আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মামলা, হামলার শিকার নেতা-কর্মীদের নিয়ে হাওরে এমপির মিলন মেলা

মুরাদ মিয়া,তাহিরপুর,সুনামগঞ্জ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

।

ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে মামলা,হামলা ও কারা নির্যাতনের শিকার বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা কর্মীদের সম্মানে সুনামগঞ্জ-১ (জামালগঞ্জ, তাহিরপুর, ধর্মপাশা ও মধ্যনগর) আসনের উদ্যোগে এক প্রীতি মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার মাটিয়ান হাওর পাড়ে আয়োজিত এসো মিলি প্রাণের উচ্ছ্বাসে শীর্ষক এ মিলনমেলা পরিণত হয় দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে নির্যাতিত নেতা-কর্মীদের এক মিলনমঞ্চে। অনুষ্ঠানে চার উপজেলার বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী অংশগ্রহণ করেন।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অনুষ্ঠানের আয়োজক সুনামগঞ্জ-১ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব মোঃ কামরুজ্জামান কামরুল।বিগত নির্বাচনে এ আসনে প্রথমে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আনিসুল হক। প্রতীক বরাদ্দের আগের দিন মনোনয়ন পরিবর্তন করে কামরুজ্জামান কামরুলকে দেওয়া হয়। আনিসুল হকও আনন্দভ্রমণে অংশ নেন এবং পুনর্মিলনী সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন তাহিরপুর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুনাব আলী।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ধর্মপাশা সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোতালেব খান। এছাড়া বক্তব্য রাখেন, জামালগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নুরুল হক আফেন্দী, মধ্যনগর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবে হায়াত, তাহিরপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী হাসান উজ্জ্বল, রাকাব উদ্দিন এবং ধর্মপাশা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল হকসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান বলেন,আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে বিগত দিনে যেভাবে ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে মাঠে থেকেছি, একে অপরের পাশে থেকেছি, হাতে হাত রেখে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি; এখনো সেভাবেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশকে এগিয়ে নিতে কাজ করতে হবে। আমাদের মাঝে কোনো বিভেদ-বিভক্তি থাকবে না। আমরা সবাইকে সম্মান করব, সবাইকে মূল্যায়ন করব। সবাইকে নিয়ে কাজ করব। আনন্দ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য সেটাই।

বিগত আওয়ামীলীগের আমলে মামলা, হামলার শিকার ও নির্যাতিত নেতাকর্মীরা বলেন,দীর্ঘদিনের আন্দোলন সংগ্রামে নির্যাতিত নেতা-কর্মীদের সম্মান জানাতে এমন আয়োজন বিরল দৃষ্টান্ত। এ ধরনের উদ্যোগ দলের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ, ঐক্য ও সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।অনুষ্ঠান শেষে নির্যাতিত নেতা কর্মীদের ক্রেস্ট ও উপহার দেয়া হয় এবং তাদের আত্মত্যাগের স্মৃতিচারণ করা হয়।মিলনমেলায় অংশগ্রহণকারী নেতা কর্মীরা ভবিষ্যতে দলকে আরও শক্তিশালী করতে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গায়েবি মামলায় কারাবরণকারী ও মামলার আসামি হওয়া বেশ কয়েকজন নেতা কর্মী বলেন, আমরা দীর্ঘ ১৭ বছর আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছি। মিথ্যা ও গায়েবি মামলার শিকার হয়ে কারাভোগ করেছি। আজ আমাদের প্রতি সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুলের এই মূল্যায়ন ও সম্মাননা যেন দীর্ঘদি ১৬ বছরের কষ্ট ও ত্যাগকে সার্থক করেছে।
পরে সন্ধ্যা ছয়টার দিকে আনন্দভ্রমণ ও পুনর্মিলনী শেষে হাওর থেকে বুকভরা আনন্দ নিয়ে ফেরেন নেতা-কর্মীরা।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

মার্গের সামনে নিহত ছাত্রী মাইশার মায়ের আহাজারি : ‘আমার মাইশা’ কই

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মার্গের সামনে মাইশার মা সালমা বেগম কেবল চিৎকার করে বারবার ডাকছিলেন মেয়েকে। ‘আমার মাইশা, আমার ঝি। কখনো আহাজারি, কেন এমন হলো!’ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে চমেক হাসপাতালে শুধু সালমা বেগম নয়, মাইশার সহপাঠী শিক্ষার্থীরাও কান্নায় ভেঙে পড়েন। তারা কোনোভাবেই মাইশার এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছিলেন না।

মাইশা আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্য বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারের ছাত্রী। বাড়ি মিরসরাইয়ের বড়তাকিয়া এলাকায়। সেখান থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া আসা করতেন। সকালে সীতাকুণ্ডের কুমিরায় ক্যাম্পাসের সামনে বাসচাপায় মারা যান। মাইশার সঙ্গে কিছুক্ষণ আগেও সহপাঠীদের কথা হয়েছিল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএ কো-অর্ডিনেটর জাহেদ হোসেন ভূঁইয়া জানিয়েছেন, ক্লাস বাতিল হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে ফিরে যাচ্ছিলেন মাইশা ও তার এক বান্ধবী। বাসের জন্য দাঁড়িয়েছিলেন তারা। তাদের তোলার জন্য একটি বাস দাঁড়ায়। ওই মুহূর্তে পাশ থেকে একটি লরি বাসটিকে ধাক্কা দেয়। এতে বাসটি উল্টে দুই শিক্ষার্থীর গায়ের ওপর পড়ে। হাসপাতালে মাইশাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

মাইশার বান্ধবী রাজিয়া বেগম সামান্য চোট পেয়েছেন। তার বাড়িও মিরসরাইয়ে। কিন্তু এমন ঘটনায় রাজিয়া হতভম্ব। তাকে ফেনীর বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মিরসরাই থেকে হাসপাতালে ছুটে আসেন মা সালমা বেগম। তিনি এসে দেখেন সব শেষ। এরপর আহাজারি করতে থাকেন সালমা বেগম।

কয়েক বছর আগে মাইশার বাবা মারা যান। দুই ভাইবোনের মধ্যে মাইশা বড়। নিজেকে যোগ্য করে গড়ে তোলার চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন। পড়ালেখা শেষ করে মা ও একমাত্র ভাইয়ের দায়িত্ব নেওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। সেই স্বপ্ন মুহূর্তেই ধূলিসাৎ হয়ে গেল একটি সড়ক দুর্ঘটনায়। মাইশার মা কীভাবে নিজেকে সান্ত্বনা দেবেন।

এদিকে, এই ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে শিক্ষার্থীদের অবরোধ চলছে। দুপুর দেড়টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অবরোধ চলছিল। শিক্ষার্থীরা পাঁচ দফা দাবি দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়য়ের ছাত্রী দূর্ঘটনায় মৃত্যু, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সড়ক দুর্ঘটনায় আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিরা এলাকা অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা।আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাস্তা পারাপারের সময় বিশ্ববিদ্যালয় ফটকের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় মাইশা মুশফিরাত (২১) নামে এক শিক্ষার্থী মারা যান। আহত হন তার দুই সহপাঠী।নিহত মাইশা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন। আহত দুজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর।
স্থানীয়দের বরাতে বারআউলিয়া হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট শফিউল আলম জানান, সকালে দুটি লরি পরস্পরকে ওভারটেক করতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারায়। একটি লরি ৮ নম্বর রুটের একটি লোকাল বাসকে ধাক্কা দিলে বাসটি উল্টে গিয়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা তিন শিক্ষার্থীকে চাপা দেয়। এতে তারা গুরুতর আহত হন। তাদেরকে চমেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে মাইশাকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান ইভা জানান, দুর্ঘটনার শিকার তিন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষ্ঠানে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য সকালে ক্যাম্পাসে আসছিলেন।সার্জেন্ট শফিউল জানিয়েছেন, এ ঘটনায় জড়িত দুটি লরি এবং বাস জব্দ করা হয়েছে।
চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই আলাউদ্দিন তালুকদার জানান, আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসক ওই শিক্ষার্থীকে মৃত ঘোষণা করেন।এদিকে দুর্ঘটনার খবর জানার পর প্রতিবাদে মহাসড়কের দুই পাশ অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। ফলে দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে অবরোধের কারণে উভয়পাশে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়েছে।

এ সময় পাঁচদফা দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। সেগুলো হলো ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চালককে গ্রেপ্তার, তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া, ডিপোর অবৈধ পার্কিং বন্ধ করা, ক্যাম্পাস ফটকে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ এবং ক্ষতিপূরণ দেওয়া।

আলোচিত খবর

১২ লাখ ৭০ হাজার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ আগামীকাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আগামীকাল শনিবার প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সারা দেশের ১২ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটছে।আগামীকাল সকাল ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।


অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিব, সকল বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
উদ্বোধনের পরপরই পরীক্ষার্থীরা একযোগে নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নির্ধারিত ওয়েবসাইট এবং এসএমএসের মাধ্যমে তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল জানতে পারবেন। অনলাইনে https://eduboardresults.gov.bd I https://educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ফল জানা যাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ