
দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে গঠিত হয়েছে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ। নবগঠিত ১৪ সদস্যের পরিষদে নতুন সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন কাউখালী উপজেলার বেতবুনিয়া পশ্চিম সোনাইছড়ির সন্তান এবং বিএনপি নেতা পাইচিং মং মারমা।
রাজনৈতিক জীবনে পাইচিং মং মারমা ১৯৮৮ সাল থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে গড়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন ও উপজেলা বিএনপির সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করছে। তৎকালীন সময়ে কাউখালী উপজেলায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায় থেকে তিনিই প্রথমদিকের একজন হিসেবে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হন। পরবর্তীতে তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করেন।
বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার কারণে বিগত সরকারের সময়ে তাঁকে একাধিক মামলার আসামি হতে হয়েছে এবং দীর্ঘ সময় কারাবরণ করতে হয়েছে বলে দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। রাজনৈতিক জীবনের নানা প্রতিকূলতার পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনেও কঠিন সময় পার করেছেন তিনি। কারাবন্দি থাকার সময় তাঁর একমাত্র ছেলে ও আপন ছোট ভাইকে হারাতে হয়। পরিবারের এই মর্মান্তিক শোকও তাঁকে রাজনৈতিক আদর্শ থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি বলে স্থানীয়রা জানান।
পাইচিং মং মারমার জেলা পরিষদের সদস্য পদে দায়িত্ব পাওয়ার খবরে কাউখালী উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে সন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ত্যাগ, নির্যাতন ও প্রতিকূলতার পর তাঁর এই মূল্যায়ন প্রাপ্য ছিল।
তাঁকে জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন কাউখালী উপজেলাবাসী।
নতুন দায়িত্ব পাওয়ার অনুভূতি জানতে চাইলে পাইচিং মং মারমা বলেন, সৃষ্টিকর্তার কাছে আশীর্বাদ চাই এবং আমাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তা যেন সঠিকভাবে পালন করতে পারি—সেই প্রার্থনা করি। সবসময় জনগণের পাশে থাকতে চাই। জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবে পাওয়া দায়িত্বটি আমি রাঙ্গামাটির সাধারণ মানুষের প্রতি উৎসর্গ করলাম।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নতুন দায়িত্বে পাইচিং মং মারমা রাঙ্গামাটির সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করবেন এবং বিশেষ করে পিছিয়ে থাকা পাহাড়ি-বাঙালি জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবেন।