
সংযুক্ত আরব আমিরাতে বেসরকারি খাতের কর্মীদের বেতন মাসের প্রথম দিনেই পরিশোধ বাধ্যতামূলক হওয়ায় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ব্যাপক তৎপরতা দেখা গেছে। নতুন এই নিয়ম কার্যকর হওয়ার প্রথম দিনেই ওয়েজ প্রোটেকশন সিস্টেম (WPS) প্ল্যাটফর্মে বেতন প্রক্রিয়াকরণকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১৫১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে আল আনসারি এক্সচেঞ্জ।
প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, মানবসম্পদ ও আমিরাতিকরণ মন্ত্রণালয় (MoHRE) নির্ধারিত সময়সীমা মেনে চলতে বিপুলসংখ্যক কোম্পানি ১ জুন বেতন পরিশোধ করেছে।
২০২৬ সালের ৩৪০ নম্বর মন্ত্রীপর্যায়ের রেজোলিউশন অনুযায়ী, এখন থেকে বেসরকারি খাতের কর্মীদের আগের মাসের কাজের বেতন প্রতিটি গ্রেগরিয়ান মাসের প্রথম দিনেই দিতে হবে। ১ জুন ২০২৬ থেকে এই নিয়ম কার্যকর হয়েছে। ফলে মাসের প্রথম দিনের পর বেতন পরিশোধ করলে তা বিলম্বিত হিসেবে গণ্য হবে।
এর আগে কোম্পানিগুলো মাসের ১০ তারিখ পর্যন্ত বেতন দেওয়ার সুযোগ পেত। নতুন নিয়মে সেই সময়সীমা বাতিল করে প্রথম দিনেই বেতন পরিশোধ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী জরিমানা ও অন্যান্য প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নতুন বিধান বাস্তবায়নে বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানগুলো (SMEs) প্রস্তুতি জোরদার করেছে। মানবসম্পদ বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য নিয়মিত নগদ প্রবাহ নিশ্চিত করা, বেতন পরিকল্পনা হালনাগাদ করা এবং কর্মীদের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ বজায় রাখা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, WPS ব্যবস্থায় নিবন্ধিত কর্মীর সংখ্যা ২০২৪ সালের ৬০ লাখ ৬০ হাজার থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ৭২ লাখ ৬০ হাজারে পৌঁছেছে।
একই সময়ে বেতন লেনদেনের সংখ্যা ৬ কোটি ৭৫ লাখ থেকে বেড়ে ৭ কোটি ৯৫ লাখে দাঁড়িয়েছে। এসব লেনদেনের মোট মূল্য ৩৪১ বিলিয়ন দিরহাম থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৪০৯ বিলিয়ন দিরহামে পৌঁছেছে।
এ ছাড়া নিবন্ধিত নিয়োগকর্তার সংখ্যা ২০২৪ সালের ৩ লাখ ২১ হাজার ৭ জন থেকে ২০২৫ সালে ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৪৪৮ জনে উন্নীত হয়েছে, যা প্রায় ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি।
আল আনসারি এক্সচেঞ্জের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আলি আল নাজ্জার বলেন, নতুন নিয়মের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে নিয়োগকর্তাদের জন্য দ্রুত, কার্যকর ও নির্ভরযোগ্য বেতন-পরিশোধ সেবা আগের চেয়ে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ধারাবাহিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠার হার বৃদ্ধি এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে দেশটিতে বেতন ব্যবস্থাপনার গুরুত্বও দ্রুত বাড়ছে।
ওয়ার্ল্ডোমিটারসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে আমিরাতের জনসংখ্যা প্রায় ১ কোটি ১৬ লাখে পৌঁছাতে পারে। অন্যদিকে, গত বছর দুবাইয়ের জনসংখ্যা প্রথমবারের মতো ৪০ লাখ অতিক্রম করেছে এবং আবুধাবির জনসংখ্যাও ৪০ লাখের কাছাকাছি পৌঁছেছে।