আত্মগোপনের পর গ্রেফতার সাবেক মেয়র ও উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম হাসনাইন রাসেল ও বশির আহমেদ

প্রভাষক গিয়াস উদ্দিন সরদার, বিশেষ প্রতিনিধি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিনিধিঃ দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর পাবনা-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোঃ মকবুল হোসেনের বড় ছেলে ভাঙ্গুড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র ও ভাঙ্গুড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম হাসনাইন রাসেল ও উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক বশির আহমেদ কে গ্রেফতার করেছে পাবনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভাঙ্গুড়া থানার মামলা নং-০৪, তারিখ ১৩/০৫/২০২৫, বিস্ফোরক দ্রব্য আইন ১৯০৮-এর ৩/৫/৬ ধারায় দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত আসামী হিসেবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত কার্যক্রম চলছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ঢাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে তাদের আটক করা হয়।

পাবনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশিদুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা দুই আসামিকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে চলমান মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

ভাঙ্গুড়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুব্রত কুমার জানান, গ্রেফতারকৃত দুইজন বর্তমানে পাবনা জেলা গোয়েন্দা কার্যালয়ে রয়েছেন। প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম শেষে তাদের আদালতে হাজির করা হবে এবং আদালতের নির্দেশক্রমে পাবনা জেলা কারাগারে পাঠানো হবে।

ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাকিউল আজম গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “গোলাম হাসনাইন রাসেল ও বশির আহমেদ কে ঢাকা থেকে পাবনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তারা বর্তমানে জেলা গোয়েন্দা কার্যালয়ে রয়েছেন। ভাঙ্গুড়া থানার মামলা নং-০৪, তারিখ ১৩/০৫/২০২৫, বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের ৩/৫/৬ ধারার মামলায় তাদের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতে সোপর্দ করা হবে।”

এদিকে, গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ভাঙ্গুড়া সহ আশপাশের এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের মতে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় গোলাম হাসনাইন রাসেল ভাঙ্গুড়ার রাজনীতিতে প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করেছিলেন। তবে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে যে অভিযোগগুলো উত্থাপিত হয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে আদালতের কোনো চূড়ান্ত রায়ের তথ্য এই প্রতিবেদকের কাছে নেই।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে তাদের নিয়ে নানা ধরনের দাবি ও আলোচনা চললেও সেসব তথ্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে গ্রেফতারকৃতদের পরিবার, আইনজীবী বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কোনো বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

পুলিশ জানিয়েছে, অষ্টমনিষা বিস্ফোরক মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে মামলার বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করা সমীচীন নয় বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বলাৎকার করে লক্ষ টাকা জরিমানা গুনতে রাজি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাজিরা উপজেলায় ১২ বছর বয়সী এক শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে ইলিয়াস খানের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর স্থানীয় এক জামায়াত নেতাসহ মাতব্বরদের নেতৃত্বে সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে এক লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি রফা-দফা বা আপস-মীমাংসা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

গত  বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে জয়নগর আয়তুন্নেছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের দ্বিতীয় তলায় নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে শিশুটিকে নির্যাতন করা হয়। প্রাথমিকভাবে ভুক্তভোগীর বাবা সুবিচারের দাবিতে কিছু কঠোর শর্ত দেয়।

১২ আগস্ট বুধবার সন্ধ্যায় জয়নগর মোসলেম উদ্দিন খান ডিগ্রি কলেজ মাঠে সালিশ বৈঠক বসে। সেখানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও মাতব্বরদের উপস্থিতিতে এক লাখ টাকার বিনিময়ে মামলা না করার শর্তে ভুক্তভোগীর বাবার কাছ থেকে লিখিত কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ অভিযোগ উঠে।
এ বিষয়ে ওই শিশুর বাবা গণমাধ্যমকে জানান, আমি প্রথমে কোনো আর্থিক আপসে রাজি ছিলাম না, সঠিক বিচার চেয়েছিলাম। তবে স্থানীয় মাতব্বর ও আমার আত্মীয়দের চাপে এক লাখ টাকার বিনিময়ে লিখিত কাগজে স্বাক্ষর দিতে বাধ্য হই।

সন্ত্রাসী বুইশ্যার ৭ সহযোগী অস্ত্রসহ গ্রেফতার, রয়েছে ১৬ মামলার আসামিও

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরীতে অভিযান চালিয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারি শহিদুল ইসলাম বুইশ্যার ৭ সহযোগীকে দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার (১২ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ভোর ৫টা ২৫ মিনিটের দিকে চান্দগাঁও থানা এলাকার পশ্চিম ফরিদার পাড়া বালুরমাঠ সাংবাদিক কলোনির পেছনের একটি ফাঁকা জায়গা থেকে তাদের গ্রেফতার করে চান্দগাঁও থানা পুলিশ। এরা হলেন- মো. ইব্রাহিম ইদ্রিস ওরফে ইদ্রিস (৩০), মো. আজম উদ্দিন (২১), মো. সাজ্জাদ হোসেন (২৬), মো. রাকিব (২২), মো. হারুন (৩১), মো. মোমিন হোসেন ওরফে বাচ্ছু (৩৫) এবং মো. রাসেল (২৮)।

পুলিশ জানায়, অভিযানকালে তাদের কাছ থেকে একটি কাঠের হাতলযুক্ত ২৭ ইঞ্চি লম্বা লোহার রামদা, একটি বিশেষ কায়দায় তৈরি স্টিলের পাইপ ও লোহার ফলাযুক্ত কুড়াল, একটি স্টিলের হাতলযুক্ত চাইনিজ কুড়াল এবং একটি কাঠের হাতলযুক্ত ১৬ ইঞ্চি লম্বা ছুরি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেফতার আসামিদের মধ্যে মো. ইব্রাহিম ইদ্রিসের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও পেনাল কোডসহ বিভিন্ন অপরাধে অন্তত ১৬টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে চান্দগাঁও থানায় ১৪টি এবং পাঁচলাইশ মডেল থানায় ২টি মামলা বিচারাধীন বা তদন্তাধীন। এছাড়া অন্য আসামি মো. রাকিবের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দুটি মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় চান্দগাঁও থানায় একটি ডাকাতি প্রস্তুতির মামলা রুজু করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আলোচিত খবর

মির্জা ফখরুল পেলেন রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মির্জা ফখরুল পেলেন রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে রাষ্ট্রপতি পদের মনোনয়নপত্র নিচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ