বকেয়া আদায়ে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিলেও দীর্ঘদিন ধরে টাকা উদ্ধার করতে না পারায় আর্থিক চাপে পড়েছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। চট্টগ্রাম ওয়াসার ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাটির মোট বকেয়া পাওনার পরিমাণ ২৪০ কোটি ৬৭ লাখ ১৩ হাজার ৬৬৫ টাকা। এর মধ্যে সরকারি সংস্থাগুলোর কাছেই পাওনা ৬৬ কোটি ৮১ লাখ টাকা। এছাড়া বেসরকারি খাতের গ্রাহকদের পাওনা ১৭৩ কোটি ৮৫ লাখ ৬৬ হাজার ৩২৭ টাকা।
ওয়াসা সূত্র জানায়, সংস্থাটির সচল সংযোগ থাকা গ্রাহকদের কাছে পাওনা ২৩২ কোটি ৯৬ লাখ ১৬ হাজার ৩৩৫ টাকা এবং সংযোগ বিচ্ছিন্ন গ্রাহকদের কাছে পাওনা রয়েছে ৭ কোটি ৭০ লাখ ৯৭ হাজার ৩৩০ টাকা।
জানা গেছে, বেসরকারি খাতের বড় বকেয়াধারীদের মধ্যে এশিয়ান পেপার মিলসের মোহাম্মদ আবদুস সালামের কাছে ওয়াসার পাওনা ৩৮ লাখ ১৪ হাজার ২১৬ টাকা।
অবসরপ্রাপ্ত মেজর আব্দুল মান্নানের মালিকানাধীন গোল্ডেন হরাইজন লিমিটেড ও সানফ্লাওয়ার গার্মেন্টস লিমিটেডের কাছে মোট বকেয়া ৬৬ লাখ ২২ হাজার ৪০৮ টাকা। এছাড়া সি অ্যান্ড এ টেক্সটাইল লিমিটেডের কাছে পাওনা রয়েছে ৩০ লাখ ৬৮ হাজার ৩৫৬ টাকা।
ওয়াসার প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রুমন দে বলেন, বকেয়া আদায়ে ওয়াসা কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং শুরু হয়েছে। এছাড়া সব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে নোটিশ পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে।
আশা করছি আগামী সপ্তাহের মধ্যে গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন জোনে ভাগ করে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে ফোনে যোগাযোগ করে তাদের বকেয়া অর্থের কথা বলা হয়েছে। বকেয়া আদায় না হলে ওয়াসা কর্তৃপক্ষ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার মত কঠোর অবস্থানে যাবে। এরই মধ্যে সংযোগ বিচ্ছিন্নকারী টিমও গঠন করা হয়েছে।
ওয়াসা সূত্র জানায়, সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪২টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কাছে ওয়াসার মোট পাওনা প্রায় ২৭ কোটি ৯৭ লাখ ৭৭ হাজার ৫৩৫ টাকা। এছাড়া পুলিশ বিভাগের দুইটি প্রতিষ্ঠানের কাছে ৩ কোটি ৬৩ লাখ ১২ হাজার ৭৫৩ টাকা,
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কাছে ২ কোটি ১৭ লাখ ৯২ হাজার ৮১৩ টাকা, সড়ক ও জনপথ (আরঅ্যান্ডএইচ) বিভাগের কাছে ২ কোটি ৬ লাখ ৮৪ হাজার ৩৭১ টাকা, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) কাছে ১ কোটি ১৭ লাখ ৪০ হাজার ৯৬২ টাকা, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতরে কাছে ৮১ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৫ টাকা, জনপ্রশাসন বিভাগে কাছে ৬২ লাখ ৯৮ হাজার ৬৮১ টাকা, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষের কার্যালয়ের কাছে ৪৭ লাখ ৯৯ হাজার ৫৬০ টাকা, চট্টগ্রাম
মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের কার্যালয়ের কাছে ৪৪ লাখ ১২ হাজার ৩১২ টাকা, স্থানীয় সরকার বিভাগের (এলজিআরডি) কাছে ৪২ লাখ ৪৮ হাজার ৩৭৬ টাকা, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) কাছে ৪১ লাখ ৬ হাজার ৬৬৫ টাকা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে ৪০ লাখ ৭৮ হাজার ৪৯ টাকা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের কাছে ৪০ লাখ ১৬ হাজার ৪৯৪ টাকা, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের কাছে ৩৪ লাখ ৮৩ হাজার ৬৯৪ টাকা, হিসাব বিভাগের কাছে ২৮ লাখ ২ হাজার ১৫৭ টাকা, পানি সম্পদ বিভাগের কাছে ২৪ লাখ ৭৭ হাজার ৮৭২ টাকা, শিক্ষা বোর্ডর কাছে ২৪ লাখ ৩২ হাজার ২৯১ টাকা,
কৃষি অফিসের কাছে ১৮ লাখ ৮৬ হাজার ৪২২ টাকা, প্রতিরক্ষা বিভাগের কাছে ১৮ লাখ ৬১ হাজার ২৬৯ টাকা, নৌপরিবহন দফতরের কাছে ১৭ লাখ ৭৬ হাজার ৭৩০ টাকা, চট্টগ্রাম সরকারি কলেজের কাছে ১৩ লাখ ৫০ হাজার ৮৮০ টাকা, খাদ্য বিভাগের কাছে ৯ লাখ ৮৯ হাজার ৪৩ টাকা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ দফতরের কাছে ৮ লাখ ৪৮ হাজার ২৯৭ টাকা, সমাজকল্যাণ কার্যালয়ের কাছে ৮ লাখ ৩৩ হাজার ৩০৫ টাকা, টিচার্স ট্রেনিং কলেজের কাছে ৮ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৮ টাকা, শ্রম ও কর্মসংস্থান দফতরের কাছে ৬ লাখ ৮৪ হাজার ৬১৬ টাকা,
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিভাগের কাছে ৬ লাখ ৪৫ হাজার ৭৩৬ টাকা, ধর্ম বিভাগের কাছে ৬ লাখ ১৪ হাজার ৩৮৩ টাকা, সড়ক পরিবহন ও সেতু বিভাগের কাছে ২ লাখ ৮৯ হাজার ৭৭০ টাকা, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের কাছে ২ লাখ ২৬ হাজার ৮১১ টাকা, বাণিজ্য বিভাগের কাছে ২ লাখ ২ হাজার ৯৭৫ টাকা, চট্টগ্রাম বন্দরের কাছে ১ লাখ ৮৯ হাজার ৭০৮ টাকা, যুব ও ক্রীড়া বিভাগের কাছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ১১৮ টাকা, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কাছে ৬৫ হাজার ৯৬৪ টাকা, তথ্য বিভাগের কাছে ৪৭ হাজার ৮০০ টাকা, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের কাছে ৪৩ হাজার ৩৩১ টাকা, বস্ত্র ও পাট বিভাগের কাছে ৩৯ হাজার ৮৬২ টাকা এবং সাংস্কৃতিক বিষয়ক বিভাগের কাছে ৪ হাজার ৩৩০ টাকা বকেয়া রয়েছে।
চ
ট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম মোহাম্মদ জানে আলম বলেন, পানির উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও আমরা নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিপুল পরিমাণ বকেয়া নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়ন কার্যক্রমে প্রভাব ফেলছে। তাই বকেয়া আদায়ে আমরা কঠোর অবস্থানে যাচ্ছি।