চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীকে। দায়িত্ব পাওয়ার দুই বছরের মাথায় তাকে ওএসডি করে মহাখালী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে বদলি করা হয়েছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রামের নতুন সিভিল সার্জনের দায়িত্ব পেয়েছেন ডা. মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান।
বুধবার (১৯ আগস্ট) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের পার-২ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ রদবদলের বিষয়টি জানা যায়। যুগ্মসচিব সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে জনস্বার্থে জাহাঙ্গীর আলমকে বদলি এবং সাজেদুর রহমানকে নতুন দায়িত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ডা. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীকে মহাখালী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে কুমিল্লার বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ সাজেদুর রহমানকে চলতি দায়িত্বে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন করা হয়েছে। বদলি ও পদায়ন হওয়া কর্মকর্তাদের আগামী ২৪ আগস্টের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কেউ যোগদান না করলে ২৫ আগস্ট থেকে তাকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজ) বলে গণ্য করা হবে।
নতুন দায়িত্ব পাওয়া ডা. মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান এর আগে কুমিল্লার বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। চলতি দায়িত্বে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন হিসেবে তার পদায়নের মধ্য দিয়ে জেলার স্বাস্থ্য প্রশাসনে নতুন নেতৃত্বের যাত্রা শুরু হচ্ছে।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন হিসেবে দায়িত্ব পান ডা. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তার দায়িত্বকালে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের অধীনে স্বাস্থ্য সহকারীসহ ১৭১টি পদে নিয়োগ পরীক্ষা ঘিরে নানা অভিযোগ সামনে আসে।
নিয়োগ পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীদের সময়মতো এসএমএস না পাওয়া, ওএমআর শিট পূরণ নিয়ে বিভ্রান্তি এবং পরীক্ষা শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফল প্রকাশের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এসব ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক সমালোচনা হয়।
এছাড়া সিভিল সার্জন কার্যালয়ের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে সিভিল সার্জনের নাম ব্যবহার করে অর্থ আদায়ের অভিযোগও উঠেছিল। অভিযোগটি প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি কার্যালয়ের ভেতরে আপস-মীমাংসার মাধ্যমে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।
চট্টগ্রামের বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স প্রদান ও নবায়ন নিয়েও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ রয়েছে।