সৌদি আরব থেকে উল্টোপথে আসছে ক্রুড অয়েল ভর্তি জাহাজ

মূল ভাড়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত খরচ হবে ৫৩ লাখ ৯৬ হাজার ৭৩৩ ডলার

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টনের বেশি ক্রুড অয়েল নিয়ে ‘এমটি নিনেমিয়া’ আফ্রিকা ঘুরে চট্টগ্রাম আসছে।মধ্যপ্রাচ্যে ‘হুতি’ আতঙ্কে জাহাজটি এভাবে ঘুরে আসছে বলে জানা গেছে। জাহাজটিকে পার হতে হচ্ছে সুয়েজ খাল, জিব্রাল্টার প্রণালি, উত্তমাশা অন্তরীপ।

জানা গেছে, উল্টোপথে ক্রুড অয়েল নিয়ে আসায় মূল ভাড়ার পাশাপাশি ৫৩ লাখ ৯৬ হাজার ৭৩৩ ডলার অতিরিক্ত খরচের কথা জানিয়ে গত ২৩ জুলাই বিপিসিকে চিঠি দিয়েছে বিএসসি। জি টু জি পদ্ধতিতে সৌদি আরব থেকে অ্যারাবিয়ান লাইট ক্রুড ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে মারবান ক্রুড আমদানি করে বাংলাদেশ। এর মধ্যে সুয়েজ খালের টোল ৫ লাখ ২০ হাজার ডলার।

সূত্র জানায়, আগে যেখানে ইয়ানবু থেকে চট্টগ্রাম আসতে ১৩-১৫ দিন লাগত এখন লাগবে ৪৫ দিন। ৯ হাজার নটিক্যাল মাইল (১ নটিক্যাল মাইল ১ দশমিক ৮৫ কিলোমিটার) বেশি পাড়ি দেওয়ায় পরিবহন খরচ বাড়ছে সাড়ে তিন থেকে সাড়ে চার মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৪৮-৫০ কোটি টাকা)।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের অপরিশোধিত তেল (ক্রুড) পরিবহনের দায়িত্বে থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক বলেন, শিপিং এজেন্ট উল্টো পথে জ্বালানি পরিবহনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।তারা এর জন্য বাড়তি খরচের হিসাব দিয়েছে। এটা দর কষাকষি করে ঠিক করা হবে।যুদ্ধকালীন পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাটাই মুখ্য।

বিএসসি সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ জুলাই এমটি নিনেমিয়া ইয়ানবু বন্দর থেকে ক্রুড অয়েল লোড করে যাত্রা শুরু করেছে। বর্তমানে সুয়েজ খাল অতিক্রম করে জিব্রাল্টার প্রণালির দিকে যাচ্ছে। দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ অব গুড হোপ হয়ে সেপ্টেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছানোর আশা করা হচ্ছে। তারপর শুরু হবে ছোট জাহাজে বহির্নোঙর থেকে ক্রুড অয়েল খালাস করে (লাইটারিং) পতেঙ্গা ইস্টার্ন রিফাইনারিতে নিয়ে আসার কাজ। ক্রুড অয়েল পরিশোধন করে ডিজেল, এলপিজি, ফার্নেস অয়েল, কেরোসিন, এমএস অকটেন ইত্যাদি পাওয়া যাবে।

জানা গেছে, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন রিফাইনারি বছরে ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিশোধন করে, যা দেশের বার্ষিক ৭২ লাখ টন চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ পূরণ করে। দেশের চাহিদা মেটাতে ৯২ শতাংশ জ্বালানি তেল আমদানি করতে হয়। বাকি ৮ শতাংশ স্থানীয় উৎস ও কনডেনসেট প্রক্রিয়াজাত করে পাওয়া যায়। জ্বালানি চাহিদার তালিকায় ডিজেল শীর্ষে রয়েছে। এরপর রয়েছে ফার্নেস অয়েল, পেট্রোল, অকটেন, কেরোসিন এবং প্লেন চলাচলে ব্যবহৃত জেট ফুয়েল।

এদিকে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তর স্বার্থে উল্টো পথে জাহাজ আনার সিদ্ধান্ত সঠিক বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএমওএ) সভাপতি ক্যাপ্টেন মো. আনাম চৌধুরী। তিনি বলেন, হুতিরা যেভাবে সৌদি আরবে ড্রোন হামলা করছে তার একটি যদি ১ লাখ টনের বেশি ক্রুড অয়েলের জাহাজে পড়ে তাহলে যে বিস্ফোরণ হবে তা ভয়াবহ। জাহাজ পুড়ে ডুবে যাবে, সব নাবিক মারা যাবে, তেল সাগরে ছড়িয়ে পড়বে, পরিবেশ দূষণ হবে, জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হবে। তার চেয়ে ইউরোপের জাহাজগুলোর মতো উল্টোপথে আফ্রিকা হয়ে আসাটা সঠিক সিদ্ধান্ত। যদিও এর জন্য সুয়েজ খালের চার্জ, জাহাজের জ্বালানি, বাংকারিং ইত্যাদি খাতে খরচ বাড়বে। এটা বহনের সক্ষমতা বিপিসি বা সরকারের আছে কিনা, ওই জ্বালানি পরিশোধনের পর লিটার প্রতি খরচ কত দাঁড়াবে সেগুলো বিবেচনায় নিতে হবে।

বিএসসি সূত্র জানায়, ২৪৯ দশমিক ৯৫ মিটার লম্বা ‘এমটি নিনেমিয়া’ বাংলাদেশের জন্য সৌভাগ্যের প্রতীক। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় বিপিসির ক্রুড অয়েল বোঝাই জাহাজ আটকা পড়েছিল। গত ১২ এপ্রিল রাতে মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় ইস্টার্ন রিফাইনারির ক্রুড অয়েল ডিস্টিলেশন ইউনিট সাময়িকভাবে বন্ধ করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। তারপর হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে প্রথম যে জাহাজটি ক্রুড নিয়ে গত ৬ মে দেশে এসেছিল সেটি এমটি নিনেমিয়া। এরপর ২২ মে আমিরাতের ফুজাইরা বন্দর থেকে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল (ক্রুড) নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছে ‘এমটি ফসিল। এমটি নিনেমিয়া ১৭ জুন আরেকটি চালান চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে নিয়ে আসে। ইতিমধ্যে সৌদি আরবের রাসতানুরা বন্দর থেকে ক্রুড অয়েল বোঝাই করে আসার পথে যুদ্ধের কারণে ৩ মার্চ আটকা পড়া ‘এমটি নর্ডিক পোলাক্স’ জাহাজটিও দেশে পৌঁছেছে। সব মিলে এখন ক্রুড অয়েলের সংকট নেই।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

এক কোটি ৬০ লাখ শিক্ষার্থী প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ড কাপ টুর্নামেন্টের সঙ্গে যুক্ত হবে : শিক্ষামন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দেশের প্রায় এক কোটি ৬০ লাখ শিক্ষার্থী প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ড কাপ টুর্নামেন্টের আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত হবে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের জুলাই বিপ্লব হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, তৃণমূল পর্যায় থেকে ক্রীড়ার ভিত্তি শক্ত করে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যেই আয়োজন করা হচ্ছে প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ড কাপ টুর্নামেন্ট। শিক্ষা ও খেলাধুলাকে সমন্বয় করে সুস্থ, দক্ষ ও মেধাবী প্রজন্ম গড়ে তোলাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলা সম্প্রসারণ এবং যুব সমাজকে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে এই আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া আমাদের অন্যতম লক্ষ্য।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের প্রাথমিক পর্যায়ের ২২ লাখ শিক্ষার্থী নিয়ে এর আগে বড় পরিসরে ক্রীড়া আয়োজন করা হয়েছে।এবার মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, মাদ্রাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে দেশব্যাপী এই প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হচ্ছে। দেশের প্রায় এক কোটি ৬০ লাখ শিক্ষার্থী এই আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত হবে।শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশে ১৯ হাজার ২২১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১ হাজার ৯৫৬টি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ৩ হাজার ৩৮০টি কলেজ, ৯ হাজার ২৯৬টি মাদ্রাসা এবং ৬৭৮টি কারিগরি প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীরা অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম থেকে একইদিনে একই সময়ে দেশের সব উপজেলায় এই টুর্নামেন্ট উদ্বোধন করা হবে। তবে চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতির কারণে পূর্বনির্ধারিত ৯ আগস্টের পরিবর্তে আগামী সেপ্টেম্বরের ৯ অথবা ১০ তারিখ উদ্বোধনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এসময় ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল খালেক প্রমুখ।

প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, একটি ভবন শক্ত করতে হলে যেমন এর ভিত্তি শক্ত করতে হয়, তেমনি ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নের জন্য যেতে হবে একদম তৃণমূল পর্যায়ে। প্রান্তিক পর্যায় থেকে প্রতিভা খুঁজে এনে তাদের বিকাশের সুযোগ তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য।তিনি বলেন, ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায় থেকে খেলোয়াড় তৈরি হলে দেশের ক্রীড়াঙ্গন আরও শক্তিশালী হবে।পাশাপাশি মাদক ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে তরুণ প্রজন্মকে দূরে রাখতে খেলাধুলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ক্রীড়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা স্কলারশিপের সুযোগ পায়।বাংলাদেশের মেধাবী খেলোয়াড়দেরও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করতে হবে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ড কাপ টুর্নামেন্টের জন্য লোগো, রিলস, মাসকট, স্লোগান ও থিম সং তৈরিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সাড়া পাওয়া গেছে। নির্বাচিত সেরাদের প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে পুরস্কৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, চট্টগ্রাম থেকে শুরু হওয়া এই আয়োজন দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন দিগন্তের সূচনা করবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ, সুস্থ ও আত্মবিশ্বাসী নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।

সিইআইজেডে বিনিয়োগ হবে ১ বিলিয়ন ডলার, চাকুরী করবে ১ লাখ লোক: অর্থমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ছবি-৩-৬
চট্টগ্রাম ব্যুরো: চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন-সিইআইজেডে ১ লাখের অধিক লোক চাকরি করবে বলে মন্তব্য করেছে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। একই সাথে অবকাঠামোগত সবকিছু হিসাব করলে ১ বিলিয়ন ডলারের ওপরে বিনিয়োগ হবে বলেও মন্তব্য করেন। সোমবার চট্টগ্রামের আনোয়ারায় সিইআইজেডের উন্নয়নকাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, আজ যে ইনভেস্টমেন্ট এখানে হয়েছে এটা হচ্ছে আগামী ২০৩৪ সালে আমাদের যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির যে কথা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এটা হচ্ছে একটি বড় পদক্ষেপ। আমরা এক কোটি চাকরির কথা বলেছি। এখানে ১ লাখের অধিক লোক চাকরি করবে। এখানে ৫০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের কথা বলা হয়েছে, কিন্তু আমি যদি অবকাঠামোগত সবকিছু নিই তাহলে এখানে ১ বিলিয়ন ডলারের ওপরে বিনিয়োগ হবে। এর অর্থনৈতিক প্রভাব শুধু আনোয়ারা নয়, পুরো অঞ্চলের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এখানে যত ধরনের সার্ভিসেস ডেভেলপমেন্ট হবে, এখানে সাপ্লাই চেইন ডেভেলপ হবে।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বাজেট অধিবেশনে আমি সাড়ে চার ঘণ্টা যে বক্তব্য দিয়েছি, তার মধ্যে সাড়ে চার পৃষ্ঠার বিষয় ছিল ডিরেগুলেশন বা নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ।

যাতে বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে আসেন এবং বিনিয়োগ করেন। বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য চব্বিশ ঘণ্টা, সপ্তাহে সাতদিন উন্মুক্ত। এটাই বর্তমান সরকারের ভাবনায় রয়েছে। তাই বিনিয়োগের জন্য যেকোনো কিছু, বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় যেকোনো পরিবর্তনই আমাদের ভাবনায় সর্বদা থাকে। সিঙ্গেল উইন্ডো সার্ভিসের কথাটা অনেকদিন ধরেই বলা হচ্ছে। বাংলাদেশে তা কখনো বাস্তবায়িতত হয়নি। কিন্তু আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে পারি, এবার আমরা বাংলাদেশে সিঙ্গেল উইন্ডো পরিষেবা চালু করতে যাচ্ছি। এটি কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, তা আমরা ইতোমধ্যেই ঠিক করে ফেলেছি।

বাংলাদেশে আপনাদের বিনিয়োগ এবং অর্জিত মুনাফা দেশে ফেরত পাঠানোও আমরা সহজ করে দিচ্ছি, যা অতীতে একটি বড় বাধা ছিল। তাই, যেকোনো বিনিয়োগকারীর জন্য বাংলাদেশে অর্জিত মুনাফা, এমনকি তাদের মূলধনও, যখন তারা বিনিয়োগ গুটিয়ে দেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেবেন, তখন যেন সহজেই দেশে ফেরত পাঠানো যায়, তার ব্যবস্থা আমরা অত্যন্ত সহজ করে দিচ্ছি।

পুঁজিবাজারকে সম্পূর্ণরূপে পুনর্গঠন করা হচ্ছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমি চাই চীনা বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হোক। আপনাদের অর্থ সংগ্রহের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, পাশাপাশি আপনাদের প্রকল্পে বাংলাদেশিদের অংশীদারিত্ব থাকবে। আর খরচ কমাতে, কেন প্রচলিত ব্যাংকগুলোতে গিয়ে উচ্চ সুদে ঋণ নেবেন? আমাদের পুঁজিবাজারের গতি এখন ঊর্ধ্বমুখী। এটি খুব ভালো করছে। আমার মনে হয় এখানে অনেক দক্ষ লোকেরও প্রয়োজন হবে।

আর সেজন্য, আমি চীনের রাষ্ট্রদূতকে অনুরোধ করছি, আনোয়ারা বা চট্টগ্রামে একটি দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপনের চেষ্টা করুন, কারণ এটি শিল্পগুলোর জন্য চীনা বিনিয়োগ এবং স্থানীয় বিনিয়োগ উভয়েরই জোগানের উৎস হিসেবে কাজ করবে। এছাড়াও, এটি বিদেশে চাকরি খোঁজার বিষয়টিকেও অনেক সহজ করে দেবে। আমি জানি যে সারা চীনজুড়ে বড়, মাঝারি ও ছোট অনেক দক্ষতা কেন্দ্র রয়েছে। সুতরাং, সহযোগিতার ক্ষেত্রে এটিও আমাদের আরেকটি লক্ষ্য হবে।
বায়োডাইভার্সিটি রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা যে বিনিয়োগ করছি এখানে, এই বিনিয়োগের সাথে সাথে আমাদের চাকরি হবে, ব্যবসা হবে, আমাদের জিডিপি গ্রোথ হবে, আমাদের জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নতি হবে। সাথে সাথে আমাদের মাথায় রাখতে হবে আমাদের পরিবেশটা রক্ষা করতে হবে। আর এখানে যেটা শ্রমিকদের জন্য বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে এটা খুব ভালো খবর।

তাদের লিভিং স্ট্যান্ডার্ড আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বাংলাদেশে এখন শুধু ইন্ডাস্ট্রি না, ইন্ডাস্ট্রির সাথে সাথে আমাদের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানের কথা চিন্তা করতে হবে। তাদের লিভিং কনডিশন চিন্তা করতে হবে। সুতরাং আজকে আমরা ইনশাল্লাহ আমরা ওই জায়গায় যাচ্ছি। আমরা আজকে কল্যাণ রাষ্ট্রের দিকে যাচ্ছি। কারণ আমরা ওই জায়গায় পৌঁছেছি ইনশাল্লাহ। সাধারণ মানুষের কল্যাণ, শ্রমিকদের কল্যাণ সব মাথায় রেখে আমাদের বিনিয়োগ করতে হবে। পরিবেশের কথা মাথায় রাখতে হবে। আমাদের জীবন-জীবিকা, সবাই যদি বেঁচে থাকতে হয়, আমাদের বায়োডাইভার্সিটি যদি রক্ষা করতে হয়, এগুলো সব মাথায় রেখে আমাদেরকে বিনিয়োগ করতে হবে।

এছাড়া অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল (চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন-সিইআইজেড) বাংলাদেশে শিল্পায়ন এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, এই প্রকল্প কেবল একটি শিল্পাঞ্চল নয়, বরং বাংলাদেশ ও চীনের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব, পারস্পরিক আস্থা এবং কৌশলগত অংশীদারত্বের প্রতীক। এর মাধ্যমে শিল্প উৎপাদন, বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কর্ণফুলী নদীর পূর্ব তীরে আনোয়ারার এই ভূমিতে আজ শুধু একটি প্রকল্পের নির্মাণকাজের সূচনা হচ্ছে না, বাংলাদেশে শিল্প রূপান্তরের নতুন ইতিহাস রচিত হচ্ছে। দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা, দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) আওতায় গৃহীত উদ্যোগের বাস্তব প্রতিফলন হচ্ছে এই প্রকল্প।

সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) কাঠামোর আওতায় বাস্তবায়িত এই শিল্পাঞ্চল বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের একটি দীর্ঘমেয়াদি মডেল। ৫০ বছর মেয়াদি, যা আরও ৫০ বছর নবায়নের সুযোগসহ পরিচালিত হবে, এমন কনসেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে এটি পরিচালিত হবে।
দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগকারীদের জন্য নিরাপদ ও স্থিতিশীল পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রকল্পের প্রতিটি ধাপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা ও নির্বিঘ্ন কার্যক্রম পরিচালনায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালু করেছে। এর মাধ্যমে দ্রুত অনুমোদন, সহজে ইউটিলিটি সংযোগ এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহায়তা পাবেন বিনিয়োগকারীরা। সরকার জি-টু-জি চুক্তির আওতায় দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি সময়মতো, স্বচ্ছতা ও দক্ষতার সঙ্গে বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ। এই শিল্পাঞ্চল স্থানীয় মানুষের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে। এটি শুধু একটি শিল্পাঞ্চল নয়, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের সেতুবন্ধন হিসেবেও কাজ করবে। টেকসই শিল্পায়ন ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বক্তব্য রাখেন, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, সিইআইজেডের চেয়ারম্যান ওয়াং বেনচিয়ান, সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, আবু সুফিয়ান, সরওয়ার জামাল নিজাম, হুমাম কাদের চৌধুরী, চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক, চট্টগ্রাম কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এসএম সাইফুল আলম, এমএম. ইস্পাহানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান মির্জা সালমান ইস্পাহানি প্রমুখ।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আহমেদ পদত্যাগ করেছেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার ২৪ জুলাই বিকেলে তিনি গণমাধ্যমকে নিজেই পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র এরই মধ্যে পৌঁছানো হয়েছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।

কয়েক দিন ধরেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছিল। বঙ্গভবন সূত্রে জাবা যায়, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন এবং পদত্যাগপত্রও প্রস্তুত করেছেন। তবে স্পিকার বিদেশ সফরে থাকায় তা জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। দায়িত্ব পালনকালে তিনি সময়ের ব্যবধানে তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন মহল থেকে তার পদত্যাগের দাবি ওঠে। তখন তিনি পদত্যাগ করেনননি। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালিত হয়। তবে সংসদ ভেঙে দেওয়া, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন।

২২ তম এরাষ্ট্রপতির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলো। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন জেলা ও দায়রা জজ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাবনা জেলার স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন এবং ১৯৭১ সালে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ