয়।