চট্টগ্রামে অগ্রণী ব্যাংকের লালদীঘি শাখা থেকে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ‘গায়েব’ হওয়ার ঘটনায় ক্যাশ ইনচার্জ মো. কামরুল ইসলামসহ দুজনকে গ্রেফতার করছে পুলিশ। অভিযোগ উঠেছে, যোগসাজশের মাধ্যমে ব্যাংকের ওই বিপুল পরিমাণ টাকা এক ব্যবসায়ীর কাছে তুলে দিয়েছিলেন ক্যাশ ইনচার্জ।
অন্যদিকে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ভল্টের দায়িত্বে থাকা ওই কর্মকর্তা টাকা আত্মসাৎ করে গড়ে তুলেছেন গরুর খামার। অভিযুক্ত কর্মকর্তা হলেন নগরীতে অগ্রণী ব্যাংকের লালদিঘী পূর্ব করপোরেট শাখার ক্যাশ ইনচার্জ কামরুল হোসেন। গ্রেপ্তার অন্যজন ব্যাংকের গ্রাহক জাফর উল্লাহ তানভীর (২৫)।গত সোমবার এই দুজনকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। আগেরদিন ব্যাংকের নগদ হিসাবের সঙ্গে ভল্টে রাখা টাকার হিসাবে গরমিল ধরা পড়ায় সামনে আসে এ ঘটনা।
কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, কামরুল এক হাজার টাকার নোটের বান্ডিলের ভেতর ১০০ টাকা বা এর চেয়ে কম নোট রেখে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আত্মসাত করেছেন। সেই টাকা দিয়ে জাফরের সঙ্গে মিলে গড়েছেন গরুর খামার।

তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন অগ্রণী ব্যাংকের ওই শাখার মহাব্যবস্থাপক মোস্তাক আহমেদ। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেছেন, কামরুল আগে ভল্ট শাখার ইনচার্জ ছিলেন। সেসময় গ্রাহক জাফরের সঙ্গে গড়ে ওঠে সম্পর্ক।
ব্যাংকের নগদ হিসাব ও ভল্টের হিসাবে গরমিল ধরা পড়ায় কামরুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার কাছ থেকে যথাযত জবাব মেলেনি। হিসাব বুঝিয়ে দেওয়ার কথা বলে কালক্ষেপণ করতে থাকেন।
এতেই প্রতারণার বিষয়টি নিশ্চিত হন উচ্চপদস্থরা। গত সোমবার কামরুলকে ব্যাংকে আটকে রাখা হয়। জাফরকে ডাকা হয় কৌশলে। এরপর পুলিশ এলে ভল্ট থেকে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা সরানোর বিষয়টি স্বীকার করেন তারা।বৃহস্পতিবার (১৩ আগষ্ট) ব্যাংক কর্মকর্তাদের বরাতে কোতোয়ালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বললেন, ভল্ট থেকে টাকা সরিয়ে কামরুল দেন জাফরকে। সেই টাকা দিয়ে জাফর হাটহাজারী উপজেলার উত্তর বুড়িশ্চর এলাকায় ইশরাত এগ্রো নামে একটি গরুর খামার করেছেন। সেখানে প্রায় ৬০টি গরু আছে।
প্রাথমিক তদন্তে এই অভিযোগের তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। দুই আসামি কারাগারে আছেন। মামলার তদন্ত চলছে।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জায়েদ মোহাম্মদ নাজমুন নূর বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং মামলায় এজাহারভুক্ত দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন, হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ ও তথ্যের রেকর্ডসহ ৬৪ জিবির একটি পেনড্রাইভ জব্দ করা হয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন। এ ঘটনায় আর কারও সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
চট্টগ্রামের অগ্রণী ব্যাংক কর্মকর্তা কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. মোতাহের হোসেন বলেন, ঘটনাটি নিয়ে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ অডিট চলমান রয়েছে। অডিট শেষ হলে বিস্তারিত জানা যাবে। তিনি জানান, এরই মধ্যে ব্যাংকের একজন কর্মকর্তাকে থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। ঘটনায় আর কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা অডিট শেষে জানা যাবে বলেও জানান তিনি।