চাঁপাইনবাবগঞ্জে অবৈধভাবে মাটি কাটার দায়ে ৪জন গ্রেপ্তার: ২টি মাটি ভর্তি ট্র‍্যাক্টর জব্দ 

বদিউজ্জামান রাজাবাবু  চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি 

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নে পদ্মার নদীর বাঁধ এলাকায় রাত দিন ২৪ ঘন্টা কৃষি জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার দায়ে ৪জন কে গ্রেপ্তার ও মাটি পরিবহনের দায়ে মাটি ভর্তি ২টি ট্র‍্যাক্টর জব্দ করা হয়েছে।

সোমবার (১ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার সুন্দরপুর পদ্মা নদীর বাঁধ এলাকায় সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সাব্বির আহমেদ রোবেল এর নেতৃত্ব অভিযান পরিচালনা করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতদের মোবাইল কোটের মাধ্যমে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ (সংশোধিত-২০২৩) অনুয়ায়ী কারাদন্ড প্রদান করা হয়। দন্ডিত ব্যাক্তিদের একজনকে ২০ দিনের, একজনকে ১৫ দিনের ও দুইজনকে ১০ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পদ্মা নদীর ৫.৬.৭ ও ৮ নম্বার বাঁধে এলাকায় একটি চক্র রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক ও পুলিশকে ম্যানেজ করে রাত দিন প্রকাশ্য মাটি কেটে ইটভাটাসহ বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছে। এতে জমির উর্বরতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য হুমকির মুখে পড়ছে। মাটিবাহী ট্রলি ও ট্রাক্টর চলাচলের কারণে পাকা সড়ক ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার মারুফ আফজাল রাজন ঘটনার সত‍্যতা নিশ্চিত করে বলেন, কৃষি জমি ও পরিবেশ রক্ষায় উপজেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। অবৈধভাবে মাটি কাটা শুধু কৃষির ক্ষতিই করে না, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও বড় হুমকি সৃষ্টি করে। এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

অফিস ফাঁকি দিয়ে প্রাইভেট হাসপাতালে থাকা চিকিৎসক,

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চলছিল অফিস টাইম। থাকার কথা ছিল জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে। অথচ সরকারি দপ্তর ফাঁকি দিয়ে চিকিৎসা দিচ্ছিলেন প্রাইভেট হাসপাতালে। এমন অবস্থায় কয়েকজন সাংবাদিক ও ক্যামেরা দেখা মাত্রই দৌড়ে পালিয়ে গেলেন প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া সেই চিকিৎসক৷ হাতেনাতে ধরা খেয়ে এমন দৌড়ে পালানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ফাইরাল হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহরের আরামবাগ এলাকার চাঁপাই এ্যাপোলো হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। অফিস ফাঁকি দিয়ে প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া অবস্থায় ধরা খেয়ে এমন দৌড়ে পালানোর ভিডিও ফাইরাল হওয়ায় পর শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। অভিযুক্ত চিকিৎসক মো. ইনজামাম উল হক। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ে মেডিকেল অফিসার (কো-অর্ডিনেটর) হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার (০২ জুলাই) দুপুরে চাঁপাই এ্যাপোলো হাসপাতালে গিয়ে ডা. মো. ইনজামাম উল হক চিকিৎসা দিচ্ছিলেন। এমনকি ভাইরাল হওয়া ভিডিও-তে দেখা যাচ্ছে, এক রোগীর আলট্রাসনোগ্রাম করছিলেন তিনি। এসময় কয়েকজন সাংবাদিক তাকে সেখানে গিয়ে দেখতে পান এবং ভিডিও ধারন করেন। চিকিৎসা দেয়া অবস্থায় সাংবাদিক ও ক্যামেরা দেখতে পেয়েই চেয়ার থেকে উঠেই ভৌঁ দৌড় দেন ডা. ইনজামাম উল হক। বেরিয়ে যান হাসপাতাল থেকে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রতক্ষ্যদর্শী মিনার আহমেদ, সাকির আলী জানান, হঠাৎ করেই হাসপাতাল থেকে ডাক্তারকে দৌড়ে বেরিয়ে আসতে দেখতে পায়। তার পেছন পেছন কয়েকজন সাংবাদিকও ক্যামেরা নিয়ে আসে। এরপর রাস্তায় দাঁড়িয়ে ওই চিকিৎসকও নিজের মুঠোফোন বের করে সেখানে নামাজ পড়তে এসেছেন বলে দাবি করে ফেসবুকে লাইভ করতে থাকেন। পরে জানা গেল, তিনি (ডা. ইনজামাম উল হক) অফিস ফাঁকি দিয়ে প্রাইভেট হাসপাতালে এসে চিকিৎসা দিচ্ছিলেন।

চিকিৎসকের দৌড়ে পালানোর ভিডিও ফাইরাল হওয়ায় পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমিনুল ইসলাম নামের এক যুবক লিখেছেন, জনগণের টাকায় সরকারি দপ্তরে চাকুরি করে সেখানে নিয়মিত থাকেন না। অথচ অফিস টাইমে তাকে পাওয়া যায় প্রাইভেট হাসপাতালে। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। এভাবেই এসব চিকিৎসককে রুখে দিতে হবে। তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

চাঁপাই এ্যাপোলো হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সালাউদ্দিন ও তত্বাবধায়ক শ্রী বিশ্বজিৎ মুঠোফোনে সময় সংবাদকে জানান, দুপুরের বিরতিতে সিভিল সার্জন অফিস থেকে চিকিৎসা দেয়ার জন্য চাঁপাই এ্যাপোলো হাসপাতালে এসেছিলেন ডা. ইনজামাম উল হক। শ্রী বিশ্বজিৎ আরও জানান, একটি সিন্ডিকেট প্রত্যেক চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে এমন ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। এরই অংশ হিসেবে গতকাল এই সিন ক্রিয়েট করা হয়েছে। এটি নিছকই সাংবাদিকদের সাথে একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে।

এনিয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ফোন রিসিভ করেননি সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার (কো-অর্ডিনেটর) ডা. মো. ইনজামাম উল হক। এমনকি হোয়াটসঅ্যাপে ম্যাসেজ দিলেও উত্তর দেননি তিনি। এদিকে, রাত ১২টার দিকে ডা. মো. ইনজামাম উল হক তার ফেসবুক আইডিতে লিখেছেন, “আলহামদুলিল্লাহ, আজ চারজন সাংবাদিক ও ডা. মো: ইনজামাম উল হক এর মধ্যে উদ্ভূত যে পরিস্থিতি নিয়ে ভূল বুঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছিলো, তার সুষ্ঠু সমাধান হয়েছে। নেতিবাচক মন্তব্য থেকে বিরত থাকুন। (Admin post)এবিষয়ে সিভিল সার্জন ডা. একেএম শাহাব উদ্দিন মুঠোফোনে সময় সংবাদকে বলেন, ডা. ইনজামাম উল হক সকাল থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত আমার সাথে বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজে অফিসেই ছিল। কিন্তু অফিস টাইমে প্রাইভেট হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা দেয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই। এনিয়ে কোন অভিযোগও পাওয়া যায়নি। তিনি আরও বলেন, অফিস চলাকালীন সময়ে প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়ার কোন সুযোগ নেই। এমন কোন অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বন্ধুর ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত, এলাকায় উত্তেজনা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের হাসপাতাল সড়কের আমবাজার এলাকায় পূর্ব বিরোধের জেরে বন্ধুর ছুরিকাঘাতে মো. রজব (২৪) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত রজব শহরের মসজিদপাড়া এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে। একই এলাকার দুই বন্ধু মো. মেহেদী (২৪) ও মো. জিসান (২৭) দীর্ঘদিন ধরে পূর্ব বিরোধে জড়িত ছিলেন বলে জানা গেছে।

বুধবার দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে আমবাজার এলাকায় রজবের সঙ্গে জিসানের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে জিসান রজবের বুকের ডান পাশে ছুরিকাঘাত করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় মেহেদী রজবকে ধরে রাখে বলেও স্থানীয়দের বরাতে জানায় পুলিশ।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার একরামুল হক জানান, ঘটনার সময় অভিযুক্ত দুই যুবকই মাদকাসক্ত অবস্থায় ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তাদের মধ্যে বিরোধের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা রজবকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একরামুল হোসাইন পিপিএম জানিয়েছে, অভিযুক্ত দুই যুবককে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

আলোচিত খবর

নতুন ভোটার হওয়ার আবেদন ৩১ জুলাই পর্যন্ত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির সুযোগ পাচ্ছেন নিবন্ধিত না হওয়া নাগরিকরা। আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত নতুন ভোটার হওয়ার আবেদন গ্রহণ করা হবে। ইসি জানিয়েছে, ২০০৮ সালের ৩১ জুলাই বা তার আগে জন্মগ্রহণকারী যেকোনো ব্যক্তি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করলে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখেই এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে নির্বাচন কমিশন।

এদিকে নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৯ আগস্ট খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা এবং উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে তালিকাটি প্রদর্শন করা হবে। তালিকায় নাম বাদ পড়া বা তথ্যগত ভুল থাকলে সংশ্লিষ্টরা ২৪ আগস্ট পর্যন্ত নতুন অন্তর্ভুক্তি বা তথ্য সংশোধনের আবেদন করতে পারবেন। সব আপত্তি নিষ্পত্তি শেষে ৩১ আগস্ট চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ১০ আগস্ট খসড়া ভোটকেন্দ্রের তালিকা প্রকাশ করা হবে। এরপর আপত্তি গ্রহণ ও যাচাই-বাছাই শেষে ২৭ আগস্ট চূড়ান্ত ভোটকেন্দ্রের তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন। এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা সিনিয়র সহকারী সচিব মো. রশিদ মিয়া স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জানানো হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, আগামী অক্টোবর থেকে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে আগস্টের মাঝামাঝি বা শেষ সপ্তাহে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে।

বর্তমানে দেশে মোট ভোটারের সংখ্যা ১২ কোটি ৮৩ লাখ ২৩ হাজার ২৪০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৫২ লাখ ১২ হাজার ৭৩১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯ হাজার ২৬৬ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৪৩ জন

আরও পড়ুন

সর্বশেষ