শিশু খাদ্যে বিষ ও ভেজাল : চাই কঠোর আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ

মুহাম্মদ আবদুল করিম সেলিম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মানুষ জীবন বাঁচাতে নানা খাদ্যদ্রব্য গ্রহণ করে। শিশুরাও নানা খাবার খায়। জন্মের পর একটি শিশু প্রথম ৫/৬ মাস কেবল মায়ের বুকের দুধ পান করে। ৬ মাস পেরুলে শিশুরা অল্প অল্প করে মাতৃদুগ্ধের পাশাপাশি হাল্কা খাবারে অভ্যস্ত হয়। কয়েক দিন আগে ঢাকা থেকে প্রকাশিত একটি পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠায় লিড নিউজের শিরোনাম ছিল : ৪৫ ভাগ শিশু ঠিকমতো মায়ের দুধ পায় না। অভিভাবকরা শিশুদেরকে অপ্রয়োজনীয় ফুড সাপ্লিমেন্ট খাওয়াতে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে।

শিশু খাদ্যে বিষ ও ভেজালের ছড়াছড়ি নিয়ে প্রায়ই গণমাধ্যমে নানা খবর প্রকাশিত হয়ে আসছে। শিশুদেরকে মায়ের দুধের বিকল্প হিসেবে বাজারের টিনের দুধে অভ্যস্ত করা অবশ্যই বর্জনীয়। তা জেনেও এক শ্রেণির ডাক্তার প্রেসক্রিপশনে বেবি ফুড লিখে দিচ্ছে। অথচ মায়ের দুধে যে পুষ্টিগুণ রয়েছে, তা এই বেবি ফুডে নেই। অন্যদিকে বাজার থেকে অভিভাবকরা শিশুদের জন্য যে খাবার কেনে তাও যেন বিষ ও ভেজালে ভরা। শিশু খাদ্যে ভেজাল রুখতে অভিভাবকদের মধ্যে যে ধরনের সচেতনতা ও সতর্কতা দরকার, তা আমাদের দেশে এখনো গড়ে উঠেনি। ফলে শিশুদের স্বাস্থ্যহানি রোধ করা যাচ্ছে না।

বাজারে শিশুদের জন্য উপাদেয় চিপস, কেক, চকলেট, আচার, বিস্কুট, ঝালমুড়ি, চানাচুরসহ যা মুখরোচক খাবারের ছড়াছড়ি আমরা দেখে আসছি তা অনেকটাই ভেজালে ঠাসা। অলিগলিতে ছোট-বড় দোকানগুলোতে চকলেট, মিমি চকলেট, ওয়েফার বিস্কুট, জেলি আচার বিষাক্ত রঙ মিশানো হাতে বানানো আইসক্রিম, জেলি লিচু নামক অখাদ্য নানান সামগ্রী প্রতিনিয়ত শিশুরা খাচ্ছে। তা খেয়ে শিশুরা নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। ভেজাল খাদ্য খাওয়ার ফলে বদহজম, গ্যাস্ট্রিক, আলসার, পেট ফাঁপাসহ নানা জটিল রোগ-ব্যাধি শিশুদের মাঝে বাসা বাঁধছে। অনেকের লিভার ও কিডনি নষ্ট হচ্ছে ভেজাল খাদ্য গ্রহণের কারণে।

শহর নগরে এমনকি গ্রামের স্কুল, কিন্ডার গার্টেন, মাদ্রাসার শিশু শিক্ষার্থীরা স্কুলের বাইরে থাকা আচার, ঝালমুড়ির ভাসমান দোকানগুলো থেকে এসব ভেজাল খাবার কিনে খাচ্ছে। ফলে এসব খেয়ে তারা নানা অসুখে ভুগছে। মেয়াদোত্তীর্ণ আচার কিংবা ঝালমুড়ি যে কতটা বিষাক্ত ও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর সে ব্যাপারে অনেক শিক্ষক অভিভাবক সচেতন নন। এসব মুখরোচক ভেজাল খাবার থেকে শিশুদের ফিরিয়ে আনতে স্কুলে স্কুলে শিক্ষার্থীদের মাঝে সচেতনতা গড়ে তোলা জরুরি।

স্কুল কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় প্রশাসন চাইলে এসব ভেজাল খাবার বিকিকিনি বন্ধ করতে পারে। কিন্তু এ ধরনের কোনো উদ্যোগই দেখা যায় না। সবচেয়ে uh হলো, চিপস, বিস্কুট, চানাচুরসহ নানা শিশু খাদ্যে উৎপাদনের তারিখ এবং মেয়াদোত্তীর্ণের যে তারিখ দেয়া হয় তা অবাস্তব ও ত্রুটিপূর্ণ। একটি ১০/২০ টাকার বিস্কুট কিংবা ১০/২০ টাকা দামের চিপসের মেয়াদোত্তীর্ণের সময়সীমা থাকে এক দেড় বা দুই বছর। কোনো উন্নত দেশে এই নিয়ম নেই। কেবল ব্যতিক্রম আমাদের এই স্বদেশ।

এদেশে শিশু খাদ্যসহ নানা খাদ্যপণ্যের মেয়াদ উত্তীর্ণের সময়সীমা এত দীর্ঘ থাকে যে, এর আগেই খাদ্যপণ্যগুলোর গুণগত মেয়াদ ফুরিয়ে যায়। একটি খাদ্যপণ্যের মেয়াদ এক দেড় বা দুই বছর লেখা থাকে খাদ্যপণ্যের মোড়ক বা প্যাকেটে। অবাস্তব এই দীর্ঘ মেয়াদের কারণে খাদ্যপণ্যগুলো এর আগেই পচে যায়, নষ্ট হয়ে যায়। এ ধরনের বাসি মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার খেয়ে শিশুসহ সব বয়সী মানুষ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

খাদ্যপণ্য দেখভালের জন্য নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ বা বিএসটিআই নামে সরকারের একটি নিয়ন্ত্রণ সংস্থা আছে। খোদ এই সংস্থার বিরুদ্ধে বড় দুর্নীতি ও নানা অনিয়মের অভিযোগ আছে। উৎকোচ ও ঘুষের বিনিময়ে এই বিএসটিআই খাদ্যপণ্যের হালাল সনদ দেয়। মেয়াদোত্তীর্ণের সনদও দেয় এই সংস্থাটি। কিন্তু অনেক সময় এই সনদের কার্যকারিতা থাকে না। ঘুষের বিনিময়ে খাদ্যপণ্যের মেয়াদ লিখে দিয়েই দায় সারে বিএসটিআই। বাজার থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য তুলে নেয়া বা পণ্যের গুণমান কতটা রক্ষা করা হচ্ছে তা মোটেই তদারকি করা হয় না। ফলে এসব মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য খেয়ে জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়ছে।

অবাক ব্যাপার যে, ৩০ টাকা দামের এক কাপ আইসক্রিমের মেয়াদ লেখা থাকে এক দেড় বছর। ১৫০ টাকা দামের ৫০০ গ্রাম আইসক্রিম কিংবা ৩০০ টাকা দামের ১ লিটার আইসক্রিমের মেয়াদ লেখা থাকে এক-দেড় বছর। ফ্রিজে রাখা হলেও এই আইসক্রিম এক দেড় বছর পর্যন্ত অক্ষত, নিরাপদ ও খাওয়ার উপযোগী থাকবে তা কখনো কল্পনাই করা যায় না। এই আইসক্রিমের মুদ্রিত মেয়াদের সময়সীমা পেরুনোর আগেই তা খাবার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। অথচ তা আমরা নির্দ্বিধায় খেতে বাধ্য হচ্ছি। বিএসটিআই তা দেখেও না দেখার ভান করে। বাজারে তাদের তদারকি মোটেও লক্ষ্য করা যায় না। ফলে ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্যই যেন ভোক্তাদের একমাত্র ভরসা। বিএসটিআই যদি তাদের ওপর অর্পিত বাজার তদারকির দায়িত্ব পুরোপুরি পালন করতো তবে পরিস্থিতি এতটা অসহনীয় হয়ে উঠতো না। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিএসটিআই পুরোপুরি ব্যর্থ। মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য বাজার থেকে তুলে নিতে তারা মোটেই উদ্যোগী নয়। এ বিষয়ে পত্রিকায় অভিযোগ তুললে বিএসটিআইয়ের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা তাদের জনবলের অভাবকে দায়ী করে দায়মুক্ত হবার চেষ্টা করে। ভোক্তাদের জীবন-বাঁচার প্রশ্ন এই ভেজাল খাদ্যপণ্য। এটি অন্য দশটি সাধারণ সমস্যার মতো নয়। ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য যখন মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায় তখন তো নীরবতা পালনের কোনো সুযোগ নেই। এখানে বাঁচা-মরার প্রশ্ন জড়িত। বিএসটিআই কেন ভেজাল ও বিষে ভরা পণ্য বাজার থেকে তুলে নেবে না? কেন সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে এই সংস্থার নিস্পৃহ ভূমিকা আমাদের চেয়ে চেয়ে দেখতে হবে?

একটি পাউরুটির মেয়াদ রাখা হয় সাধারণত ৪/৫/৬ দিন। এই পাউরুটির মেয়াদ দুদিনের বেশি রাখা ঠিক নয় জেনেও পাউরুটি যারা তৈরি করে তারা অযৌক্তিক বাড়তি সময় গায়ে লিখে দেয়। এক প্যাকেট তরল দুধ ফ্রিজে রাখলেও দুই-তিনদিনের বেশি তরতাজা থাকার কথা নয়। তবুও দুধের মোড়কে ৫/৬/৭ দিন মেয়াদ লেখা থাকে। এমনকি মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়া সত্ত্বেও এই দুধ বা পাউরুটি ভোক্তাদের খাওয়ানো হচ্ছে নানা কৌশলে। পাউরুটির মেয়াদের লেবেল পাল্টে ফেলা যায়। বাসি পাউরুটি স্টিকার পাল্টে দিয়ে অবলীলায় ভোক্তাদের খাওয়ানো হচ্ছে। কে দেখবে এসকল অনিয়ম-অপরাধ!

শিশু খাদ্য হিসেবে টিনের যে দুধ পাউডার বাজারে সরবরাহ করা হয় তাও শতভাগ শিশুদের খাওয়ার উপযোগী নয়। নিম্ন মানের ভেজাল শিশু খাদ্য শিশুদের খেতে হচ্ছে। ফলে শিশুরা নানা জটিল কঠিন রোগের শিকার হচ্ছে। শুধু শিশুখাদ্য দুধ নয় বাজারে থাকা প্রায় সকল খাদ্যপণ্যে ভেজাল ধরা পড়ে সরকারি নানা অভিযানে। হলুদ মরিচ গরম মসলার গুঁড়ো, কলাসহ মৌসুমী ফল ছাড়াও বিভিন্ন ফলসহ ক্ষতিকারক উপাদান ব্যবহার করে। এমনকি মাছ মুরগী খাদ্যেও ভেজাল হচ্ছে। অনেক সময় দোকানদারদের সামান্য জরিমানা করে ছেড়ে দেয়া হয়। মাঝে মাঝে ভেজাল বিরোধী অভিযান সত্ত্বেও ভেজাল বিষে ভরা খাদ্যপণ্য থেকে আমাদের তবুও নিষ্কৃতি মেলে না। বাজারে যে নামকাওয়াস্তে অভিযান চালানো হয় তা যথেষ্ট নয়, বরং কালেভদ্রে এ অভিযানের কোনো সুফলই পায় না ভোক্তারা। আমাদের সমাজের কম-বেশি অনেকের নৈতিক মান অনেক নিচে নেমে এসেছে। অনেকেই ধর্মের রীতি-নীতি মেনে চলেন না। নীতি-নৈতিকতার ধার ধারে না অনেকেই। ফলে ব্যক্তি ও জাতীয় জীবনে অবক্ষয় প্রবণতা ক্রমেই বাড়ছে। খাদ্যে ভেজাল মেশানো নৈতিকতারই ঘাটতির জানান দেয়। অতএব, বাজার থেকে ভেজাল খাদ্যপণ্য তুলে নিতে বিএসটিআইসহ সকল সরকারি প্রতিষ্ঠানকে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে। এজন্য কঠোর আইন প্রণয়ন ও যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। বিএসটিআইয়ের জনবল বাড়িয়ে সংস্থাটিকে কার্যকর প্রতিষ্ঠানে রূপ দিয়ে ভেজাল খাদ্যপণ্য বিকিকিনি প্রবণতা রুখতে হবে। না হয় ভেজাল খেয়ে আধমরা-অর্ধমৃত মানুষ হিসেবে জীর্ণশীর্ণ হয়ে বেঁচে থাকা ছাড়া আমাদের কোনো উপায় থাকবে না।

লেখক : ফটো জার্নালিস্ট, প্রাবন্ধিক

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার পরিবেশন চমেক হাসপাতালের সামনে অভিযানে জরিমানা গুনল ৩ প্রতিষ্ঠান

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের সামনে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৫৩ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। বেশি দামে ডাব বিক্রি, অননুমোদিত ওষুধ সংরক্ষণ ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার পরিবেশনের অভিযোগে রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে এ জরিমানা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক মো. ফয়েজ উল্ল্যাহ।
জানা গেছে, অভিযানে রাইছা মেডিকেল হলকে ভারতীয় অননুমোদিত ওষুধ ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখার অভিযোগে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া বেশি দামে ডাব বিক্রি ও ক্রয়ভাউচার দেখাতে না পারায় নয়ন (৪২) নামের এক ব্যবসায়ীকে তিন হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার পরিবেশনের অভিযোগে ভান্ডারী হোটেলকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
অভিযানের সময় ডাবের দাম বেশি রাখার অভিযোগ করেন ক্রেতা মুহাম্মদ শহীদ। তিনি নগরের বহদ্দারহাট থেকে স্ত্রীকে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা করাতে চমেক হাসপাতাল-সংলগ্ন একটি হাসপাতালে এসেছিলেন।
মুহাম্মদ শহীদ বলেন, পরীক্ষা করানো শেষে ফেরার পথে ডাব কেনার ইচ্ছা ছিল তার। এ জন্য একটি দোকানে গেলে ডাবের দাম ১৫০ টাকা চাওয়া হয়। পরে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযান দল সেখানে পৌঁছালে ডাবের দাম কমিয়ে ১২০ টাকা করা হয়।
অভিযান শেষে উপ-পরিচালক মো. ফয়েজ উল্ল্যাহ সাংবাদিকদের বলেন, রোগীদের জন্য ডাবসহ বিভিন্ন ফলমূলের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়েছে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে ডাব বিক্রিতে অনিয়ম পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
রাইছা মেডিকেল হলে অননুমোদিত ওষুধ পাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটিতে ড্রাগ রেজিস্ট্রেশন (ডিআর) নম্বরবিহীন ভারতীয় ইনজেকশন পাওয়া গেছে। এর একটি হৃদ্রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় এবং অন্যটি বিষপানের রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয় বলে প্রতিষ্ঠানটি থেকে জানা গেছে। বাংলাদেশে এসব চিকিৎসার জন্য অনুমোদিত ওষুধ ও ইনজেকশন রয়েছে।
ফয়েজ উল্ল্যাহ বলেন, ডিআর নম্বর ছাড়া অননুমোদিত ওষুধ বিক্রির সুযোগ নেই। এ ধরনের ওষুধ নকলও হতে পারে, যার কার্যকারিতা না থাকার আশঙ্কা রয়েছে। এতে রোগীর জীবন ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করার পাশাপাশি সতর্ক করা হয়েছে।
ভান্ডারী হোটেলের বিষয়ে তিনি বলেন, সেখানে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ পাওয়া গেছে। এ জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
হাসপাতাল-সংলগ্ন দোকানগুলোতে স্যালাইনের সংকট ও বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে ফয়েজ উল্ল্যাহ বলেন, স্যালাইনের সংকট বা বেশি দামে বিক্রির বিষয়ে এখন পর্যন্ত তাদের কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযান চলাকালে দোকানগুলোতে ওষুধের সরবরাহও যথাযথ বলে মনে হয়েছে। তবে কোনো ভোক্তা প্রমাণসহ অভিযোগ করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, হাসপাতাল-সংলগ্ন এলাকায় ওষুধ বা ফলমূল কেনার সময় কোনো প্রতিষ্ঠান বেশি দাম নিলে কিংবা অন্য কোনো অনিয়ম করলে ভোক্তাদের প্রমাণসহ অধিদপ্তরে অভিযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযানে সহকারী পরিচালক মো. আনিছুর রহমানসহ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

পণ্যের দাম বেড়েছে কেজিতে ২ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত নজরদারি বাড়ানো জরুরি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের অন্যতম বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে পরিবহন খরচ বাড়ায় কয়েকটি পণ্যের দাম ইতোমধ্যে কেজিতে ২ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, সড়ক ও নৌপথে পণ্য পরিবহনের খরচ বেড়ে যাওয়ায় বাড়তি ব্যয়ের চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। ডিজেলের দাম এক লাফে লিটারে ২০ টাকা বাড়ার ধাক্কা পড়তে শুরু করেছে নিত্যপণ্যের বাজারে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, পণ্যের দাম বাড়ার পেছনে প্রধান কারণগুলোর একটি পরিবহন ব্যয়। শুধু সড়কপথ নয়, নৌপথেও বেড়েছে পরিবহন খরচ। খাতুনগঞ্জ থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পণ্য পাঠাতে লাইটারেজ জাহাজ ব্যবহার করা হয়। ডিজেলের দাম বাড়ায় এসব জাহাজের পরিচালন ব্যয়ও বাড়বে, যার প্রভাব পড়বে পণ্যের দামে।
খাতুনগঞ্জের একাধিক ব্যবসায়ী জানান, আগে যে ট্রাকটি চট্টগ্রামে পণ্য আনতে ২৫ হাজার টাকা ভাড়া নিত, ডিজেলের দাম বাড়ার পর সেই ভাড়া প্রায় ১০ হাজার টাকা বেড়েছে। অর্থাৎ ২৫ হাজার টাকার ভাড়া এখন প্রায় ৩৫ হাজার টাকা হয়েছে। বাড়তি এই পরিবহন ব্যয় শেষ পর্যন্ত পণ্যের দামের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।
খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আবু বক্কর বলেন, ডিজেলের দাম বাড়ায় পরিবহন ভাড়া ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে। আগে বগুড়া থেকে ট্রাকে করে পণ্য আনতে আমাদের সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা খরচ হতো। এখন সেটি প্রায় ১০ হাজার টাকা বেড়ে গেছে। একইভাবে নৌপথেও ভাড়া বেড়েছে। শুধু দেশের ভেতরে নয়, বিদেশ থেকে আমদানি করা পণ্য পরিবহনেও ব্যয় বেড়েছে।
খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েক দিনের ব্যবধানে বেশ কিছু নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। এর মধ্যে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ২ টাকা বেড়ে ৪০ টাকা, আদা ৩ টাকা বেড়ে ৯৫ টাকা এবং রসুন ৪ টাকা বেড়ে ১২২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভারতীয় লাল মরিচ ৫ টাকা বেড়ে হয়েছে ৩৫০ টাকা এবং ভারতীয় মিষ্টি মরিচ ৫ টাকা বেড়ে ৪৪০ টাকা হয়েছে। চিনির দামও কেজিতে ৩ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০২ টাকায়।
এ ছাড়া মোটা মসুর ডালের দাম ২ টাকা বেড়ে ৮০ টাকা, মুগ ডাল ৮ টাকা বেড়ে ১৫০ টাকা, মটর ডাল ২ টাকা বেড়ে ৫৪ টাকা এবং সাদা মটর ৩ টাকা বেড়ে ৫৪ টাকা হয়েছে। চিকন মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১৫৭ টাকা কেজি দরে। তবে ছোলার দাম এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ান ছোলা ৯৫ টাকা এবং ভারতীয় ছোলা ৯৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এর পাশাপাশি বেড়েছে ভোজ্যতেলের দামও।
এক ব্যবসায়ী নেতা বলেন, ডিজেলের প্রভাবে স্বাভাবিকভাবেই পণ্যের দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে যে হারে পরিবহন ভাড়া বেড়েছে, সে তুলনায় পণ্যের দাম এখনো স্থিতিশীলই আছে। কিন্তু মানুষের আয় না বাড়ায় কেনাকাটা কমেছে।
বাজারে যাতে অপ্রত্যাশিতভাবে কোনো পণ্যের দাম বাড়ানো না হয়, সেজন্য নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন। তিনি বলেন, জ্বালানির দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে এর প্রভাব শুরু হয়ে গেছে। শেষ পর্যন্ত বাড়তি খরচের চাপ ক্রেতার ওপরেই পড়ছে। সেজন্য বাজারে নজরদারি বাড়ানো জরুরি।

আলোচিত খবর

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছেছে । আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইড মিটিং এ দুই দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ বিষয়ে বক্তব্য স্পষ্ট, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ