লাইসেন্সবিহীন ডিপটিউবওয়েল বন্ধে মাঠে নেমেছে চট্টগ্রাম ওয়াসা

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম ওয়াসার বকেয়া রাজস্ব আদায়ে পুরোদমে মাঠে কাজ করছে রাজস্ব ও প্রকৌশল বিভাগের সমন্বয়ে গঠন করা আটটি মনিটরিং টিম। চট্টগ্রাম ওয়াসার নির্বাহী প্রকৌশলী, রাজস্ব কর্মকর্তা, রাজস্ব তত্ত্বাবধায়ক ও মিটার পরিদর্শকদের সমন্বয়ে এ মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে। সকল মনিটরিং টিমের কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বে আছেন উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অর্থ)।

চট্টগ্রাম ওয়াসার হিসাবমতে সরকারী দপ্তরে বকেয়ার পরিমাণ ৭১ কোটি ৫২লক্ষ আর সাধারণ গ্রাহক পর্যায়ে বকেয়া পরিমাণ ১৮৭ কোটি ৪৩লক্ষ। বৈশ্বিক অর্থনীতির কারণে পানির উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি ও অন্যান্য খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। এ বিশাল অংকের বকেয়া আদায়ে প্রতি কর্মদিবসে মনিটরিং টিমের মাধ্যমে বকেয়াধারী গ্রাহকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিল আদায় কার্যক্রম দ্রুতগতিতে চলছে।

জানা গেছে, বকেয়া বিল আদায়ের পাশাপাশি অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ, জরিমানা ও লাইসেন্সবিহীন গভীর নলকূপ চিহ্নিত করে বন্ধ বা জরিমানা দিয়ে লাইসেন্স গ্রহণপূর্বক বৈধ করার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।। এ কার্যক্রমের আওতায় গত ১৬ আগষ্ট বিমানবন্দর রোডে বন্দরটিলা এলাকায় একজন গ্রাহকের ৩টি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। মোঃ জসিম উদ্দিন নামের এই গ্রাহকের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে পানি বিক্রির অভিযোগও রয়েছে। এই গ্রাহকের ৩টি সংযোগের বিপরীতে বকেয়া পরিমাণ ১৫লক্ষ টাকা।বকেয়া আদায়ে জনসচেতনা : চট্টগ্রাম ওয়াসা বকেয়া আদায়ে জনগণকে উদ্ভুদ্ধ করার লক্ষ্যে জুলাই মাস হতে মহানগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করে আসছে।

বকেয়া আদায়ে পদক্ষেপ ও সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ :বকেয়া আদায়ে ৫০ হাজার টাকার উর্দ্ধে বকেয়াধারী গ্রাহকদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছে চট্টগ্রাম ওয়াসার মনিটরিং টিম। গ্রাহকের সাথে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে বকেয়া টাকা আদায় করার চেষ্টা করা হয়। গ্রাহক বকেয়া দিতে অস্বীকৃতি প্রকাশ করলে সংযোগ সাময়িক বিচ্ছিন্ন করার তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে সরকারী রাজস্ব আদায়ে চট্টগ্রাম ওয়াসা বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করে।

অবৈধ সংযোগ বৈধকরণ :চট্টগ্রাম ওয়াসার অনুমতিবিহীন অবৈধভাবে সংযোগকারীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী জরিমানা করার কার্যক্রম কঠোরভাবে হাতে নেওয়া হয়েছে। অবৈধ গ্রাহকদের কারণে সিস্টেম লস দিন দিন বৃদ্ধি পায়। চট্টগ্রাম ওয়াসার আইন অনুযায়ী অবৈধ গ্রাহকদের জরিমানা প্রদানপূর্বক বৈধ গ্রাহক হিসেবে অর্ন্তভূক্ত করার সুযোগ দেয়া হচ্ছে। এতে সংস্থার রাজস্ব আদায় বাড়বে এবং সিস্টেম লস কমে আসবে।
লাইসেন্সবিহীন গভীর নলকূপ বন্ধ ও জরিমানা :চট্টগ্রাম ওয়াসার অনুমতিবিহীন গভীর নলকূপ স্থাপনকারীগণের বিরুদ্ধে নলকূপ বন্ধসহ জরিমানার কার্যক্রম কঠোরভাবে হাতে নেওয়া হয়েছে। লাইসেন্সবিহীন গভীর নলকূপ স্থাপনকারীদের চট্টগ্রাম ওয়াসার আইন অনুযায়ী জরিমানা করে লাইসেন্সের আওতায় আনা হচ্ছে। এতে সংস্থার রাজস্ব আদায় বাড়বে।

এবিষয়ে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম বলেন, চট্টগ্রাম ওয়াসা বকেয়া রাজস্ব আদায়ে বদ্ধ পরিকর। এজন্য ডিএমডি(অর্থ) এর তদারকিতে আটটি মনিটরিং টিম জোরালেভাবে কাজ করছে। বকেয়া গ্রাহকগণের কাছে আমার অনুরোধ হলো এটি সরকারের রাজস্ব তাই মওকুপ করার সুযোগ নাই। সকল বকেয়া গ্রাহকগণ বিল পরিশোধ করে ওয়াসার সেবা উত্তোরোত্তর বৃদ্ধিতে সহায়তা করার উদাত্ত আহবান জানাচ্ছি। আর অবৈধ সংযোগ ও লাইসেন্সবিহীন গভীর নলকূপ স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর অবস্থান নিয়েছি। সকলকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বৈধ গ্রাহক এবং নলকূপের লাইসেন্স করার জন্য অনুরোধ করছি।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

নোয়াখালীতে কিশোর কিশোর অপরাধ বিরোধী অভিযানে আটক ১০৪

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 

নোয়াখালীতে কিশোর কিশোর অপরাধ বিরোধী অভিযানে ১০৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ। পরে মুচলেকা নিয়ে তাদের পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরের দিকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন। এর আগে শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন থানায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

জেলা পুলিশ জানায়, কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা প্রতিরোধ, কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া রোধ, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিনের নির্দেশনায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযানে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে হাতিয়া থানায় ৪০ জন, বেগমগঞ্জ মডেল থানায় ৩১ জন, চরজব্বর থানায় ১০ জন, কোম্পানীগঞ্জ থানায় ৬ জন, চাটখিল থানায় ৬ জন, কবিরহাট থানায় ৪ জন, সুধারাম মডেল থানায় ৩ জন, সেনবাগ থানায় ২ জন এবং সোনাইমুড়ী থানায় ২ জন রয়েছেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন আরও বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধপ্রবণতা রোধে নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি কিশোরদের সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে অভিভাবক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সমন্বয়ে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

চট্টগ্রামে শিশুদের নিরাপদ সড়ক চলাচল শেখাতে মাঠে জেলা পুলিশ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

শিশুদের নিরাপদ সড়ক চলাচল নিশ্চিত করা এবং ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সচেতন করতে চট্টগ্রামে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে জেলা পুলিশ। এর অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের নিয়ে সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করেছে জেলা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের নির্দেশনায় এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে হাটহাজারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ধুরং খুলশী লায়নস উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে সচেতনতামূলক কর্মসূচি হয়।
কর্মসূচিতে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক), টিআই (প্রশাসন), হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি জোনে কর্মরত ট্রাফিক পুলিশের সদস্য, বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।
এসময় ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। রাস্তা পারাপারের সঠিক নিয়ম, ফুটপাত ব্যবহার, ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলা, জেব্রা ক্রসিং দিয়ে রাস্তা পারাপার এবং সড়কে চলাচলের সময় সতর্কতা অবলম্বনের বিষয়ে তাদের সহজ ভাষায় ধারণা দেওয়া হয়।
পাশাপাশি নিরাপদ সড়ক চলাচলের বিভিন্ন নিয়ম সংবলিত লিফলেট শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। নিজেরা এসব নিয়ম মেনে চলার পাশাপাশি পরিবার ও আশপাশের মানুষকেও সচেতন করার জন্য শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা হয়।
সড়ক নিরাপত্তার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনা, শ্রেণিকক্ষে মনোযোগী হওয়া এবং শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। সততা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধে নিজেদের গড়ে তোলার পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় মোবাইল ফোন ব্যবহার এড়িয়ে পড়াশোনা, খেলাধুলা ও সৃজনশীল কার্যক্রমে সময় দেওয়ার জন্যও উৎসাহিত করা হয়।
ট্রাফিক পুলিশের সদস্যদের কাছে পেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দ ও উৎসাহ দেখা যায়। শিক্ষক ও অভিভাবকরাও পুলিশের এমন সচেতনতামূলক উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
জেলা পুলিশ জানায়, শিশুদের ছোটবেলা থেকেই সড়ক নিরাপত্তা ও নৈতিক মূল্যবোধ সম্পর্কে সচেতন করা গেলে ৮ভবিষ্যতে তারা দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে। পাশাপাশি পুলিশের সঙ্গে শিশুদের এমন সরাসরি যোগাযোগ জনসাধারণের সঙ্গে পুলিশের পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার সম্পর্ক আরও জোরদার করবে।
শিশুদের মধ্যে সচেতনতার বীজ বপনের মাধ্যমে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও মানবিক সমাজ গঠনে এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ।

আলোচিত খবর

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছেছে । আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইড মিটিং এ দুই দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ বিষয়ে বক্তব্য স্পষ্ট, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ