দুর্নীতির ক্ষেত্রে আমার অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের বিকল্প নেই। অন্যায় বা অনিয়ম কোনো না কোনো সময় প্রকাশ পায়। তারা স্বচ্ছতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানাই। বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে জেলা পরিষদের কর্মসম্পাদনে সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে গঠিত কমিটির সভায় সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক মো. মাহবুবের রহমান শামীম এসব কথা বলেন।
তিনি বলেছেন, সম্প্রতি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার মানুষের পুনর্বাসনে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হবে। বাঁশখালী, সাতকানিয়া, চন্দনাইশসহ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে পুনর্বাসনে কীভাবে সহায়তা করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা চলছে। প্রয়োজনীয় সহযোগিতার জন্য সরকারের উচ্চপর্যায়েও বিষয়টি তুলে ধরা হবে। জেলা পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ইউএনওদের দেওয়া প্রস্তাবগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।
সভার শুরুতে নির্ধারিত সময়ের কিছু পরে সভা শুরু হওয়ায় ভবিষ্যতে সময়ানুবর্তিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, দূর-দূরান্ত থেকে কর্মকর্তারা সভায় অংশ নিতে আসেন। তাই নির্ধারিত সময়েই সভা শুরু করার বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। জেলা পরিষদের দায়িত্ব পালনে প্রশাসনের সহযোগিতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ইউএনওরা মাঠ প্রশাসনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা।
তাঁরা জনগণের সবচেয়ে কাছে থেকে কাজ করেন।
তিনি আরও বলেন, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় থাকলে স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। একইসঙ্গে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ইউএনওদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ারও আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, একজন ইউএনও চাইলে মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারেন। স্থানীয় সমস্যা সমাধান, দুর্যোগ মোকাবিলা কিংবা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে তাঁদের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করলে উন্নয়নের সুফল দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছাবে।
চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী রওশন ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মো.ইখতিয়ার উদ্দীন আরফাত, সহকারী প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) এস.এম খালেকুজ্জামান, প্রসানিক কর্মকর্তা আনিছ উদ্দিনসহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, স্থানীয় সরকার, সমাজ সেবাসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভার শেষ দিকে উপস্থিত কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করেই জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে চাই। জেলা পরিষদকে একটি সমন্বিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। যেকোনো প্রয়োজন বা সমস্যায় আমাকে সরাসরি জানাতে পারেন। আমরা সবাই একই পরিবারের সদস্য। পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে জনগণের কল্যাণে কাজ করতে চাই। সভায় যেসব সমস্যা ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।