মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর আদর্শ অনুসরণেই ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রে শান্তি, ন্যায় ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন পটিয়ায় অনুষ্ঠিত পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) মাহফিলের বক্তারা। তাঁরা বলেন, মহানবী (সাঃ)-এর জীবন ও আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে নৈতিকতা, মানবিকতা, ভ্রাতৃত্ব ও পারস্পরিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

গতকাল ২১ আগস্ট, শুক্রবার, চট্টগ্রামের পটিয়ার দক্ষিণ হুলাইন, নিমতল, ইমাম হোসাইন সড়কে হযরত ইমাম হোসাইন (রাঃ) বহুমুখী ইসলামী কমপ্লেক্স ট্রাস্টের উদ্যোগে রহমাতুল্লিল আলামিন হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর শুভাগমন উপলক্ষে আয়োজিত ১২ দিনব্যাপী পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) মাহফিল-২০২৬-এর ৮ম দিনের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ট্রাস্টের পরিচালিত প্রতিষ্ঠানসমূহের উদ্যোগে এবং এলাকাবাসীর সার্বিক সহযোগিতায় আয়োজিত ৮ম দিনের কর্মসূচিতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, নাত-মুশায়েরা, বয়ান ও ধর্মীয় আলোচনা, ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, সালাতু সালাম, ফাতেহা ও জিয়ারতসহ বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার গাছবাড়িয়া কলেজ গেইটস্থ গাউছুল আজম শাহী জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মুহাম্মদ তাওফিক ইলাহী ক্বাদেরী।
প্রধান আকর্ষণ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চান্দগাঁওয়ের আল-হুমায়ারা (রাঃ) মহিলা ফাজিল মাদরাসার আরবী প্রভাষক হাফেজ মাওলানা নাজমুল হোসাইন মুনির।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাউছিয়া বজল আহমদ ফকির এতিমখানার সহ সভাপতি প্রকৌশলী মোঃ কুতুব উদ্দিন রোকন সাদা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গাউছিয়া বজল আহমদ ফকির এতিমখানার সভাপতি লোকমান হাকিম বি.কম.
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য সাংবাদিক মোঃ বাকি বিল্লাহ চৌধুরী। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন গাউছিয়া বজল আহমদ ফকির এতিমখানার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সার্ভেয়ার আইয়ুব আলী মিজান।পুরো আয়োজনটি হযরত ইমাম হোসাইন (রাঃ) বহুমুখী ইসলামী কমপ্লেক্স ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা ও পৃষ্ঠপোষক হযরাতুলহাজ্ব মাওলানা মুহাম্মদ আবু বাকার আল-কাদেরী (ম.জি.আ.)-এর পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
প্রধান আলোচকের বক্তব্যে মাওলানা মুহাম্মদ তাওফিক ইলাহী ক্বাদেরী বলেন, “মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর পবিত্র জীবন ও আদর্শ মানবজাতির জন্য সর্বোত্তম পথনির্দেশ। তাঁর আদর্শ ব্যক্তি ও পারিবারিক জীবন থেকে শুরু করে সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে বাস্তবায়ন করা গেলে শান্তি, ন্যায় ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠা সম্ভব।”
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে নৈতিক অবক্ষয় ও সামাজিক অস্থিরতা মোকাবিলায় নতুন প্রজন্মকে মহানবী (সাঃ)-এর জীবন ও আদর্শ সম্পর্কে জানাতে হবে। কোরআন-সুন্নাহর শিক্ষা হৃদয়ে ধারণ করে পরিবার ও সমাজে ইসলামী মূল্যবোধ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্যের চর্চা বাড়াতে হবে।
বক্তারা বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) সমগ্র মানবজাতির জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরিত হয়েছেন। তাঁর পবিত্র জীবন ছিল মানবিকতা, ন্যায়, ক্ষমাশীলতা, সহনশীলতা ও সৌহার্দ্যের অনন্য দৃষ্টান্ত। তাঁর শিক্ষা ও আদর্শ অনুসরণ করলে সমাজ থেকে হিংসা, বিদ্বেষ, অন্যায় ও অশান্তি দূর করে একটি সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
বক্তারা আরও বলেন, শিশু-কিশোর ও তরুণ প্রজন্মকে ইসলামী শিক্ষা ও মহানবী (সাঃ)-এর জীবনাদর্শের সঙ্গে পরিচিত করে তুলতে হবে। শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে মহানবী (সাঃ)-এর আদর্শকে ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক জীবন ও সামাজিক জীবনে বাস্তবায়ন করতে হবে।
মাহফিলকে ঘিরে স্থানীয় আলেম-ওলামা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, মুসল্লি, অভিভাবকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ধর্মপ্রাণ মানুষের উপস্থিতি ছিল। দিনব্যাপী কর্মসূচিতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, নাত-মুশায়েরা, বয়ান-আলোচনা, ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, সালাতু সালাম, ফাতেহা ও জিয়ারত অনুষ্ঠিত হয়।
আয়োজকরা জানান, ১২ দিনব্যাপী এ মাহফিলের ১২তম ও সমাপনী দিনের কর্মসূচি আগামী ২৫ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে। সমাপনী দিনে বোখারী শরীফ পাঠ, খতমে ছহীহ্, দস্তারবন্দী, মিলাদ, নাতে রাসুল (সাঃ) ও বিশেষ ধর্মীয় আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে দেশ, জাতি, মুসলিম উম্মাহ এবং বিশ্বমানবতার শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করবেন হযরাতুলহাজ্ব মাওলানা মুহাম্মদ আবু বাকার আল-কাদেরী (ম.জি.আ.)।