পবিত্র ঈদুল আজহার টানা ছুটিতে দেশের প্রধান সমুদ্র বন্দরে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য সচল রাখতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ সময় বন্দর সচল রাখতে গঠন করা হয়েছে তিনটি আলাদা টাস্কফোর্স।একইসঙ্গে কাস্টম হাউসও শুল্কায়ন কার্যক্রম চালু রাখতে ১০টি বিশেষ টিম গঠন করেছে।
ঈদের ছুটির দিনগুলোতে বাণিজ্য সচল রাখতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ যে তিনটি পৃথক টাস্কফোর্স গঠন করেছে, সেগুলো মূলত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জোনে কাজ করবে। এগুলো হলো-বহির্নোঙরে বাল্ক পণ্য খালাস বা লাইটারিং তদারকি, জেটিতে কনটেইনার ওঠানামা ও ইয়ার্ড ব্যবস্থাপনা সচল রাখা, বন্দরের জলসীমার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য কমোডর আমিন আহমেদ আবদুল্লাহ বলেন, ঈদের সময়ে দুটি টাস্কফোর্স সরাসরি পণ্য খালাস ও জেটি-ইয়ার্ড ব্যবস্থাপনায় কাজ করবে। এ ছাড়া সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করবে আরো একটি পৃথক টাস্কফোর্স।
কাস্টমসের একজন কর্মকর্তা জানান, প্রয়োজনীয় সব পয়েন্টে কাস্টমসের টিম থাকবে। সেবা নিতে এলে যাতে ফেরত যেতে না হয়। সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম বন্দরে স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন গড়ে ৮ হাজার ৭০০ টিইইউস কনটেইনার ওঠানামা হলেও দৈনিক খালাস বা ডেলিভারি হচ্ছে প্রায় সাড়ে চার হাজার টিইইউস।তবে ঈদের ছুটিতে কনটেইনার ওঠানামা স্বাভাবিক থাকলেও পণ্য খালাস বা ডেলিভারি অস্বাভাবিক কমে যায়। এর পেছনে অনেক কারণ রয়েছে।
বিশেষ করে পোশাক কারখানায় টানা ছুটির কারণে এ শিল্পের কাঁচামাল ও নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের খালাস কমে যায়। তবে অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে সংশ্লিষ্টরা এ সময়ের কাজগুলো এগিয়ে নেন আগেভাগেই।
বেসরকারি অফডক অ্যাসোসিয়েশন ‘বিকডা’র তথ্য হচ্ছে, ঈদের আগে শিপমেন্টের চাপ বেড়ে যায়। ঈদুল আজহার পর দীর্ঘ ছুটি থাকায় অনেক আমদানিকারক ও রপ্তানিকারক ঈদের পরের কাজগুলোও আগেভাগে সম্পন্ন করে রাখছেন। এ কারণেই হঠাৎ করে চাপ অনেকটাই বেড়ে গেছে।