আজঃ শুক্রবার ১০ জুলাই, ২০২৬

পিতাকে‘হানি ট্র্যাপে’ ফেলে অপহরণের পর হত্যা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে তিন বিয়ে করা এক বৃদ্ধ বাবাকে ‘হানি ট্র্যাপে’ ফেলে অপহরণের পর হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনা উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। পরিকল্পিতভাবে নারী ব্যবহার করে ফাঁদ পেতে বাবাকে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। সম্পত্তি বিক্রি করে মেয়েকে টাকা দেওয়ায় ক্ষুব্ধ ছিলেন বড় ছেলে। ক্ষোভ থেকেই বাবাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তিনি। তবে কাজটি সরাসরি না করে বেছে নেন ভিন্ন পথ। নিজের এক প্রেমিকাকে লেলিয়ে দেন ষাটোর্ধ্ব বাবার পেছনে।

ফোনে প্রেমের অভিনয় করে ওই নারী ডেকে আনেন প্রবীণ বাবুর্চি মীর মজিবুর রহমান খানকে। এরপর ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে, গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় তাকে। হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ দুই বছর পর গা শিউরে ওঠা এই ‘হানিট্র্যাপ’ ও খুনের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চট্টগ্রাম মেট্রো। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ভুক্তভোগীর ছেলে মো. বেলাল হোসেন (৩৫) ও তার ভায়রা ভাই (স্ত্রীর বড় বোনের স্বামী) আব্দুল জলিলকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার (এসপি) এস এম রফিকুল ইসলাম।

তিনি জানান, নিহত মুজিবুর রহমান পেশায় একজন বাবুর্চি ছিলেন। তার বাড়ি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার চাম্বল এলাকায়। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি তিনটি বিয়ে করেছিলেন। প্রথম স্ত্রীর ঘরে দুই ছেলে, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্ত্রীর ঘরে একটি করে মেয়ে রয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জীবনের শেষ সময়ে মুজিবুর রহমান তার দুই মেয়ের সঙ্গে বসবাস করতেন। নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে মেয়েদের পেছনে খরচ করতেন। এ নিয়ে প্রথম পক্ষের দুই ছেলের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। একপর্যায়ে তারা বাবাকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন।

তদন্তে জানা যায়, বেলাল হোসেন তার পরিচিত এক নারীকে বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। ওই নারী নিয়মিত ফোনে কথা বলে মুজিবুর রহমানের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। তাকে নতুন করে বিয়ে দেওয়ার আশ্বাসসহ বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে নিজের বাসায় ডেকে নেন।

পুলিশ সুপার এস.এম রফিকুল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের ৭ জুন মুজিবুর রহমান ওই নারীর বাসায় যান। এটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত ফাঁদ। সেখানে তাকে আপ্যায়নের সময় কোমল পানীয় বা শরবতের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেওয়া হয়। ওষুধের প্রভাবে তিনি নিস্তেজ হয়ে পড়লে বেলাল ও তার বড় ভাই আবদুল জলিল সেখানে পৌঁছান।পরে তাকে অসুস্থ রোগী পরিচয়ে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে সিআরবি এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে ভাড়া করা একটি মাইক্রোবাসে তুলে নগরের বিভিন্ন এলাকায় ঘোরানো হয়। হত্যার জন্য নির্জন স্থান খুঁজতে খুঁজতে তারা হালিশহরের আউটার লিংক রোড এলাকায় পৌঁছায়।

মুজিবুর রহমানের মৃত্যুর কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সন্ধ্যার দিকে মাইক্রোবাসের ভেতরেই গামছা দিয়ে মুজিবুর রহমানের গলায় পেঁচিয়ে দুই পাশ থেকে টান দেন বেলাল ও জলিল। এতে তার মৃত্যু হয়। পরে রাস্তার পাশের ঝোপে মরদেহ ফেলে রেখে চলে যান তারা। ঘটনার পর মুজিবুর রহমানের মেয়ে কোতোয়ালী থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন। তদন্তের এক পর্যায়ে নিহতের মোবাইল ফোন বেলালের শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার হয়। এরপর মামলাটি নতুন মোড় নেয়।

পুলিশ জানায়, মামলা হওয়ার পর বেলাল আত্মগোপনে চলে যান এবং দীর্ঘ সময় কক্সবাজার এলাকায় অবস্থান করেন। সম্প্রতি এলাকায় ফিরে এলে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দেন এবং ঘটনাস্থল শনাক্ত করেন। তার তথ্যের ভিত্তিতে আবদুল জলিলকেও গ্রেফতার করা হয়।
তদন্তে আরও জানা যায়, হত্যার দুই দিন পর হালিশহর এলাকার একই স্থান থেকে একটি অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। ওই লাশের গলায় থাকা গামছা ও পরনের পোশাকের বর্ণনা আসামিদের বক্তব্যের সঙ্গে মিলে গেছে।

পুলিশ ধারণা করছে, সেটিই মুজিবুর রহমানের লাশ। বিষয়টি নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে।
পিবিআই এসপির দাবি, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ থেকেই ছেলে বেলাল হোসেন ও তার সহযোগীরা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার বেলাল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে সংঘবদ্ধ ছিনতাই চক্রের মূলহোতা বাদশাকে গ্রেপ্তার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে সংঘবদ্ধ ছিনতাই চক্রের মূলহোতা মো. সাইফুল ইসলাম ওরফে বাদশাকে (৩৬) গ্রেপ্তার
করেছে পুলিশ।এ সময় তার কাছ থেকে ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত একটি ছোরা এবং বিভিন্ন সময়ে ছিনতাই করা ১১টি স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ফোনগুলোর মধ্যে মামলার বাদীর ছিনতাইকৃত মোবাইল ফোনও রয়েছে।

জানা যায়, ৬ জুলাই সকালে কোতোয়ালী থানা এলাকায় যাত্রীবেশে বাসে উঠে ছোরা দেখিয়ে এক যাত্রীর মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় চক্রের সদস্যরা।
মামলার তদন্তে সিআরবি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মিজানুর রহমান তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করেন। পরে কোতোয়ালী থানার একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ৯ জুলাই বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটে চট্টগ্রামের পটিয়া থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের মূলহোতা সাইফুল ইসলাম ওরফে বাদশাকে গ্রেপ্তার করে।এ সময় তার কাছ থেকে ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত একটি ছোরা এবং বিভিন্ন সময়ে ছিনতাই করা ১১টি স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়।

বাদশা ছিনতাইকারী দল নিয়ে চট্টগ্রাম মহানগরীর নিউ মার্কেট, স্টেশন রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় আগত ব্যবসায়ী, পথচারী ও বাসযাত্রীদের টার্গেট করে ছিনতাই চালাতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সিএমপি দক্ষিণ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমান বলেন, চক্রের পলাতক অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আগৈলঝাড়া থানায় হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার ১৮ জন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আগৈলঝাড়ায় গ্রেপ্তারকৃত আসামির মৃত্যুর গুজবকে কেন্দ্র করে থানায় হামলা, ভাঙচুর করেছে একদল উশৃংখল জনতা। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। থানায় হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন আগৈলঝাড়া থানার ওসি মোহাম্মাদ মাসুদ খান।

তিনি বলেন, থানায় হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতি এবং শুক্রবার রাতভর অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে আরও কয়েকজনকে আটকের চেষ্টা চলছে। হামলায় জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় এনে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, থানায় ঢুকে এভাবে হামলা- ভাংচুর করে, আমরা কার কাছে যাব। এই পোশাক রাখব না। পাবলিক দেখেছে, সাংবাদিক দেখেছে। একটা যদি মিথ্যা প্রমাণিত হয়, একটা যদি ভুল তথ্য পায়, এই পোশাক খুলে ফেলব।

আলোচিত খবর

এইচএসসি-সমমান প্রথমদিন অনুপস্থিত ২৪ হাজার ৭৮৪ পরীক্ষার্থী, বহিষ্কার -৭

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষা মোট ১০ লাখ ২৪ হাজার ৯০৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ১০ লাখ ১২০ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ২৪ হাজার ৭৮৪ জন এবং অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে বহিষ্কার করা হয়েছে ৭ জনকে।০২ জুলাই বৃহস্পতিবার বিকেলে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি এ তথ্য জানিয়েছে। দেশের ৯টি শিক্ষা বোর্ডে বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় নিবন্ধিত ৮ লাখ ৫৬ হাজার ৯৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অংশ নেন ৮ লাখ ৩৮ হাজার ৮৬৪ জন।

অনুপস্থিত ছিলেন ১৭ হাজার ২৩৩ জন। অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে বহিষ্কার করা হয়েছে ৫ জনকে। এর মধ্যে যশোর বোর্ডে ২ জন এবং কুমিল্লা, দিনাজপুর ও ময়মনসিংহ বোর্ডে একজন করে পরীক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়েছেন।বোর্ডভিত্তিক অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা হলো—ঢাকা বোর্ডে ৩ হাজার ৯৭১, রাজশাহী বোর্ডে ২ হাজার ৪৯৭, কুমিল্লা বোর্ডে এক হাজার ৭৯৫, যশোর বোর্ডে দুই হাজার ৭৮, চট্টগ্রাম বোর্ডে এক হাজার ৩৪০, সিলেট বোর্ডে এক হাজার ১২৭, বরিশাল বোর্ডে এক হাজার ৩৪৬, দিনাজপুর বোর্ডে এক হাজার ৯৩৭ এবং ময়মনসিংহ বোর্ডে এক হাজার ১৪২ জন।

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের আলিম পরীক্ষায় কুরআন মাজিদ বিষয়ে নিবন্ধিত ৮৫ হাজার ১৩১ জনের মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেন ৮০ হাজার ৬৫৩ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ৪ হাজার ৪৭৮ জন এবং একজন পরীক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়েছেন।কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের বাংলা-২ পরীক্ষায় নিবন্ধিত ৮৩ হাজার ৬৭৬ জনের মধ্যে অংশ নেন ৮০ হাজার ৬০৩ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ৩ হাজার ৭৩ জন এবং বহিষ্কার করা হয়েছে একজনকে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ