বন্যায় কৃষিখাতের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকার কৃষকদের পাশে দাঁড়াবে : অর্থমন্ত্রী

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন,জরুরি ত্রাণ বিতরণ সাময়িক পদক্ষেপ মাত্র; সরকারের আসল লক্ষ্য বন্যা-পরবর্তী টেকসই পুনর্বাসন এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলা করা। পুনর্বাসন শেষ না হওয়া পর্যন্ত সরকারের এই তৎপরতা মাঠপর্যায়ে অব্যাহত থাকবে।

শুক্রবার সকালে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেছেন।চট্টগ্রামের সাম্প্রতিক বন্যায় প্রায় সাত লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। পতেঙ্গার কর্মসূচি শেষে অর্থমন্ত্রী চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও বাঁশখালীতে গিয়ে দিনভর বন্যার্তদের মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন।

অর্থমন্ত্রী তার বক্তব্যে বন্যা-পরবর্তী প্রস্তুতি ও পুনর্বাসন পরিকল্পনাকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেন। তিনি বলেছেন, ত্রাণ কার্যক্রমের পরবর্তী ধাপ হিসেবে আমরা দ্রুতই মূল পুনর্বাসন কাজ শুরু করতে যাচ্ছি। বন্যায় দক্ষিণ চট্টগ্রামের কৃষিখাতে যে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, তা পুষিয়ে নিতে সরকার কৃষকদের পাশে দাঁড়াবে।

যাদের নতুন করে বীজ, সার বা অন্যান্য কৃষি উপকরণ প্রয়োজন, তাদের তালিকা করে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে তা সরবরাহ করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। ঘরবাড়ি হারানো ও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে স্বাবলম্বী করতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ চলছে।

বন্যা নেমে যাওয়ার পর সাধারণত বিভিন্ন পানিবাহিত ও সংক্রামক রোগ-ব্যাধির প্রকোপ দেখা দেয়। এই স্বাস্থ্যঝুঁকি প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বললেন, বন্যা-পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দিতে চিকিৎসা দল ও স্বাস্থ্য বিভাগ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। দুর্গত এলাকাগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ, স্যালাইন এবং বিশুদ্ধ খাবার পানির পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ইতিমধ্যে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

যেকোনো ধরনের সংক্রামক রোগ বা মহামারি দেখা দিলে তা তাৎক্ষণিকভাবে মোকাবিলায় সরকার সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত আছে উল্লেখ করে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ইনশাআল্লাহ, চিন্তার কোনো কারণ নেই। সর্বপ্রকার প্রস্তুতি নেওয়া আছে এবং কাজ অব্যাহত আছে। যতক্ষণ পর্যন্ত পুনর্বাসনের কাজ শেষ না হয়, ততক্ষণ সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের কার্যক্রম চলমান থাকবে।

ক্ষয়ক্ষতি ও চলমান ত্রাণ কার্যক্রমের পরিসংখ্যান তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী জানান, চট্টগ্রামে এবারের বন্যায় প্রায় সাত লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ইতিমধ্যে এক লাখ মানুষের কাছে জরুরি সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৪০ হাজার পরিবারকে চাল দেওয়া হয়েছে এবং ৭৫ হাজার পরিবারকে শুকনা চাল, ডালসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ঘরবাড়ি জলমগ্ন থাকায় রান্না করতে না পারা প্রায় ৪০ হাজার মানুষকে সরাসরি রান্না করা খাবার খাওয়ানো হয়েছে। এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অর্থমন্ত্রীর দিনব্যাপী এই সফর ও ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচিতে তার সঙ্গে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যবৃন্দসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

সাংবাদিকের কাজ ক্ষমতাবানকে প্রশ্ন করা -কাদের গনি চৌধুরী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী বলেছেন- রাষ্ট্র ও ক্ষমতাবানকে প্রশ্ন করা এবং তাদের জবাবদিহিতার মধ্যে রাখা সাংবাদিকতার কাজ। এটি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে, জনগণের অধিকার রক্ষা করে এবং সমাজে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে সাহায্য করে।২ আগস্ট রোববার দুপুরে গাজীপুর জেলা প্রশাসন ও ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ আয়োজিত সাংবাদিক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তিনি এসব বলেন।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও স্থানীয়দের সংঘর্ষে ২০ জন আহত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাজধানীতে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষের ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেনের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। নেপচুন এক্সেসরিজ নামে একটি গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানের পক্ষ হয়ে ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা এ হামলা চালায়।ডিএনসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন এক জরুরি বার্তায় গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।

জানা যায়, উত্তর সিটির ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তরখান রাজাবাড়ি সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।ডিএনসিসির তথ্য অনুযায়ী, হামলায় চারজন গুরুতর আহতসহ ১৫ থেকে ২০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী আহত হন। গুরুতর আহত চারজনকে উত্তরা বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আহমেদ পদত্যাগ করেছেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার ২৪ জুলাই বিকেলে তিনি গণমাধ্যমকে নিজেই পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র এরই মধ্যে পৌঁছানো হয়েছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।

কয়েক দিন ধরেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছিল। বঙ্গভবন সূত্রে জাবা যায়, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন এবং পদত্যাগপত্রও প্রস্তুত করেছেন। তবে স্পিকার বিদেশ সফরে থাকায় তা জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। দায়িত্ব পালনকালে তিনি সময়ের ব্যবধানে তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন মহল থেকে তার পদত্যাগের দাবি ওঠে। তখন তিনি পদত্যাগ করেনননি। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালিত হয়। তবে সংসদ ভেঙে দেওয়া, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন।

২২ তম এরাষ্ট্রপতির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলো। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন জেলা ও দায়রা জজ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাবনা জেলার স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন এবং ১৯৭১ সালে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ