চট্টগ্রাম বন্দরে আসছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ ‘নর্ডিক পোলাক্স’। সব ঠিক থাকলে আগামী ৬ জুলাই সেটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে এসে পৌঁছাবে। ‘নর্ডিক পোলাক্স’ জাহাজটি বিদেশি কম্পানি থেকে ভাড়ায় নিয়ে তেল পরিবহন করছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি)। ইরান-আমেরিকা যুদ্ধে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে জাহাজটি সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিল। কড়াকড়ি কিছুটা শিথিল হওয়ার সুযোগে গত সোমবার জাহাজটি নিরাপদে হরমুজ প্রণালি পার হতে সক্ষম হয়। অর্থ্যাৎ ১২৮ দিন পর জাহাজটি তেল নিয়ে চট্টগ্রামে পৌঁছবে। জাহাজটিতে ১ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল (ক্রুড অয়েল) রয়েছে।
চট্টগ্রামে পৌঁছানোর পর এই তেল দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডে (ইআরএল) শোধন করে দেশব্যাপী সরবরাহ করা হবে।বিপিসি হয়ে জ্বালানি তেল পরিবহনের এই কাজটি তদারকি করছে সরকারি সংস্থা বিএসসি।
প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক জানান, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে আমরা বসে থাকিনি। বিকল্প পথ হিসেবে সৌদি আরবের ইয়ানবু এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দর থেকে জ্বালানি তেল পরিবহন করে আনা হচ্ছে। বিকল্প পথে আনা জ্বালানি তেল দিয়েই এখন সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা হচ্ছে।
নর্ডিক পোলাক্স রাস তানুরা বন্দরে তেলবোঝাই করে ১ মার্চ। এরপর থেকে সেখানেই আটকে ছিল। দীর্ঘ সময় আটকে থাকায় বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক স্পষ্ট করেন, দীর্ঘ কূটনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রচেষ্টায় আমরা তেলসহ জাহাজটি দেশে আনছি। তবে এত দিন জাহাজটি অলস বসে থাকার কারণে যে বিপুল ডেমারেজ বা অতিরিক্ত খরচ হয়েছে, তা বিএসসি কিংবা বিপিসি বহন করবে না; এই ব্যয় চুক্তি অনুযায়ী সরবরাহকারী সংস্থাই বহন করবে। আর হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হলেই কেবল আমরা ভবিষ্যতে আবার এই নিয়মিত রুটে তেল আনব।