চট্টগ্রাম মহানগরের বাকলিয়ায় আলোচিত শিশু ধর্ষণ মামলার তদন্ত ১৩ দিনেই শেষ করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার মামলার অভিযোগপত্র আদালতের প্রসিকিউশন শাখায় জমা দেয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে ধর্ষণের উদ্দেশ্যে শিশুটিকে যৌন নির্যাতন করা হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে। যা নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে ধর্ষণের অপরাধ হিসেবেই গণ্য হবে বলে জানালেন পুলিশ।
পুলিশ জানায়, গত ২১ মে দুপুরে ডেকোরেশনের গুদামে ওই এলাকার সাড়ে তিন বছরের এক শিশুকে নিয়ে যৌন নির্যাতন করেন মনির। পরে টের পেয়ে তাকে আটক করে এলাকাবাসী।খবর পেয়ে বাকলিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মনিরকে নেয় নিজেদের হেফাজতে। তবে বিপত্তি ঘটে তাকে থানায় নিতে গেলে। রওনা দেওয়ার সময় পুলিশকে ঘিরে ফেলে জনতা। বিচার নিজেরাই করবে জানিয়ে জনতার হাতে আসামিকে তুলে দেওয়ার দাবি জানাতে থাকে তারা। এ নিয়ে পুলিশ-জনতার মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, ইট-পাথর নিক্ষেপ, লাঠিচার্জ, গুলিবর্ষণ, পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগের ঘটনায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয় বাকলিয়া।২২ মে সকালে মনিরের বিরুদ্ধে বাকলিয়া থানায় মামলা করেন শিশুটির বাবা। আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন মনির। পরে তাকে পাঠানো হয় কারাগারে।
আসামি মনির হোসেনের (৩০) বাড়ি কুমিল্লা জেলায়। চট্টগ্রামের বাকলিয়া থানার নুর হোসেন চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় ভাই ভাই ডেকোরেশন নামে একটি দোকানের কর্মচারী তিনি। বসবাস ওই এলাকাতেই।
এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন বাকলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তানভীর আহমেদ বলেন, মনিরের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হওয়া গেছে ডিএনএ প্রতিবেদনে। তাকেই একমাত্র আসামি করা হয়েছে অভিযোগপত্রে।
বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, অভিযোগপত্র জমা দেয়ার বিষয়টি সিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনুমতি নেয়া হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদন বলছে, ধর্ষণের উদ্দেশ্যে শিশুটিকে করা হয়েছে যৌন নির্যাতন। যা নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে ধর্ষণের অপরাধ হিসেবেই গণ্য হবে বলে জানালেন পুলিশ পরিদর্শক তানভীর।২০২৬ সালে সংশোধিত নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের ৯(১) ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি ১৬ বছরের কম বয়সি কোনো শিশুর সঙ্গে তার সম্মতি বা সম্মতি ছাড়া যৌনকর্ম করেন, তাহলে ওই শিশুকে ধর্ষণ করেছেন বলে তিনি, এমনটাই গণ্য হবে।