শিশু খাদ্যে বিষ ও ভেজাল : চাই কঠোর আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ

মুহাম্মদ আবদুল করিম সেলিম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মানুষ জীবন বাঁচাতে নানা খাদ্যদ্রব্য গ্রহণ করে। শিশুরাও নানা খাবার খায়। জন্মের পর একটি শিশু প্রথম ৫/৬ মাস কেবল মায়ের বুকের দুধ পান করে। ৬ মাস পেরুলে শিশুরা অল্প অল্প করে মাতৃদুগ্ধের পাশাপাশি হাল্কা খাবারে অভ্যস্ত হয়। কয়েক দিন আগে ঢাকা থেকে প্রকাশিত একটি পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠায় লিড নিউজের শিরোনাম ছিল : ৪৫ ভাগ শিশু ঠিকমতো মায়ের দুধ পায় না। অভিভাবকরা শিশুদেরকে অপ্রয়োজনীয় ফুড সাপ্লিমেন্ট খাওয়াতে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে।

শিশু খাদ্যে বিষ ও ভেজালের ছড়াছড়ি নিয়ে প্রায়ই গণমাধ্যমে নানা খবর প্রকাশিত হয়ে আসছে। শিশুদেরকে মায়ের দুধের বিকল্প হিসেবে বাজারের টিনের দুধে অভ্যস্ত করা অবশ্যই বর্জনীয়। তা জেনেও এক শ্রেণির ডাক্তার প্রেসক্রিপশনে বেবি ফুড লিখে দিচ্ছে। অথচ মায়ের দুধে যে পুষ্টিগুণ রয়েছে, তা এই বেবি ফুডে নেই। অন্যদিকে বাজার থেকে অভিভাবকরা শিশুদের জন্য যে খাবার কেনে তাও যেন বিষ ও ভেজালে ভরা। শিশু খাদ্যে ভেজাল রুখতে অভিভাবকদের মধ্যে যে ধরনের সচেতনতা ও সতর্কতা দরকার, তা আমাদের দেশে এখনো গড়ে উঠেনি। ফলে শিশুদের স্বাস্থ্যহানি রোধ করা যাচ্ছে না।

বাজারে শিশুদের জন্য উপাদেয় চিপস, কেক, চকলেট, আচার, বিস্কুট, ঝালমুড়ি, চানাচুরসহ যা মুখরোচক খাবারের ছড়াছড়ি আমরা দেখে আসছি তা অনেকটাই ভেজালে ঠাসা। অলিগলিতে ছোট-বড় দোকানগুলোতে চকলেট, মিমি চকলেট, ওয়েফার বিস্কুট, জেলি আচার বিষাক্ত রঙ মিশানো হাতে বানানো আইসক্রিম, জেলি লিচু নামক অখাদ্য নানান সামগ্রী প্রতিনিয়ত শিশুরা খাচ্ছে। তা খেয়ে শিশুরা নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। ভেজাল খাদ্য খাওয়ার ফলে বদহজম, গ্যাস্ট্রিক, আলসার, পেট ফাঁপাসহ নানা জটিল রোগ-ব্যাধি শিশুদের মাঝে বাসা বাঁধছে। অনেকের লিভার ও কিডনি নষ্ট হচ্ছে ভেজাল খাদ্য গ্রহণের কারণে।

শহর নগরে এমনকি গ্রামের স্কুল, কিন্ডার গার্টেন, মাদ্রাসার শিশু শিক্ষার্থীরা স্কুলের বাইরে থাকা আচার, ঝালমুড়ির ভাসমান দোকানগুলো থেকে এসব ভেজাল খাবার কিনে খাচ্ছে। ফলে এসব খেয়ে তারা নানা অসুখে ভুগছে। মেয়াদোত্তীর্ণ আচার কিংবা ঝালমুড়ি যে কতটা বিষাক্ত ও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর সে ব্যাপারে অনেক শিক্ষক অভিভাবক সচেতন নন। এসব মুখরোচক ভেজাল খাবার থেকে শিশুদের ফিরিয়ে আনতে স্কুলে স্কুলে শিক্ষার্থীদের মাঝে সচেতনতা গড়ে তোলা জরুরি।

স্কুল কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় প্রশাসন চাইলে এসব ভেজাল খাবার বিকিকিনি বন্ধ করতে পারে। কিন্তু এ ধরনের কোনো উদ্যোগই দেখা যায় না। সবচেয়ে uh হলো, চিপস, বিস্কুট, চানাচুরসহ নানা শিশু খাদ্যে উৎপাদনের তারিখ এবং মেয়াদোত্তীর্ণের যে তারিখ দেয়া হয় তা অবাস্তব ও ত্রুটিপূর্ণ। একটি ১০/২০ টাকার বিস্কুট কিংবা ১০/২০ টাকা দামের চিপসের মেয়াদোত্তীর্ণের সময়সীমা থাকে এক দেড় বা দুই বছর। কোনো উন্নত দেশে এই নিয়ম নেই। কেবল ব্যতিক্রম আমাদের এই স্বদেশ।

এদেশে শিশু খাদ্যসহ নানা খাদ্যপণ্যের মেয়াদ উত্তীর্ণের সময়সীমা এত দীর্ঘ থাকে যে, এর আগেই খাদ্যপণ্যগুলোর গুণগত মেয়াদ ফুরিয়ে যায়। একটি খাদ্যপণ্যের মেয়াদ এক দেড় বা দুই বছর লেখা থাকে খাদ্যপণ্যের মোড়ক বা প্যাকেটে। অবাস্তব এই দীর্ঘ মেয়াদের কারণে খাদ্যপণ্যগুলো এর আগেই পচে যায়, নষ্ট হয়ে যায়। এ ধরনের বাসি মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার খেয়ে শিশুসহ সব বয়সী মানুষ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

খাদ্যপণ্য দেখভালের জন্য নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ বা বিএসটিআই নামে সরকারের একটি নিয়ন্ত্রণ সংস্থা আছে। খোদ এই সংস্থার বিরুদ্ধে বড় দুর্নীতি ও নানা অনিয়মের অভিযোগ আছে। উৎকোচ ও ঘুষের বিনিময়ে এই বিএসটিআই খাদ্যপণ্যের হালাল সনদ দেয়। মেয়াদোত্তীর্ণের সনদও দেয় এই সংস্থাটি। কিন্তু অনেক সময় এই সনদের কার্যকারিতা থাকে না। ঘুষের বিনিময়ে খাদ্যপণ্যের মেয়াদ লিখে দিয়েই দায় সারে বিএসটিআই। বাজার থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য তুলে নেয়া বা পণ্যের গুণমান কতটা রক্ষা করা হচ্ছে তা মোটেই তদারকি করা হয় না। ফলে এসব মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য খেয়ে জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়ছে।

অবাক ব্যাপার যে, ৩০ টাকা দামের এক কাপ আইসক্রিমের মেয়াদ লেখা থাকে এক দেড় বছর। ১৫০ টাকা দামের ৫০০ গ্রাম আইসক্রিম কিংবা ৩০০ টাকা দামের ১ লিটার আইসক্রিমের মেয়াদ লেখা থাকে এক-দেড় বছর। ফ্রিজে রাখা হলেও এই আইসক্রিম এক দেড় বছর পর্যন্ত অক্ষত, নিরাপদ ও খাওয়ার উপযোগী থাকবে তা কখনো কল্পনাই করা যায় না। এই আইসক্রিমের মুদ্রিত মেয়াদের সময়সীমা পেরুনোর আগেই তা খাবার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। অথচ তা আমরা নির্দ্বিধায় খেতে বাধ্য হচ্ছি। বিএসটিআই তা দেখেও না দেখার ভান করে। বাজারে তাদের তদারকি মোটেও লক্ষ্য করা যায় না। ফলে ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্যই যেন ভোক্তাদের একমাত্র ভরসা। বিএসটিআই যদি তাদের ওপর অর্পিত বাজার তদারকির দায়িত্ব পুরোপুরি পালন করতো তবে পরিস্থিতি এতটা অসহনীয় হয়ে উঠতো না। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিএসটিআই পুরোপুরি ব্যর্থ। মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য বাজার থেকে তুলে নিতে তারা মোটেই উদ্যোগী নয়। এ বিষয়ে পত্রিকায় অভিযোগ তুললে বিএসটিআইয়ের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা তাদের জনবলের অভাবকে দায়ী করে দায়মুক্ত হবার চেষ্টা করে। ভোক্তাদের জীবন-বাঁচার প্রশ্ন এই ভেজাল খাদ্যপণ্য। এটি অন্য দশটি সাধারণ সমস্যার মতো নয়। ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য যখন মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায় তখন তো নীরবতা পালনের কোনো সুযোগ নেই। এখানে বাঁচা-মরার প্রশ্ন জড়িত। বিএসটিআই কেন ভেজাল ও বিষে ভরা পণ্য বাজার থেকে তুলে নেবে না? কেন সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে এই সংস্থার নিস্পৃহ ভূমিকা আমাদের চেয়ে চেয়ে দেখতে হবে?

একটি পাউরুটির মেয়াদ রাখা হয় সাধারণত ৪/৫/৬ দিন। এই পাউরুটির মেয়াদ দুদিনের বেশি রাখা ঠিক নয় জেনেও পাউরুটি যারা তৈরি করে তারা অযৌক্তিক বাড়তি সময় গায়ে লিখে দেয়। এক প্যাকেট তরল দুধ ফ্রিজে রাখলেও দুই-তিনদিনের বেশি তরতাজা থাকার কথা নয়। তবুও দুধের মোড়কে ৫/৬/৭ দিন মেয়াদ লেখা থাকে। এমনকি মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়া সত্ত্বেও এই দুধ বা পাউরুটি ভোক্তাদের খাওয়ানো হচ্ছে নানা কৌশলে। পাউরুটির মেয়াদের লেবেল পাল্টে ফেলা যায়। বাসি পাউরুটি স্টিকার পাল্টে দিয়ে অবলীলায় ভোক্তাদের খাওয়ানো হচ্ছে। কে দেখবে এসকল অনিয়ম-অপরাধ!

শিশু খাদ্য হিসেবে টিনের যে দুধ পাউডার বাজারে সরবরাহ করা হয় তাও শতভাগ শিশুদের খাওয়ার উপযোগী নয়। নিম্ন মানের ভেজাল শিশু খাদ্য শিশুদের খেতে হচ্ছে। ফলে শিশুরা নানা জটিল কঠিন রোগের শিকার হচ্ছে। শুধু শিশুখাদ্য দুধ নয় বাজারে থাকা প্রায় সকল খাদ্যপণ্যে ভেজাল ধরা পড়ে সরকারি নানা অভিযানে। হলুদ মরিচ গরম মসলার গুঁড়ো, কলাসহ মৌসুমী ফল ছাড়াও বিভিন্ন ফলসহ ক্ষতিকারক উপাদান ব্যবহার করে। এমনকি মাছ মুরগী খাদ্যেও ভেজাল হচ্ছে। অনেক সময় দোকানদারদের সামান্য জরিমানা করে ছেড়ে দেয়া হয়। মাঝে মাঝে ভেজাল বিরোধী অভিযান সত্ত্বেও ভেজাল বিষে ভরা খাদ্যপণ্য থেকে আমাদের তবুও নিষ্কৃতি মেলে না। বাজারে যে নামকাওয়াস্তে অভিযান চালানো হয় তা যথেষ্ট নয়, বরং কালেভদ্রে এ অভিযানের কোনো সুফলই পায় না ভোক্তারা। আমাদের সমাজের কম-বেশি অনেকের নৈতিক মান অনেক নিচে নেমে এসেছে। অনেকেই ধর্মের রীতি-নীতি মেনে চলেন না। নীতি-নৈতিকতার ধার ধারে না অনেকেই। ফলে ব্যক্তি ও জাতীয় জীবনে অবক্ষয় প্রবণতা ক্রমেই বাড়ছে। খাদ্যে ভেজাল মেশানো নৈতিকতারই ঘাটতির জানান দেয়। অতএব, বাজার থেকে ভেজাল খাদ্যপণ্য তুলে নিতে বিএসটিআইসহ সকল সরকারি প্রতিষ্ঠানকে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে। এজন্য কঠোর আইন প্রণয়ন ও যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। বিএসটিআইয়ের জনবল বাড়িয়ে সংস্থাটিকে কার্যকর প্রতিষ্ঠানে রূপ দিয়ে ভেজাল খাদ্যপণ্য বিকিকিনি প্রবণতা রুখতে হবে। না হয় ভেজাল খেয়ে আধমরা-অর্ধমৃত মানুষ হিসেবে জীর্ণশীর্ণ হয়ে বেঁচে থাকা ছাড়া আমাদের কোনো উপায় থাকবে না।

লেখক : ফটো জার্নালিস্ট, প্রাবন্ধিক

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বকেয়া বেতনের দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম নগরের আতুরের ডিপো এলাকায় বকেয়া বেতন ও বিভিন্ন দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন ইত্যাদি জিন্স কারখানার শ্রমিকরা। বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে প্রধান সড়কে অবস্থান নিয়ে তারা বিক্ষোভ শুরু করেন।শ্রমিকদের অবস্থানের কারণে আতুরের ডিপো এলাকার সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। এতে সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হলে কর্মস্থলগামী মানুষসহ সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগে পড়তে হয়।

বিক্ষোভকারী শ্রমিকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তাদের বেতন-ভাতা বকেয়া রয়েছে। পাশাপাশি কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের অন্যান্য ন্যায্য দাবিও পূরণ করছে না। বারবার দাবি জানানো সত্ত্বেও কার্যকর পদক্ষেপ না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে তারা সড়কে অবস্থান নিয়েছেন বলে জানান শ্রমিকরা।তাদের দাবি, দ্রুত বকেয়া বেতন পরিশোধের পাশাপাশি শ্রমিকদের অন্যান্য ন্যায্য দাবিও বাস্তবায়ন করতে হবে। দাবি মেনে নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।সড়ক অবরোধের খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেন পুলিশ সদস্যরা।

ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাহমুদা বেগম জানান, গার্মেন্টস শ্রমিকরা বকেয়া বেতনসহ বিভিন্ন দাবিতে বিক্ষোভ করছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ ও থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে।তিনি বলেন, শ্রমিকদের দাবিগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে। উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমঝোতার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।এদিকে শ্রমিকদের সড়ক অবরোধের কারণে সৃষ্ট যানজট দ্রুত নিরসন এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে।

চট্টগ্রাম মহানগরে গ্যাস সংকটে দূর্ভোগ : আয় বন্ধ চালকদের

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে গ্যাস সংকটে নগরজীবনে দুর্ভোগ নেমেছে। মহানগরীতে গ্যাসের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা চালকদের এখন নিত্যদিনের দুর্ভোগ। একদিকে গ্যাসের সংকট, অন্যদিকে দীর্ঘ অপেক্ষা সব মিলিয়ে বাড়ছে চালকদের ভোগান্তি।শনিবার (১৫ আগষ্ট) দুপুর ১২টার দিকে নগরের টাইগার পাস, ওয়াসা মোড়, খুলশী রেলগেট ও আকবর শাহসহ বেশ কয়েকটি এলাকার সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, গ্যাসের আশায় সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে সিএনজি অটোরিকশা ও বিভিন্ন গ্যাসচালিত যানবাহন। কেউ গাড়ির ভেতরে বসে অপেক্ষা করছেন, কেউ রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে আছেন। আবার দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষায় ক্লান্ত হয়ে কেউ কেউ বসে পড়েছেন সড়কের পাশে।

কয়েক দিন ধরে নগরের বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাসের সরবরাহ অনিয়মিত। কোথাও দীর্ঘ লাইন তৈরি হচ্ছে, আবার কোথাও গ্যাস শেষ হয়ে যাওয়ার পর ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে দিনের কর্মঘণ্টার বড় একটি অংশ গ্যাসের জন্য অপেক্ষা করেই কেটে যাচ্ছে। কমে যাচ্ছে দৈনিক ট্রিপ ও আয়।

সবুর উদ্দিন নামে এক চালক বললেন, গাড়ি চালালে টাকা পাই, না চালালে পাই না। গাড়ি চালাতে না পারলে কিস্তির টাকা দিতে পারব না। গ্যাসের জন্য যদি সারাদিন বসে থাকতে হয়, তাহলে সংসার চালাব কীভাবে?
খুলশী সিএনজি ফিলিং স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজাদ বললেন, আগে একদিনে যে পরিমাণ গ্যাসের সরবরাহ পেতাম, এখন তিন দিনেও সেই পরিমাণ পাই না। ফলে চাহিদামতো গাড়িতে গ্যাস দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আমাদেরও কিছু করার নেই।

গ্যাসের এই সংকটের প্রভাব পড়ছে যাত্রীদের ওপরও। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার কারণে অনেক এলাকায় পর্যাপ্ত সিএনজি অটোরিকশা পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। কোথাও কোথাও স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
তবে বাড়তি ভাড়া নেওয়ার বিষয়ে চালকদের কেউ কেউ বলছেন, গ্যাসের জন্য দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকায় প্রতিদিন তাদের ট্রিপের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। ফলে আগের তুলনায় আয়ও কম হচ্ছে। বাড়তি ভাড়া না নিলে তাদের লোকসান পোষানো কঠিন হয়ে পড়ে।

চালকদের দাবি, দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার পাশাপাশি কোন ফিলিং স্টেশনে কখন গ্যাস পাওয়া যাবে, সে বিষয়ে আগাম তথ্য দেওয়া হলে তাদের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে। এতে এক স্টেশন থেকে অন্য স্টেশনে ঘুরে সময় ও জ্বালানি অপচয়ও কমবে।
গ্যাস সরবরাহের এই অনিশ্চয়তা শুধু তাদের আয়-রোজগারেই প্রভাব ফেলছে না, নগরের গণপরিবহন ব্যবস্থাতেও তৈরি করছে বাড়তি ভোগান্তি। তাই দ্রুত সমস্যার সমাধান করে নিয়মিত ও পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

আলোচিত খবর

মির্জা ফখরুল পেলেন রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মির্জা ফখরুল পেলেন রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে রাষ্ট্রপতি পদের মনোনয়নপত্র নিচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ