
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ভারত তার সাংবিধানিক সুরক্ষা ব্যবস্থা, আইনি কাঠামো, বহুত্ববাদ এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় নেওয়া পদক্ষেপগুলো তুলে ধরেছে।নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় ইউএনসিইআরডির পর্যবেক্ষণের জবাব দেবে ভারত।ইউএনসিইআরডির পর্যালোচনা বৈঠকেই ঢালাও মন্তব্যকে ভিত্তিহীন অভিযোগ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে ভারতীয় প্রতিনিধিদল।জাতিসংঘের এই কমিটি ১৮ জন স্বাধীন মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ নিয়ে গঠিত।
প্রতিবেদনে ২০১৭ সালে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি আদেশ এবং ২০২৫ সালের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার পরবর্তী পরিস্থিতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। কমিটির দাবি, এসব ঘটনার পর রোহিঙ্গা, বাংলাভাষী মুসলিম, অভিবাসী ও আশ্রয়প্রার্থীদের লক্ষ্য করে অভিযান, আটক ও হয়রানি বেড়েছে। এছাড়াওজাতিসংঘে ভারতের এপ্রতিবেদনটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিদ্বেষপূর্ণ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
জাতিসংঘের বর্ণবৈষম্য বিলোপ কমিটি (ইউএনসিইআরডি)ভারতে বাংলাভাষী মুসলিম, দলিত, তফসিলি জাতি ও রোহিঙ্গাসহ বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর ওপর হামলা, বৈষম্য ও নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানায়, ভারতের বিপুলসংখ্যক মানুষের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন।
ইউএনসিইআরডির প্রতিবেদনে জাতিগত বিদ্বেষ থেকে সহিংসতা, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, বিচারবহির্ভূত হত্যা, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া আটক, নির্যাতন, দুর্ব্যবহার ও যৌন সহিংসতার মতো অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে।এ ছাড়া জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে মানুষকে রাস্তায় থামিয়ে তল্লাশি, আটক এবং আন্তর্জাতিক সুরক্ষার প্রয়োজন থাকা ব্যক্তিদের জোরপূর্বক নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর অভিযোগ নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে কমিটি।
এসব ঘটনা বন্ধে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষায় ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইউএনসিইআরডি। একই সঙ্গে কোনো জনগোষ্ঠীকে সম্মিলিতভাবে দেশ থেকে বহিষ্কার না করারও আহ্বান জানানো হয়েছে।