চট্টগ্রামের শিল্প ও নৌখাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী ড্রাই ডক অ্যান্ড জেটি লিমিটেড পরিদর্শন করেছেন সরকারের তিন প্রতিমন্ত্রী। তারা হলেন- নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় চট্টগ্রাম জেলার সফরসূচির অংশ হিসেবে তারা কর্ণফুলী ড্রাই ডকে পরিদর্শনে আসেন। এসময় তারা প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন স্থাপনা, চলমান কার্যক্রম ও উন্নয়ন পরিকল্পনা ঘুরে দেখেন। এছাড়া ড্রাই ডকের জেটি, নির্মাণাধীন বিভিন্ন প্রকল্প এবং অবকাঠামো ঘুরে দেখেন। পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বিক কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা করেন তারা।
এছাড়া কর্ণফুলী নদীর নাব্যতা রক্ষায় নদীর চলমান ড্রেজিং কার্যক্রমও পরিদর্শন করেছেন এই তিন প্রতিমন্ত্রী। তারা মহেশখালসহ কয়েকটি খালের মুখ সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।এ সময় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার ও মেরিন) ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কমডোর আহমেদ আমিন আব্দুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। তিনি প্রতিমন্ত্রীদের কাছে চলমান ড্রেজিং কার্যক্রম ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বিস্তারিত ব্রিফিং দেন।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কর্ণফুলী নদীর যথাযথ নাব্যতা রক্ষা এবং নদীর সঙ্গে সংযুক্ত খালগুলোর মুখে নিরবচ্ছিন্ন পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করতে সংস্থাটি নিজস্ব অর্থায়নে নিয়মিত ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর ফলে নগরীর পানি নিষ্কাশন সহজ হয়েছে এবং আসন্ন বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসনে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, সদরঘাট থেকে শাহ আমানত সেতুর উজানে প্রায় দেড় কিলোমিটার নেভিগেশনাল চ্যানেল ও কর্ণফুলীর সঙ্গে সংযুক্ত আটটি গুরুত্বপূর্ণ খালসহ নদীর বিভিন্ন স্থানে বছরে প্রায় ১৫ লাখ ঘনমিটার ড্রেজিং করা হয়। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় থাকার পাশাপাশি পলি জমার হারও অনেকাংশে কমেছে।খালগুলোর মুখে ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালনায় চট্টগ্রাম বন্দরের নিজস্ব তহবিল থেকে প্রায় ৮৫ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রীরা নদীমুখের বিদ্যমান ব্যবস্থাপনায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা আসন্ন বর্ষা মৌসুমে নদীমুখ ভরাটের কারণে যেন নগরীতে কোনো জলাবদ্ধতা সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক দৃষ্টি রাখার জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেন।পরিদর্শনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) মো. ওমর ফারুক, চিফ হাইড্রোগ্রাফার কমান্ডার ওবায়েদুর রহমান, ভারপ্রাপ্ত পরিচালক (পরিবহন) গোলাম মোহাম্মদ সারোয়ারুল ইসলাম, পরিচালক (নিরাপত্তা) লে. কমান্ডার সৈয়দ সাজ্জাদুর রহমান প্রমুখ।এসময় উপস্থিত ছিলেন- চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (হারবার ও মেরিন) সদস্য কমডোর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ, কর্ণফুলী ড্রাই ডক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার এম এ রশীদসহ সংশ্লিষ্টরা।