এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বর্তমান সময়ে শিশু ও তরুণদের মধ্যে জাঙ্ক ফুডের প্রতি ঝোঁক বাড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী জেলা ফল মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এমন মন্তব্য করেন। দেশীয় ফলের স্বাভাবিক স্বাদ ও পুষ্টিগুণ সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেছেন, ফলের চিরচেনা স্বাদ হারিয়ে গেলে মানুষের, বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের শিশুদের মধ্যে ফল খাওয়ার আগ্রহ কমে যায়। তাই শুধু উৎপাদন বৃদ্ধি নয়, ফলের আসল স্বাদ ও গুণগত মান রক্ষায়ও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।এবারের মেলার প্রতিপাদ্য ছিল, ‘করব মোরা ফল চাষ, সংরক্ষণ করব বারো মাস’।

জেলা প্রশাসক বলেন, বর্তমান সময়ে শিশু ও তরুণদের মধ্যে জাঙ্ক ফুডের প্রতি ঝোঁক বাড়ছে, অন্যদিকে ফল খাওয়ার প্রবণতা কমে যাচ্ছে। ফলে শরীরে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও পুষ্টির ঘাটতি তৈরি হচ্ছে, যা শারীরিক ও মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।তিনি বলেন, সুস্থ শরীরে সুস্থ মনের বাস। একটি সুস্থ, সচেতন ও মেধাবী সমাজ গঠনে পুষ্টিকর ও প্রাকৃতিক খাদ্যাভ্যাসে ফিরে আসার বিকল্প নেই।দেশীয় ফলের গুরুত্ব তুলে ধরে ডিসি বলেন, বাংলাদেশের জলবায়ু ও প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দেশীয় ফল ও বৃক্ষ আমাদের মূল্যবান সম্পদ। কিন্তু বিভিন্ন কারণে অনেক ফলের স্বাভাবিক স্বাদ হারিয়ে যাচ্ছে, যা উদ্বেগজনক।
ফল পাকাতে কার্বাইডসহ ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, কৃত্রিম উপায়ে ফল পাকানোর প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। সাময়িক লাভের জন্য মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ফেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। নিরাপদ ফল উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে কৃষক, ব্যবসায়ী এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক জানান, সরকারের পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে চট্টগ্রামে আগামী পাঁচ বছরে প্রায় দেড় কোটি চারা রোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে চলতি বছরেই প্রায় ১৮ লাখ বৃক্ষ রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সাত লাখ বৃক্ষ রোপণ করা হয়েছে। পাশাপাশি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চলতি বছরে আরও ৫৭ হাজার ফলদ ও অন্যান্য বৃক্ষ রোপণ করবে।
এর আগে জেলা প্রশাসক ফিতা কেটে তিন দিনব্যাপী ফল মেলার উদ্বোধন করেন এবং বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা কৃষকদের প্রদর্শনী স্টল পরিদর্শন করেন। মেলায় চট্টগ্রামে উৎপাদিত প্রায় ৬০ প্রজাতির প্রচলিত ও অপ্রচলিত ফল এবং সেগুলোর পুষ্টিগুণ প্রদর্শন করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) কৃষিবিদ রঘুনাথ নাহা ফলের পুষ্টিগুণ, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং বাণিজ্যিক ফল উৎপাদনের গুরুত্ব তুলে ধরে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের উপপরিচালক কৃষিবিদ আপ্রু মারমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে কৃষিবিদ আপ্রু মারমা পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রত্যেক পরিবারকে নিজ বাড়ির আঙিনায় অন্তত একটি ফলদ গাছ রোপণের আহ্বান জানান। অনুষ্ঠান শেষে স্থানীয় কৃষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে ফলদ গাছের চারা বিতরণ করা হয়।












