চট্টগ্রাম মহানগরের পাঁচলাইশে ছয় মামলার আসামী সন্ত্রাসী এমরানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সিএমপির পাঁচলাইশ থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবু ছালেক সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে গতকাল শুক্রবার সকাল ৭টায় হাদুমাঝি পাড়ার নিজ বাড়ী থেকে তাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে ৬টি মামলা রয়েছে।
মামলাসূত্রে জানা যায়, পাঁচলাইশ থানা বিএনপির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক মনির আহমেদ চৌধুরীর বাড়ীর উঠানে স্বেচ্ছাসেবক দলের মিটিং চলাকালে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তোসাদ্দেক নূর চৌধুরী তপুর নেতৃত্বে হামলা চালিয়ে নেতাকর্মীদের অনেককে গুরুতর আহত করে বাড়ীতে ব্যাপক লুটপাট চালায়। উক্ত ঘটনায় ফরহাদ আজাদ বাদী হয়ে নূরুল আজিম রনিকে প্রধান আসামী করে এমরানসহ ৪৯ জনের নাম উল্লেখ করে ৫০/৬০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা (নং- ২২) দায়ের করেন।
অন্যদিকে সাংবাদিক ও ব্যবসায়ী নূরুল কবিরের নিকট দাবীকৃত ৫ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে গত ১ জুন নূরুল কবিরকে তুলে নিয়ে সোহেলের গ্যারেজে আটকে রেখে মারধর এবং মোটরসাইকেল ভাংচুর করে নগদ ১ লক্ষ ৭ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে চাঁদা না পেলে পুনরায় অপহরণের হুমকি দেয়। উক্ত ঘটনার পরদিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে এমরান তার দলবল নিয়ে এসে নূরুল কবিরকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে নগদ ৩৫ হাজার টাকা ও একটি স্মার্ট মোবাইল ফোন হাতিয়ে নেয়। এসময় তার স্ত্রীকেও ব্যাপক মারধর করে। উক্ত ঘটনায় পাঁচলাইশ থানায় এমরনাসহ কয়েকজনকে আসামী করে পৃথক দুটি মামলা (নং-৪, নং-২৩) হয়। জানা যায়, পাঁচলাইশ থানাধীন হাদুমাঝি পাড়ার মৃত জহির আহমদের ছেলে এমরান যুবলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় থেকে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন।
আওয়ামীলীগ সরকারের সময় এলাকায় বিএনপি নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলায় হয়রানি করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিতেন। এলাকায় কেউ বাড়ীঘর নির্মাণ করলে তাকে বাধ্য করে বাড়তি টাকায় ইট-বালি সাপ্লাই দিতেন, অন্যথায় মোটা অংকের চাঁদা আদায় করতেন। মাদক-জুয়ার আসর পরিচালনা করে এলাকার যুবসমাজকে ধ্বংসের মূলহোতা এই এমরান নিয়ন্ত্রণ করেন একটি কিশোর গ্যাং। এই গ্যাং দিয়ে চুরি, ডাকাতি, মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপকর্ম পরিচালনা করেন।