এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে বহুল আলোচিত শিশু আলিনা ইসলাম আয়াত অপহরণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি মো. আবিরকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন একটি আদালত। একইসঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টায় চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুহাম্মদ আলী আক্কাস এ রায় ঘোষণা করেন। চাঞ্চল্যকর এ মামলায় ৫০ জন সাক্ষীর মধ্যে মোট ৩৩ জনের সাক্ষ্য নিয়ে আদালত এ রায় দিয়েছেন।


রায় ঘোষণার সময় আসামি আবির আদালতে উপস্থিত ছিলেন।সাড়ে তিন বছর আগে এই শিশুকে কেটে ছয় টুকরো করে লাশ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে গুমের লোমহর্ষক ঘটনার মামলার রায় দেয়া হল। দণ্ডিত ২৩ বছর বয়সী আবির আলীর বাড়ি রংপুর জেলায়। ঘটনার সময় চট্টগ্রাম নগরীর ইপিজেড থানার দক্ষিণ হালিশহর ওয়ার্ডের নয়ারহাট এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।
মহানগর দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর জালাল উদ্দিন বলেন, শিশুটিকে হত্যার অপরাধে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় আসামিকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। লাশ টুকরো-টুকরো করে গুমের অপরাধে দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর বিকালে নগরীর দক্ষিণ হালিশহরের নয়ারহাট এলাকার বাসিন্দা সোহেল রানার চার বছর ১১ মাস বয়সী মেয়ে আলীনা ইসলাম আয়াত নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় ইপিজেড থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল।

ঘটনা জেনেই ছায়া তদন্তে নামে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।২৪ নভেম্বর আয়াত হত্যার অভিযোগে প্রতিবেশী তরুণ আবির আলীকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। ২৫ নভেম্বর দায় স্বীকার করে তিনি আদালতে জবানবন্দি দেন। তার দেওয়া তথ্যে ৩০ নভেম্বর নগরীর ইপিজেড থানার আকমল আলী রোডের শেষপ্রান্তে নালাসংলগ্ন স্লুইচগেট এলাকা থেকে আয়াতের বিচ্ছিন্ন দুই পায়ের অংশ এবং পরদিন খণ্ডিত মাথা উদ্ধার হয়। ৬ ডিসেম্বর আবিরের সহযোগী এক কিশোরকে গ্রেফতার করা হয়।
আবিরের বরাতে পিবিআই তখন জানিয়েছিল, আবির ১৫ নভেম্বর আয়াতকে তুলে নিয়ে শ্বাসরোধে খুন করেন। এরপর লাশ কেটে ছয় টুকরো করেন। ১৬ নভেম্বর সকালে লাশের তিনটি টুকরো নগরীর আকমল আলী রোডের শেষপ্রান্তে বেড়িবাঁধের পর আউটার রিং রোডসংলগ্ন বে-টার্মিনাল এলাকায় সাগরে ভাসিয়ে দেন। ওইদিন রাতে বাকি তিন টুকরো আকমল আলী রোডের শেষপ্রান্তে একটি নালায় স্লুইচগেটের প্রবেশমুখে ফেলে দেন।
আয়াতের বাবার করা মামলা তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর পিবিআই চট্টগ্রাম মহানগর ইউনিটের তৎকালীন পরিদর্শক মনোজ কুমার দে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এতে আবির আলী এবং তার কিশোর বয়সী বন্ধুকে আসামি করা হয়।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, নগরীর দক্ষিণ হালিশহরের নয়ারহাট এলাকায় আয়াতের দাদা মনজুর হোসেনের মালিকানাধীন ভবনে ভাড়া থাকত আবিরের পরিবার। আবিরের জন্ম ওই বাসায়। তবে ঘটনার সময় তার বাবা আজাহারুল ইসলাম ওই বাসায় থাকলেও দাম্পত্য কলহের জেরে মা আলো বেগম আকমল আলী রোডে আলাদা বাসায় থাকতেন। আবির ও তার বোন মায়ের সঙ্গে থাকতেন। তবে আবির তার বাবার বাসায়ও নিয়মিত আসা-যাওয়া করতেন।
বেকার জীবনের হতাশা থেকে আবির সম্পদশালী পরিবারের শিশু আয়াতকে অপহরণ করে বড় অংকের টাকা মুক্তিপণ আদায় করার কৌশল নিয়েছিলেন। সহযোগী কিশোরকে নিয়ে তিনি আয়াতকে তুলে নিয়েছিলেন। এরপর আবির তার বাবার বাসায় নিয়ে শিশুটিকে খুন করেন। লাশ বস্তায় ভরে মায়ের বাসায় নিয়ে কেটে ছয় টুকরো করে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দেন। ২০২৪ সালের ৩০ মে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত।
আদালতে উপস্থিত পিবিআই পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী জানালেন, মামলার দুজন আসামির মধ্যে আবির আলীর বিচার সম্পন্ন হয়েছে। অপর আসামি কিশোর বয়সী হওয়ায় তার বিচার শিশু আদালতে চলমান আছে।













