
ঢাকা: জাতীয়তাবাদী যুবদলের নবগঠিত কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে স্থান পেয়েছেন নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলার কৃতী সন্তান ও সাবেক ছাত্রনেতা মুহাম্মদ এজমল হোসেন পাইলট। তিনি উপজেলার সদর ইউনিয়নের চত্রংপুর গ্রামের বাসিন্দা।
গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। এর আগে গত বুধবার (৩ জুন) আবদুল মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি এবং মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি অনুমোদন করা হয়।
‘ম্যাডামের পাইলট, ছাত্রদলের পাইলট দলীয় অঙ্গনে তিনি ‘পাইলট’ নামেই অধিক পরিচিত। বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অত্যন্ত স্নেহভাজন হিসেবে পরিচিত এই নেতাকে নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে একটি কথা প্রচলিত রয়েছে— ‘ম্যাডামের পাইলট, ছাত্রদলের পাইলট’। নেতাকর্মীরা জানান, বেগম খালেদা জিয়াও তাকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন এবং ‘পাইলট’ বলে সম্বোধন করতেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রোফাইল রাজনীতির মাঠে সংগ্রামী ও ত্যাগী নেতা হিসেবে পরিচিত এজমল হোসেন পাইলট ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে এসে যুবদলের রাজনীতিতেও দীর্ঘ দিন ধরে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।২০০৪: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল (তথ্য সংশোধন/যাচাই সাপেক্ষ; বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত 'শহীদ মহসিন হল') ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।২০১০: কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক।
২০১২: কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
২০১৪: কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের ১ নম্বর সহ-সভাপতি।
রাজনৈতিক জীবনে বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিয়ে তিনি একাধিকবার মামলা, গ্রেপ্তার, কারাবরণ ও রাজনৈতিক হয়রানির শিকার হয়েছেন। বিশেষ করে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিরোধী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকায় তাকে নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে।
নেতাকর্মীদের উচ্ছ্বাস ও প্রতিক্রিয়া
দলের প্রতি আনুগত্য, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং দীর্ঘ ত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবেই তাকে যুবদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন সাধারণ নেতাকর্মীরা। নতুন কমিটিতে তার অন্তর্ভুক্তির খবরে দেশজুড়ে যুবদল ও ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে।
নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় মুহাম্মদ এজমল হোসেন পাইলট বলেন,জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ায় বিএনপির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের প্রতি আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। একই সঙ্গে যুবদলের নবনির্বাচিত সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নের প্রতিও ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।
তিনি আরও বলেন, "দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংগ্রাম, ত্যাগ ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের যে মূল্যায়ন হয়েছে, তা আমার জন্য যেমন গৌরবের, তেমনি বড় দায়িত্বও বটে। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিতকরণ এবং বিএনপির ঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবায়নে যুবদলকে আরও কার্যকর ও গতিশীল সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে আমি সর্বাত্মক ভূমিকা রাখব।"
এজমল হোসেন পাইলটের অনুসারী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা আশা প্রকাশ করেছেন, তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক দক্ষতা জাতীয়তাবাদী যুবদলকে আগামী দিনে আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।