কুষ্টিয়ার পদ্মায় গভীর রাতে গুলিবিদ্ধ পার্কমালিকের দেহরক্ষী

হৃদয় রায়হান কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় গভীর রাতে পদ্মা নদীতে স্পিডবোটে ঘুরতে গিয়ে শরিফুল ইসলাম ববি (৩৮) নামে এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। ঘটনার পর তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আনা হয়েছে।বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার গোলাপনগর এলাকার মনি পার্কসংলগ্ন পদ্মা নদীতে এ ঘটনা ঘটে। শুক্রবার বিকেল পাঁচটার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন নৌপুলিশের বিভাগীয় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

গুলিবিদ্ধ শরিফুল ইসলাম ববি বাহাদুরপুর ইউনিয়নের মসলেমপুর গ্রামের মৃত আলম খন্দকারের ছেলে। তিনি মনি পার্কের মালিক মনিরুল ইসলাম মনির ব্যক্তিগত সহযোগী ও দেহরক্ষী বলে জানা গেছে।পুলিশ জানায়, গভীর রাতে মনি পার্কের মালিক মনিরুল ইসলাম মনি চারজনকে সঙ্গে নিয়ে একটি স্পিডবোটের ট্রায়াল দিতে পদ্মা নদীতে যান। পার্ক এলাকা থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে পৌঁছালে অপর একটি স্পিডবোট থেকে তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। এতে শরিফুল ইসলাম ববি গুলিবিদ্ধ হন।

এছাড়াও এমভি বোল্ট ম্যারিনারে (রেসকিউ স্পিডবোট) থাকা মনিসহ আরো দুজন মারাত্মকভাবে আহত হন। জলযানটির গায়ে ভেতর ও বাইরে দুই দিকে অন্তত ৫৫ রাউন্ড গুলির চিহ্ন দেখা যায়। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে।ভেড়ামারা থানা, নৌপুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মোকারিমপুর ইউনিয়নের গোলাপনগর পদ্মা নদী ঘেঁষে অবস্থিত মনিপার্কের স্বত্বাধিকারী মনিরুল ইসলাম মনি কয়েক মাস আগে এমভি বোল্ট ম্যারিনার (স্পিডবোট) নামের উদ্ধারকারী জলযানটি কেনেন। শুক্রবার রাত তিনটার দিকে তিনি নদীতে শরিফুল ইসলাম ববি, বাদশা ঢালিম ও রেজা মোল্লাকে সঙ্গে নিয়ে জলযানটি চালিয়ে (ট্রায়াল) পার্কের উত্তর দিকে এক কিলোমিটার জায়গাজুড়ে বেড়াতে যান।

এ সময় দূর থেকে তিনটি স্পিডবোটে থাকা অন্তত ৩০ জনের একটি সশস্ত্র দল তাদের সেদিকে না যেতে সিগনাল দেয় এবং ফাঁকা গুলি করে। সিগনাল না মেনে মনি তার সহযোগীদের নিয়ে এগিয়ে যান। এ সময় অস্ত্রধারীরা জলযানটিকে ঘিরে গুলি করতে থাকেন। মারাত্মকভাবে গুলিবিদ্ধ হন শরিফুল ইসলাম ববি। সেখানে থাকা অন্য ৩ যাত্রীও আহত হন। আহতদের প্রাথমিকভাবে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের স্থানান্তর করা হয়।

ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মিজানুর রহমান বলেন, ভোর পৌনে ৫টার দিকে ববিকে হাসপাতালে আনা হয়। একটি গুলি কাঁধ বাঁ হাত ভেদ করে যায়। অন্যটি বুকের বাঁ পাশের উপরের অংশ দিয়ে বেরিয়ে যায়।কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. ইকবাল হাসান বলেন, হাসপাতালের ভর্তি রেজিস্টারে আহত ব্যক্তির নাম রয়েছে এবং জরুরি বিভাগের রেজিস্টারে আঘাতের কারণ হিসেবে ‘গানশট’ উল্লেখ করা হয়েছে।

জলযানের চালক বাদশা ঢালিম বলেন, প্রথমে এটি মনি স্যার চালাচ্ছিলেন। বৃষ্টির মত গুলি হতে দেখে আমি স্টিয়ারিং হাতে নিয়ে স্যারকে শুয়ে পড়তে বলি। এ সময় ভাঙা গ্লাসে স্যারের মাথা কেটে যায় এবং আমার পায়েও একটি গুলি লাগে।তিনি আরও জানান, তিনটি স্পিডবোটে থাকা নদীর সন্ত্রাসী বাহিনী আমাদের লক্ষ্য করে টানা এক ঘণ্টা ধরে প্রায় ১৫০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। কীভাবে বেঁচে ফিরেছি সেটি বর্ণনা করার মত নয়।

লক্ষীকুণ্ডা নৌফাঁড়ির ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম জানান, নৌযানটির বাইরে প্রায় ২৫টি এবং ভেতরে ৩০টি গুলির চিহ্ন রয়েছে। তবে ভেতর থেকে গুলি ছোড়া হয়েছে কিনা এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে থানায় এখনও অভিযোগ পড়েনি।ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে তারা অবগত হয়েছেন। পার্ক-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। কী কারণে গুলি ছোড়া হয়েছে এবং এর পেছনে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

রাজশাহী অঞ্চলের নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় আমি নিজেই স্পট পরিদর্শন করেছি। নৌযানটি শক্তিশালী হওয়ায় জানমালের ক্ষতি হয়নি। গুলির চিহ্ন এক্সপার্ট টিম পরীক্ষা নিরীক্ষা করার পর আরো কিছু বিষয় আমাদের সামনে স্পষ্ট হবে। বিষয়টিকে খুবই গুরুত্ব সহকারে নিচ্ছি।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

মার্গের সামনে নিহত ছাত্রী মাইশার মায়ের আহাজারি : ‘আমার মাইশা’ কই

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মার্গের সামনে মাইশার মা সালমা বেগম কেবল চিৎকার করে বারবার ডাকছিলেন মেয়েকে। ‘আমার মাইশা, আমার ঝি। কখনো আহাজারি, কেন এমন হলো!’ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে চমেক হাসপাতালে শুধু সালমা বেগম নয়, মাইশার সহপাঠী শিক্ষার্থীরাও কান্নায় ভেঙে পড়েন। তারা কোনোভাবেই মাইশার এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছিলেন না।

মাইশা আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্য বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারের ছাত্রী। বাড়ি মিরসরাইয়ের বড়তাকিয়া এলাকায়। সেখান থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া আসা করতেন। সকালে সীতাকুণ্ডের কুমিরায় ক্যাম্পাসের সামনে বাসচাপায় মারা যান। মাইশার সঙ্গে কিছুক্ষণ আগেও সহপাঠীদের কথা হয়েছিল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএ কো-অর্ডিনেটর জাহেদ হোসেন ভূঁইয়া জানিয়েছেন, ক্লাস বাতিল হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে ফিরে যাচ্ছিলেন মাইশা ও তার এক বান্ধবী। বাসের জন্য দাঁড়িয়েছিলেন তারা। তাদের তোলার জন্য একটি বাস দাঁড়ায়। ওই মুহূর্তে পাশ থেকে একটি লরি বাসটিকে ধাক্কা দেয়। এতে বাসটি উল্টে দুই শিক্ষার্থীর গায়ের ওপর পড়ে। হাসপাতালে মাইশাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

মাইশার বান্ধবী রাজিয়া বেগম সামান্য চোট পেয়েছেন। তার বাড়িও মিরসরাইয়ে। কিন্তু এমন ঘটনায় রাজিয়া হতভম্ব। তাকে ফেনীর বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মিরসরাই থেকে হাসপাতালে ছুটে আসেন মা সালমা বেগম। তিনি এসে দেখেন সব শেষ। এরপর আহাজারি করতে থাকেন সালমা বেগম।

কয়েক বছর আগে মাইশার বাবা মারা যান। দুই ভাইবোনের মধ্যে মাইশা বড়। নিজেকে যোগ্য করে গড়ে তোলার চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন। পড়ালেখা শেষ করে মা ও একমাত্র ভাইয়ের দায়িত্ব নেওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। সেই স্বপ্ন মুহূর্তেই ধূলিসাৎ হয়ে গেল একটি সড়ক দুর্ঘটনায়। মাইশার মা কীভাবে নিজেকে সান্ত্বনা দেবেন।

এদিকে, এই ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে শিক্ষার্থীদের অবরোধ চলছে। দুপুর দেড়টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অবরোধ চলছিল। শিক্ষার্থীরা পাঁচ দফা দাবি দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়য়ের ছাত্রী দূর্ঘটনায় মৃত্যু, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সড়ক দুর্ঘটনায় আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিরা এলাকা অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা।আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাস্তা পারাপারের সময় বিশ্ববিদ্যালয় ফটকের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় মাইশা মুশফিরাত (২১) নামে এক শিক্ষার্থী মারা যান। আহত হন তার দুই সহপাঠী।নিহত মাইশা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন। আহত দুজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর।
স্থানীয়দের বরাতে বারআউলিয়া হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট শফিউল আলম জানান, সকালে দুটি লরি পরস্পরকে ওভারটেক করতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারায়। একটি লরি ৮ নম্বর রুটের একটি লোকাল বাসকে ধাক্কা দিলে বাসটি উল্টে গিয়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা তিন শিক্ষার্থীকে চাপা দেয়। এতে তারা গুরুতর আহত হন। তাদেরকে চমেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে মাইশাকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান ইভা জানান, দুর্ঘটনার শিকার তিন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষ্ঠানে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য সকালে ক্যাম্পাসে আসছিলেন।সার্জেন্ট শফিউল জানিয়েছেন, এ ঘটনায় জড়িত দুটি লরি এবং বাস জব্দ করা হয়েছে।
চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই আলাউদ্দিন তালুকদার জানান, আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসক ওই শিক্ষার্থীকে মৃত ঘোষণা করেন।এদিকে দুর্ঘটনার খবর জানার পর প্রতিবাদে মহাসড়কের দুই পাশ অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। ফলে দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে অবরোধের কারণে উভয়পাশে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়েছে।

এ সময় পাঁচদফা দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। সেগুলো হলো ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চালককে গ্রেপ্তার, তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া, ডিপোর অবৈধ পার্কিং বন্ধ করা, ক্যাম্পাস ফটকে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ এবং ক্ষতিপূরণ দেওয়া।

আলোচিত খবর

১২ লাখ ৭০ হাজার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ আগামীকাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আগামীকাল শনিবার প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সারা দেশের ১২ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটছে।আগামীকাল সকাল ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।


অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিব, সকল বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
উদ্বোধনের পরপরই পরীক্ষার্থীরা একযোগে নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নির্ধারিত ওয়েবসাইট এবং এসএমএসের মাধ্যমে তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল জানতে পারবেন। অনলাইনে https://eduboardresults.gov.bd I https://educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ফল জানা যাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ