চট্টগ্রামে গ্যাস না পেয়ে মুরাদপুর-ষোলশহর সড়ক অবরোধ বিক্ষুব্ধ চালকদের

চট্টগ্রাম ব্যুরো

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে টানা ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে লাইনে দাঁড়িয়েও গ্যাস না পেয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন কয়েকশ’ সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ভোর থেকে নগরের ষোলশহর এলাকায় সড়কে অবস্থান নেওয়ায় মুরাদপুর থেকে দুই নম্বর গেট পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, দেখা দেয় তীব্র যানজট।

চালকদের অভিযোগ, নগরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। দীর্ঘসময় ধরে ফিলিং স্টেশনের সামনে লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকে গ্যাস পাচ্ছেন না, আর কবে নাগাদ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে সে বিষয়ে স্টেশন কর্তৃপক্ষও নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারছে না।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম মহানগরীতে অনুমোদিত সিএনজি অটোরিকশা আছে ১৩ হাজার। তবে চলছে প্রায় ২৫ হাজার গাড়ি। চালক আছেন ৩৫ হাজারের বেশি।
এ কারণে একটি অটোরিকশা দুই শিফটে ভাড়ায় চালান তারা। গত মঙ্গলবার রাত থেকে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে তৈরি হয়েছে দীর্ঘ জট।

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) কর্মকর্তারা জানান, স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখতে চট্টগ্রামে প্রতিদিন প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস প্রয়োজন। কিন্তু বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সরবরাহ নেমে আসে ১৮০ ঘনফুট।

সাগরে বৈরী আবহাওয়ার কারণে এলএনজি খালাস ব্যাহত হচ্ছে। মহেশখালীর দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক সময়ে ১ হাজার ১০০ এমএমসিএফডি হলেও বর্তমানে প্রায় ৪০০ এমএমসিএফডিতে নেমে এসেছে।
সরেজমিনে শুক্রবার সকালে ষোলশহরের ফসিল ফিলিং স্টেশনের সামনে গ্যাসের জন্য কয়েকশ সিএনজি অটোরিকশাকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও গ্যাস না পেয়ে ক্ষুব্ধ চালকরা একপর্যায়ে সড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ শুরু করেন।
একজন চালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে গাড়ি নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও গ্যাস না পাওয়ায় তিনি গাড়ি চালাতে পারছেন না, আর কখন গ্যাস মিলবে তা কেউ বলতে পারছে না। এভাবে দিনের পর দিন বসে থেকে পরিবার নিয়ে চলা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে তিনি জানান।

আরেকজন চালক বলেন, শহরের সব ফিলিং স্টেশনেই একই অবস্থা-কোথাও গ্যাস নেই, আবার কোথাও গ্যাসের জন্য দীর্ঘ লাইন। কর্তৃপক্ষ সংকটের সমাধান করতে না পারলে রাস্তায় নামা ছাড়া তাদের সামনে আর কোনো পথ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এ বিষয়ে ষোলশহরের ফসিল ফিলিং স্টেশনের এক কর্মকর্তা বলেন, গ্যাসের সরবরাহ না থাকায় সিএনজিতে গ্যাস দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না এবং সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তাদেরও কিছু করার নেই।

চালকরা জানান, গ্যাসের সংকটে শুধু তাদের আয়-রোজগারই বন্ধ হয়নি, ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরাও। নগরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে একই পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় রাস্তায় সিএনজি অটোরিকশার সংখ্যা কমে গেছে, ফলে গন্তব্যে পৌঁছাতে যাত্রীদের বাড়তি সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।

সড়ক অবরোধের কারণে শুক্রবার সকাল থেকেই মুরাদপুর, ষোলশহর ও দুই নম্বর গেইট এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে চালকদের সড়ক ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করে, তবে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত সড়ক ছাড়তে রাজি হননি বিক্ষুব্ধ চালকরা।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে চসিকের পাশাপাশি নগরবাসীকেও সচেতন হতে হবে : মেয়র শাহাদাত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে চসিকের পাশাপাশি নগরবাসীকেও সচেতন হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগের বিস্তার রোধে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম নগরের লালদিঘী এলাকায় বিশেষ মশকনিধন ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিদর্শনকালে তিনি এমন মন্তব্য করেন। ক্রাশ প্রোগ্রামের আওতায় লালদিঘী ও আশপাশের এলাকায় মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করে লার্ভা নিধন, মশকনিধন ওষুধ প্রয়োগ এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।এ ছাড়া বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি ও মশার বংশবিস্তারের সম্ভাব্য স্থানগুলো পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

কর্মসূচি পরিদর্শনকালে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, শুধু সিটি করপোরেশনের মশকনিধন কার্যক্রমের মাধ্যমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে নগরবাসীকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।তিনি বলেন, এডিস মশা সাধারণত জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই বাসাবাড়ি, ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, নির্মাণাধীন ভবনসহ যেসব স্থানে পানি জমতে পারে, সেসব স্থান নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও পানি জমে থাকলে দ্রুত তা অপসারণ করতে হবে।

মেয়র আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে চসিক নিয়মিত মশকনিধন কার্যক্রমের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিচালনা করছে। মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, লার্ভা নিধন, ওষুধ প্রয়োগ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের মাধ্যমে মশার বিস্তার নিয়ন্ত্রণে কাজ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, শুধু ওষুধ ছিটিয়ে মশা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনের মাঠকর্মীদের পাশাপাশি নগরবাসীকেও সচেতন ও সহযোগিতামূলক ভূমিকা পালন করতে হবে।ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ একটি সম্মিলিত দায়িত্ব। নগরবাসী নিজেদের ঘরবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখলে এবং কোথাও পানি জমতে না দিলে মশার বংশবিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

তিনি নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, নিজের ঘর-আঙিনা পরিষ্কার রাখুন, জমে থাকা পানি অপসারণ করুন এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমে সহযোগিতা করুন। চসিকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নগরের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পর্যায়ক্রমে এ ধরনের মশক নিধন ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিচালনা করা হচ্ছে। ডেঙ্গু পরিস্থিতি বিবেচনায় মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।

অনিবন্ধিত অনলাইন ও নিউজ পেজের বিষয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন


  1. : অনিবন্ধিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংবাদমাধ্যমের নামে পরিচালিত পেজের বিষয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।
    মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
  2. ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ওয়েব ব্রাউজারের মাধ্যমে পরিচালিত অনলাইন নিউজ পোর্টালের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পেজ খুলে নিজেদের অনলাইন নিউজ মিডিয়া হিসেবে পরিচয় দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।তিনি বলেন, অনিবন্ধিত অনলাইন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজ নিয়ে আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠকে আলোচনা চলছে।এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে।
  3. সাংবাদিকের গ্রহণযোগ্য সংজ্ঞা প্রয়োজন
    সাংবাদিকের একটি গ্রহণযোগ্য সংজ্ঞা নির্ধারণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিক সংগঠন, বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদক ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
    সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের সুযোগ-সুবিধা ও নীতিমালার ক্ষেত্রেও একটি নির্দিষ্ট মাপকাঠি থাকা প্রয়োজন।তিনি বলেন, ‘হু ইজ এ জার্নালিস্ট-এই জিনিসটার একটা ডেফিনিশন আপনারা তৈরি করে দেবেন।’ সাংবাদিক নেতাদের কাছ থেকেই সরকার সাংবাদিকের গ্রহণযোগ্য সংজ্ঞা পেতে চায় বলেও জানান তিনি।
  4. টেলিভিশন সাংবাদিকদের ন্যূনতম বেতন কাঠামো
    টেলিভিশনে কর্মরত সাংবাদিকদের জন্য ন্যূনতম বেতন কাঠামো থাকা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ বিষয়ে সরকার কাজ করছে এবং দ্রুত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
    বৈঠকে টেলিভিশন সাংবাদিকদের বেতন কাঠামো এবং গণমাধ্যমকর্মীদের বেতন-ভাতা ও ইনক্রিমেন্ট নিয়ে দীর্ঘদিনের সমস্যার বিষয়টি উঠে আসে। এর জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ন্যূনতম বেতন কাঠামো নিশ্চিত করা গেলে টেলিভিশন সাংবাদিকদের মানোন্নয়ন, প্রশিক্ষণ ও চাকরির সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি গণমাধ্যমের সামগ্রিক মানও উন্নত হবে।
  5. নতুন ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন এবং গণমাধ্যমকর্মীদের বেতন-ভাতা নিশ্চিত করার বিষয়েও কাজ চলছে বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা শ্রম মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও তিনি এ বিষয়ে কথা বলবেন বলে জানান।
    ডিআরইউর কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে সংগঠনটির বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়েও আলোচনা হয়। এসব দাবি কীভাবে পূরণ করা যায় এবং গণমাধ্যমের উন্নয়নে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, সে বিষয়ে সাংবাদিকদের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তথ্য প্রতিমন্ত্রী।

আলোচিত খবর

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছেছে । আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইড মিটিং এ দুই দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ বিষয়ে বক্তব্য স্পষ্ট, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ