জুলাই-আগস্টের শহীদরা জাতীয় ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শুরু থেকেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে জনগণকে উদ্বুদ্ধ ও রাজপথের আন্দোলনকে বেগবান করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষ্যে চট্টগ্রাম নগরীর নিউ মার্কেট মোড় এলাকার জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, জুলাই-আগস্টের শহীদরা আমাদের জাতীয় ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদের এই আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে যে গণতান্ত্রিক চেতনা ও আদর্শ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তা আগামী প্রজন্মের পথচলার দিকনির্দেশনা হয়ে থাকবে। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো কেবল কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়, তাদের আদর্শ ও স্বপ্নের বাংলাদেশ তৈরি করাই হবে প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো।
মেয়র বলেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান কোনো ব্যক্তি বা একক রাজনৈতিক দলের সাফল্য নয়; এটি ছাত্র, শ্রমিক, রাজনৈতিক কর্মী, সুশীল সমাজ ও সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত সংগ্রামের ফল। তাই একে কোনো সংকীর্ণ কোণ থেকে মূল্যায়ন না করে জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে দেখতে হবে।
চসিক মেয়র বলেন, দীর্ঘদিনের লড়াই, মামলা-হামলা, কারাবরণ ও নির্যাতনের মধ্য দিয়েই জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্খা তীব্র হয়ে উঠেছিল। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ত্যাগের কথা স্মরণ করে বলেন, শত প্রতিকূলতা ও কারাভোগ সত্ত্বেও তিনি দেশের মানুষের অধিকার আদায়ের পথ থেকে সরেননি। একই ধারাবাহিকতায় তারেক রহমান আন্দোলন-সংগ্রামকে সুসংগঠিত করতে ভূমিকা রেখেছেন।
বক্তব্যকালে মেয়র জুলাই গণঅভ্যুত্থানে চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের সদস্য শহীদ ওয়াসিম আকরাম, আবু সাঈদ, মুগ্ধ, রাব্বি, ফারুক, তানভীরসহ সব শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে তিনি আন্দোলনে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সমাজের বিত্তবান ও সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানান।
‘
জুলাই চেতনায় গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’-এই প্রত্যয় ব্যক্ত করে চসিক মেয়র দেশের সব নাগরিককে বিভেদ ভুলে সম্প্রীতি ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চা করার আহ্বান জানান।স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের সময় চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিনসহ চসিকের বিভাগীয় ও শাখা প্রধানরা, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তারা ও রাজনৈতিক নেতারা জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।