চট্টগ্রাম মহানগরীতে দুর্র্ধষ মাদক কারবারি আলমগীরকে গ্রেফতার অভিযান চালাতে গিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় দুই উপপরিদর্শক (এসআই)সহ সাত পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন ডবলমুরিং থানাধীন দেওয়ানহাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মহসিন উদ্দিন রুবেল ও আগ্রাবাদ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মমিনুল ইসলামসহ সাত পুলিশ সদস্য।
মহানগরীর খুলশী আমবাগান এলাকায় এই ঘচনায় আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গত শুক্রবার (২৫ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে খুলশী আমবাগান রেললাইনসংলগ্ন তরুণ সংঘ মাঠ এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, ওই রাত ৮টার দিকে এসআই মহসিন উদ্দিন রুবেল ও এসআই মমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল আমবাগান এলাকায় মাদক কারবারি আলমগীরকে গ্রেফতারে অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশের ওপর আকস্মিক হামলা চালায় একদল কিশোর গ্যাং সদস্য।
পরে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য ও স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে পাঠায়। পুলিশের দাবি, খুলশী ঝর্ণাপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত আলমগীর। মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে রাখতে আলমগীর একাধিক কিশোর গ্যাং গ্রুপ পরিচালনা করে বলে অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র প্রদর্শন ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আলমগীরের বিরুদ্ধে ১৭ টির বেশি মামলা রয়েছে। একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগের পর জামিনে বেরিয়ে ফের মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়ে সে। এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজন মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে একত্রিত হয়ে সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করার চেষ্টা করেন। পরে আলমগীরের অনুসারীদের সঙ্গে স্থানীয়দের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয়রা জানান, আলমগীরের পরিবারের একাধিক সদস্য মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তার মা রেনু বেগম ও ভাই জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধেও মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।এ বিষয়ে ডবলমুরিং থানার ওসি মো. শাহীনূর আলম বলেন, আলমগীরকে গ্রেফতারে শতভাগ চেষ্টা চলছে। সে ঝর্ণাপাড়া এলাকায় থাকে। ওই এলাকাটি ডবলমুরিং থানার আওতাধীন।