
আনন্দবাজার পত্রিকার প্রধান কার্যালয়ের সামনে হামলে পড়ে বিজেপি সমর্থিতরা। একদল গেরুয়া বসনধারী ও পাগড়ি পরিহিত বিক্ষোভকারী ভবনের মূল ফটকের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং প্রবেশদ্বারের দুটি থামে গেরুয়া রঙ লেপে দেন।পুলিশ সেখানেন থাকলেও তারা এই বিক্ষোভকারীদের সংবাদপত্র অফিসে হামলা চালাতে বাধা দেয়নি।
গত ২০ আগস্ট যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে একটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরদিন ২১ আগস্ট আনন্দবাজার পত্রিকা তাদের প্রথম পাতার প্রধান শিরোনামে ‘গেরুয়া গুন্ডামি’ শব্দটি ব্যবহার করে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এই শব্দচয়ন এবং শিরোনামের তীব্র সমালোচনা করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি দাবি করেন, আনন্দবাজার পত্রিকাকে এই শিরোনাম প্রত্যাহার করতে হবে এবং ক্ষমা চাইতে হবে, অন্যথায় গেরুয়া বসন পরে এর প্রতিবাদ জানানো হবে।
এর পরেই হিন্দু জাগরণ মঞ্চ নামে একটি সংগঠন পত্রিকার সম্পাদকের বিরুদ্ধে বউবাজার থানায় একটি এফআইআর দায়ের করে। এদিন দুপুরে একটি উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের নামে কয়েকজন বিক্ষোভকারী প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিটে হোয়াইট হাউজ নামে খ্যাত আনন্দবাজারের মূল ভবনের সামনে জড়ো হয়েছিলেন। পুলিশের উপস্থিতির মধ্যেই ভবনের মূল ফটকের উপরে গেরুয়া একটি উত্তরীয় ঝুলিয়ে দিয়ে তারা বিক্ষোভ করেন।
বিক্ষোভকারীদের বক্তব্যে জানান, আনন্দবাজার পত্রিকা সরকারের সমালোচনা করতেই পারে, মুখ্যমন্ত্রীর সমালোচনাও করতে পারে। কিন্তু গেরুয়া রংকে অসম্মান করার অধিকার কারও নেই। পুলিশের কথা মেনে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানাচ্ছি। শুধরে না-নিলে পরে বড় প্রতিবাদ হবে।কিছুক্ষণ অবস্থানের পরে মূল ফটকের পাশের দুই থামে গেরুয়া রঙ লাগিয়ে ‘আনন্দবাদজার হায় হায়’ স্লোগান দিতে দিতে বিক্ষোভকারীরা চলে যান।
এদিকে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে পত্রিকা কর্তৃপক্ষ। ঘটনার পর আনন্দবাজার পত্রিকার সম্পাদক ঈশানী দত্ত রায় ফেসবুকে একটি পোস্টে বলেছেন, গেরুয়া রঙ লেপে দেওয়া দেয়ালটি আবারও সাদা রঙে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তিনি ছবিটির ক্যাপশনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা থেকে উদ্ধৃত করে লেখেন— উচ্চ যেথা শির।