চট্টগ্রাম ওয়াসার সাথে নিরাপদ খাবার পানির এটিএম বুথ স্থাপনে চুক্তি

চট্টগ্রাম ব্যুরো

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম নগরীতে পানি সরবরাহ বিশেষ করে নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠী, পানি সংকটাপন্ন এলাকা এবং নিরাপদ খাবার পানির সীমিত সুবিধাপ্রাপ্ত জনগোষ্ঠীর জন্য এটিএম বুথ স্থাপনের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম ওয়াসা ও ওয়াটারএইড বাংলাদেশের সাথে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম ওয়াসার বোর্ড কক্ষে এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। চুক্তিতে চট্টগ্রাম ওয়াসার পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম এবং ওয়াটার এইড বাংলাদেশ এর পক্ষে কান্ট্রি ডিরেক্টর আজমান আহমেদ চৌধুরী স্বাক্ষর করেন।
চুক্তির আওতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হচ্ছে পানির এটিএম বুথ স্থাপন। মহানগরীর যেসব এলাকায় পানির সংকট রয়েছে এবং যেখানে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য নিরাপদ ও সাশ্রয়ী খাবার পানির প্রয়োজন রয়েছে, সেখানে পানির এটিএম বুথ স্থাপনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে নিরাপদ পানি আরও সহজলভ্য করাই হলো এই চুক্তির মুল উদ্দেশ্যে।

চুক্তি অনুযায়ী ওয়াটারএইড বাংলাদেশ চট্টগ্রাম ওয়াসার পাম্প বা সরবরাহ লাইনের পানির গুণগত মান মূল্যায়ন করবে এবং পানির গুণগত মানের প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত পানি শোধন ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা চিহ্নিত ও ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। চট্টগ্রাম ওয়াসার সহায়তায় পাইলট সময়কালে এটিএম বুথগুলোর জন্য কেবল জমি প্রদান করবে; সমস্ত ক্যাপিটাল ইকুইপমেন্ট (মূলধনী যন্ত্রপাতি) ওয়াটারএইড বাংলাদেশ দ্বারা অর্থায়ন করা হবে। জায়গা প্রাপ্তিতে সমস্যা হলে আলোচনা সাপেক্ষে সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিকট থেকে জায়গা গ্রহণের বিষয়ে ওয়াটারএইড বাংলাদেশ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। অনুমতি ব্যতীত সরাসরি খুচরা পানি বিক্রি এবং বিতরণ করতে পারবে না; বুথগুলোতে সমস্ত পানি বিক্রি অবশ্যই সরাসরি ওয়াটারএইড বাংলাদেশ অনুমোদিত কর্মী বা স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত করতে হবে। আনুমানিক ১০০টি ওয়াটার এটিএম বুথ চালু না হওয়া পর্যন্ত পাইলট পর্যায়টি চলবে।

ওয়াটার এইড বাংলাদেশ একটি সার্ভিস লেভেল এগ্রিমেন্ট (এসএলএ) গ্যারান্টি দিবে যার অধীনে যেকোনো অপ্রত্যাশিত যান্ত্রিক ত্রুটি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সমাধান করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যদি কোনো বুথ ৭২ ঘণ্টার বেশি সময় বন্ধ থাকে, তবে জনসাধারণের ভোগান্তি কমাতে ওয়াটারএইড বাংলাদেশ একটি বিকল্প সাময়িক পানি বিতরণ ব্যবস্থা চালু করতে হবে।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম বলেন, চট্টগ্রাম ওয়াসা ও ওয়াটারএইড বাংলাদেশ শুধু একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করছে না, বরং চট্টগ্রাম নগরীর পানি সেবাকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জনবান্ধব করার লক্ষ্যে আগামী তিন বছরের একটি যৌথ পথচলার সূচনা করছে। নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠী, পানি সংকটাপন্ন এলাকা এবং নিরাপদ খাবার পানির সীমিত সুবিধাপ্রাপ্ত জনগোষ্ঠীর এই অংশীদারিত্ব চুক্তি অত্যন্ত সময়োপযোগী। আমি মনে করি, পানির এটিএম বুথ শুধু পানি সরবরাহের একটি ব্যবস্থা নয়। এটি মানুষের প্রয়োজনের জায়গায় নিরাপদ পানি পৌঁছে দেওয়ার একটি কার্যকর উদ্যোগ।

বিশেষ করে যেসব মানুষ প্রতিদিন পানির জন্য অতিরিক্ত অর্থ ও সময় ব্যয় করেন, তাদের জন্য এই উদ্যোগ বাস্তব উপকার বয়ে আনবে। এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে পরবর্তীতে নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর জন্য গভীর নলকূপ স্থাপন এবং যেসব এলাকায় লবণাক্ততার কারণে নিরাপদ খাবার পানির সংকট রয়েছে, সেখানে রিভার্স অসমোসিস (আরও) প্রযুক্তির মাধ্যমে পানি সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হবে। চট্টগ্রাম ওয়াসার বিলিং সিস্টেমকে উন্নত ও গতিশীল করতে বিলিং অ্যাপস তৈরি, ওয়াসার পানির লাইন সম্প্রসারণ সহ আরো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এতে ওয়াটার এইড বাংলাদেশ এর পক্ষে কান্ট্রি ডিরেক্টর আজমান আহমেদ চৌধুরী বলেন, আজকের এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে চট্টগ্রাম ওয়াসা ও ওয়াটারএইড বাংলাদেশের -এর মধ্যে সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হবে এবং এর সুফল সরাসরি চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাবে। অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (অর্থ) শারমিন আক্তার বলেন, পানি সেবা শুধু অবকাঠামো নির্মাণের বিষয় নয়। এর সঙ্গে মানুষের স্বাস্থ্য, জীবনযাত্রার মান এবং সামাজিক নিরাপত্তা সরাসরি সম্পৃক্ত। তাই পানি সংকটাপন্ন ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে। ওয়াটার এইড বাংলাদেশের চট্টগ্রাম নগরীর পানি ও স্যানিটেশন খাতে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, মাঠপর্যায়ের কাজ এবং কমিউনিটির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা ওয়াসার জন্য অত্যন্ত মূল্যবান। এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আমরা আমাদের অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতাকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগালে জনগণ সরাসরি উপকৃত হবে বলে আমি আশাবাদী।

আরো উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম ওয়াসার উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (প্রশাসন) শারমিন আলম, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (প্রকৌশল) বিষ্ণু কুমার সরকার, সচিব শাহিদা ফাতেমা চৌধুরী, বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক সাজিয়া পারভীন, প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম, প্রধান রজাস্ব কর্মকর্তা রুমন দে সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ। ওয়াটার এইড বাংলাদেশ এর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রোগ্রাম অ্যান্ড পলিসি অ্যাডভোকেসি ডিরেক্টর পার্থ হেফাজ সেখ, টেকনিক্যাল ডিরেক্টর মোঃ তাহমিদুল ইসলাম, জোনাল লিড বাবুল বালা সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের সাইবার নিরাপত্তা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সাইবার অপরাধ তদন্তে ডিজিটাল আলামত পরীক্ষা ও বিশ্লেষণের জন্য চট্টগ্রামে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সাইবার পুলিশ সেন্টার উদ্বোধন করা হলেও এর কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে শুরু হয়নি। ফরেনসিক ইউনিটে মাত্র ৯ জন কর্মকর্তা যোগ দিয়ে প্রাথমিক কাজ শুরু করেছেন। তবে সাইবার ইউনিটের প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ ও পদায়ন প্রক্রিয়া চলমান থাকায় কেন্দ্রটির পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। ফলে চট্টগ্রাম অঞ্চলে সাইবার অপরাধ তদন্তে ডিজিটাল আলামত পরীক্ষার জন্য ঢাকার ওপর নির্ভরতা এখনো কাটেনি। চট্টগ্রামে পূর্ণাঙ্গ সাইবার পুলিশ সেন্টার চালু হলে বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের সাইবার নিরাপত্তা বহুলাংশে নিশ্চিত হবে বলেও সূত্র মন্তব্য করেছে।

এর আগে গত ১৪ অক্টোবর নগরের খুলশী থানাধীন দামপাড়া পুলিশ লাইনের ভেতরে সিআইডি কার্যালয়ের পাশে সাইবার পুলিশ সেন্টার উদ্বোধন করা হয়। চট্টগ্রাম ও আশপাশের অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান সাইবার অপরাধের তদন্তে গতি আনা এবং ডিজিটাল আলামত পরীক্ষার জন্য ঢাকামুখী নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্য নিয়ে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু উদ্বোধনের পরও প্রয়োজনীয় জনবল ও আনুষঙ্গিক প্রস্তুতি সম্পন্ন না হওয়ায় কেন্দ্রটির কার্যক্রম এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।

জানা গেছে, সেন্টারটি পুরোদমে চালু হলে সাইবার অপরাধ তদন্তে ডিজিটাল আলামত বিশ্লেষণের জন্য ঢাকার ওপর নির্ভরতা একেবারে কমে আসবে। সাইবার অপরাধ তদন্তে মুঠোফোন, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, হার্ডডিস্ক ও মেমোরি কার্ডের মতো যন্ত্র গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে বিবেচিত হয়। এসব যন্ত্রে থাকা তথ্য বিশ্লেষণ করে অপরাধের ধরন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যোগাযোগ এবং ঘটনার ধারাবাহিকতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। মুছে ফেলা তথ্যও বিশেষায়িত প্রযুক্তির সাহায্যে উদ্ধার করা সম্ভব হতে পারে। এতদিন এসব আলামত পরীক্ষার জন্য চট্টগ্রামের তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ঢাকার ওপর নির্ভর করতে হতো।

সরেজমিনে দেখা গেছে, চট্টগ্রামে স্থাপিত চারতলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় ফরেনসিক রিসেপশন, মোবাইল ফরেনসিক ল্যাব ও প্রি-ট্রিটমেন্ট ল্যাব রয়েছে। এসব সুবিধা কাজে লাগিয়ে ডিজিটাল আলামত গ্রহণ, পরীক্ষা ও বিশ্লেষণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালু না হওয়ায় এর সব সক্ষমতা এখনো কাজে লাগানো যাচ্ছে না। গত সেপ্টেম্বরে নগরের খুলশী এলাকার একটি আটতলা ভবন থেকে ৬৩ জন বিদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে মুঠোফোন ও ল্যাপটপসহ ১৭০টি ডিভাইস জব্দ করা হয়েছিল। সাইবার সুরক্ষা আইনে করা ওই মামলায় ডিভাইসগুলো পরীক্ষা করে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য জানার প্রয়োজন রয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাইবার ট্রাইব্যুনালে বর্তমানে ১ হাজার ১১টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ৯৬৭টি বিচারাধীন। চট্টগ্রাম রেঞ্জের ১১ জেলায় গত জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সাইবার আইনে ৫০টি মামলা হয়েছে।

সাইবার পুলিশ সেন্টারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছিলেন, দেশের আটটি বিভাগীয় সদর দপ্তরে দ্রুত ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপন করা হবে। সাইবার অপরাধ শনাক্ত ও দমনে এসব ল্যাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সিআইডি চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিশেষ পুলিশ সুপার মো. সালাহ উদ্দিন বলেন, সাইবার ইউনিটের কার্যক্রম এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে শুরু হয়নি। ফরেনসিক ইউনিটের নয়জন কর্মকর্তা যোগ দিয়েছেন এবং তারা প্রাথমিকভাবে কাজ করছেন। তবে সাইবার ইউনিটের জনবল নিয়োগ ও পদায়ন প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এ কার্যক্রম দ্রুত শুরু হবে বলে আশা করছি। বর্তমানে যেসব কাজ আসছে, সেগুলো ঢাকার সংশ্লিষ্ট ইউনিটের সঙ্গে সমন্বয় করে সম্পন্ন করা হচ্ছে। জনবল ও প্রয়োজনীয় সেটআপ পুরোপুরি প্রস্তুত হলে চট্টগ্রামে পূর্ণাঙ্গভাবে সাইবার ইউনিটের কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, বর্তমানে যেসব কাজ আসছে, সেগুলো ঢাকার সংশ্লিষ্ট ইউনিটের সঙ্গে সমন্বয় করে সম্পন্ন করা হচ্ছে। জনবল ও প্রয়োজনীয় সেটআপ পুরোপুরি প্রস্তুত হলে চট্টগ্রামে পূর্ণাঙ্গভাবে সাইবার ইউনিটের কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সাইবার পুলিশ সেন্টারের অবকাঠামো ও পরীক্ষাগার স্থাপন ডিজিটাল অপরাধ তদন্তে স্থানীয় সক্ষমতা তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে এর কার্যকর সুফল পেতে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি সম্পন্ন করা এবং নিয়মিতভাবে আলামত পরীক্ষা ও বিশ্লেষণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। তা না হলে কেন্দ্রটি স্থাপনের মাধ্যমে যে দ্রুত ও স্থানীয় পর্যায়ে সাইবার অপরাধ তদন্তের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা পূরণে বিলম্ব হতে পারে।

চট্টগ্রাম রেঞ্জের ১১ জেলায় একদিনে গ্রেফতার-৯৯০

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কিশোর গ্যাং, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও মাদকবিরোধী অভিযানে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ১১ জেলায় ২৪ ঘণ্টায় ৯৯০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একইসময়ে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে ৫৪৫ জনকে আটক করা হয়েছে। চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের ২৪ ঘণ্টার গ্রেপ্তার ও উদ্ধারসংক্রান্ত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রাম রেঞ্জ থেকে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। এ ছাড়া কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের ২০ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে নিয়মিত মামলায় ৯৬ জন, আগের মামলায় ৬৩ জন, পুলিশ অ্যাক্টের ৩৪ ধারায় ২৮ জন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় ১১ জন এবং ১৫১ ধারাসহ অন্যান্য আইনে ৩৯ জন রয়েছেন। এ ছাড়া পরোয়ানামূলে ১৪৬ জন, সাজা পরোয়ানামূলে ১৮ জন এবং মাদক মামলায় ৪৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।মাদক মামলায় গ্রেপ্তার ৪৪ জনের মধ্যে দুজন মাদক বহনকারী এবং ৪২ জন মাদকসেবী। পাশাপাশি নিয়মিত ও অন্যান্য মামলায় মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে আরও ৪৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।অভিযানে মোট ৯১ জনকে গ্রেফতারের তথ্যও দেওয়া হয়েছে।
এদিকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সদস্য সন্দেহে ২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে নোয়াখালীতে আটজন, চট্টগ্রামে চারজন, কুমিল্লায় তিনজন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চাঁদপুরে দুজন করে এবং ফেনীতে একজন রয়েছেন।

অন্যদিকে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৫৪৫ জনের মধ্যে ৩৬৯ জনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। বাকি ১৭৬ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জেলাভিত্তিক হিসাবে কুমিল্লায় সর্বোচ্চ ২৭৫ জনকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া লক্ষ্মীপুরে ৫৪ জন, নোয়াখালীতে ৫০, চাঁদপুরে ৪৩, ফেনীতে ৪০, চট্টগ্রামে ৩৬, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২৫, খাগড়াছড়িতে ১২, কক্সবাজারে ৯ এবং রাঙামাটিতে একজনকে আটক করা হয়েছে।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে; চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করে শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম নগরের জেএম সেন হলে শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করে অংশ নেননি। সবার লক্ষ্য ছিল দেশকে স্বাধীন করা, গণতন্ত্র রক্ষা করা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।তিনি বলেন, আমরা মুসলমান হই, হিন্দু হই, বৌদ্ধ হই কিংবা খ্রিস্টান হই, ধর্ম আমাদের নিজস্ব বিষয়। কিন্তু আমরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশের নাগরিক।

যে ধর্মেরই হই না কেন, যেহেতু এই দেশে আমরা জন্মেছি, এই দেশে বড় হচ্ছি, তাই আমাদের পরিচয় আমরা বাংলাদেশি।তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে লাখ লাখ মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।

অনেকে শহীদ হয়েছেন। সেদিন কেউ দেখেননি কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ কিংবা কে খ্রিস্টান। সবাই দেশকে স্বাধীন করার লক্ষ্য নিয়ে লড়াই করেছেন। একইভাবে বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষা ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা না করে রাজপথে নেমেছেন।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই সময় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলেন। নারী-পুরুষ, শিশু, তরুণসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ আন্দোলনে অংশ নেন। গুলিবিদ্ধ কিংবা আহত ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয় জানতে চেয়ে কেউ তাঁদের পাশে দাঁড়াননি। হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রেও ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, আমার ভাই শহীদ হয়েছে, আমার ভাই আহত হয়েছে। বাকিরা তাঁদের ধরাধরি করে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। কেউ জিজ্ঞেস করেননি, কী তাঁর ধর্ম পরিচয়। এসব ঘটনা প্রমাণ করে, মানুষের অধিকার ও মানবিকতার প্রশ্নে ধর্মীয় পরিচয় মুখ্য নয়।প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ কিংবা সংখ্যালঘু পরিচয়ের ভিত্তিতে নাগরিকদের বিচার করা উচিত নয়।

তিনি নিজেকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বলেন, রাজনৈতিক কারণে তাঁকে দীর্ঘদিন বিদেশে থাকতে হয়েছে। বাংলাদেশে তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মের অনুসারী হলেও লন্ডনে অবস্থানের সময় সেই পরিচয় তাঁকে সংখ্যাগরিষ্ঠ করেনি। তাই সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু পরিচয় নয়, একজন মানুষ বাংলাদেশের নাগরিক কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

তারেক রহমান বলেন, দেশের আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। রাষ্ট্র একজন নাগরিককে যে অধিকার ও সুযোগ দেবে, অন্য নাগরিকও তা পাবেন। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কারও অধিকার খর্ব করা যাবে না।

মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব আন্দোলনে যাঁরা জীবন দিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যাশা ছিল এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে সবাই শান্তিতে বসবাস করবেন এবং মিলেমিশে থাকবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে যদি সেই বাংলাদেশ গড়তে হয়, আপনাদের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি আপনাদের সকলের সহযোগিতা চাই। আপনি হিন্দু হোন, মুসলমান হোন, বৌদ্ধ হোন কিংবা খ্রিস্টান হোন, যাই হোন না কেন, আপনার সহযোগিতা আমার দরকার। কারণ আপনার সহযোগিতা ছাড়া আমরা সেই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব না।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীমসহ বিভিন্ন সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য ও নেতারা।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ