সংক্ষিপ্ত জীবনী

মহান ১০ আশ্বিন খলিফায়ে গাউসুল আযম মাইজভাণ্ডারী, ফানাফিল্লা-বাকাবিল্লা হযরত মাওলানা শাহ সুফি সৈয়দ আল্লামা রিজুয়ান উদ্দীন মাইজভাণ্ডারী (রহঃ) প্রকাশ শাহনগরীর ৯৮তম বার্ষিক ওরশ শরিফ

শেখ মুহাম্মদ ইসমাইল, সংগঠক ও সমাজকর্মী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশে প্রবর্তিত একমাত্র তরিকা, তরিকায়ে মাইজভাণ্ডারীয়ার মহান প্রবর্তক, আহলে বাইতে রাসূল, ইমামুল আউলিয়া, খাদেমুল অলদ, গাউসুল আযম হযরত মাওলানা শাহ সুফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারী (কঃ)-এর অন্যতম খলিফা, ফানাফিল্লাহ-বাকাবিল্লাহ, মাওলানা শাহ সুফি সৈয়দ আল্লামা রিজুয়ান উদ্দীন মাইজভাণ্ডারী (রহঃ), প্রকাশ শাহনগরী কেবলা।

আল্লামা রিজুয়ান উদ্দীন শাহনগরী (রহঃ) ১৮৫৩ খ্রিষ্টাব্দে ফটিকছড়ি উপজেলার ১৩নং লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মাওলানা আব্দুল করিম। মাওলানা আব্দুল করিম একজন আলেম ও কামেল আউলিয়া ছিলেন, যাঁর অসংখ্য কেরামত রয়েছে বলে লোকমুখে শুনা যায়।

আল্লামা শাহনগরীর পূর্বপুরুষ ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে সুদূর আরব থেকে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির আব্দুল্লাহপুরে এসে বসবাস শুরু করেন। পরবর্তীতে আল্লামা শাহনগরীর পূর্বপুরুষেরা ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে (মসজিদের ইমামতি) করার সুবাদে শাহনগর গ্রামে বসবাস স্থাপন করেন।

আল্লামা রিজুয়ান উদ্দীন শাহনগরী শৈশবে শাহনগর গ্রামে প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। পরে উচ্চশিক্ষার জন্য কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি হন। কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসা থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে উচ্চ ডিগ্রি অর্জন করেন এবং গোল্ড মেডালিস্ট লাভ করেন।

পড়ালেখা শেষ করে আধ্যাত্মিক জ্ঞান অর্জনের জন্য হুজুর গাউসুল আযম হযরত মাওলানা শাহ সুফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারী (কঃ)-এর হাতে বায়াত গ্রহণ করে বেলায়েত অর্জন করেন এবং কঠোর রিয়াজতে মশগুল থাকেন।

তিনি দুনিয়াবি লোভ-লালসা ত্যাগ করে খোদার প্রেমে এতটাই মগ্ন ছিলেন যে, নিজের ঘরবাড়ি ছেড়ে চট্টগ্রাম হাটহাজারী থানার অন্তর্গত ফরহাদাবাদ ও শফিনগর এলাকায় রিয়াজতের মাধ্যমে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেন। তিনি কঠিন সাধনা করেন এবং তাঁর পীর হুজুর গাউসুল আযম হযরত মাওলানা শাহ সুফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারী (কঃ) এবং পরবর্তীতে ইউসুফে সানী হযরত মাওলানা শাহ সুফি সৈয়দ গোলামুর রহমান মাইজভাণ্ডারী, প্রকাশ বাবা ভাণ্ডারী (কঃ)-এর কাছ থেকে বেলায়েত অর্জন করে বেলায়েতের উচ্চ মোকামে গিয়ে পৌঁছেন।

তাঁর বেলায়েতের মোকাম এত উঁচু ছিল যে, যখন আল্লামা শাহনগরী বাবা ভাণ্ডারী (কঃ)-এর হুজরা শরিফে প্রবেশ করতেন, তখন বাবা ভাণ্ডারী (কঃ) তাঁকে দাঁড়িয়ে সম্মান করতেন এবং হুক্কা মোবারক গ্রহণ করার জন্য আরজ করতেন। কিন্তু আল্লামা শাহনগরী বাবা ভাণ্ডারীর হুক্কা মোবারকে সম্মান প্রদর্শন করে (চুমু দিয়ে) বাবা ভাণ্ডারীকে বলতেন—
“আপনি হচ্ছেন সুলতানের সুলতান, আর আমি হচ্ছি গোলামের গোলাম।”
এই কথা বলে তিনি বাবা ভাণ্ডারী (কঃ) থেকে বিদায় নিয়ে চলে আসতেন।

আল্লামা শাহনগরীর শান বর্ণনা করতে গিয়ে খলিফায়ে গাউসুল আযম মাইজভাণ্ডারী হযরত মাওলানা মোছহাব উদ্দীন শাহপুরী (রহঃ) বলেন—
“মাননীয় শাহনগরী আউলিয়ার প্রধান,
উলমা দপ্তরে আর গৌরব তাঁহান।”
— রত্নভাণ্ডার

আল্লামা শাহনগরী (রহঃ) দীর্ঘদিন আল্লাহর রিয়াজতে কঠোর সাধনার মাধ্যমে অতিবাহিত করেন। তাঁর সঙ্গে অসংখ্য আউলিয়া কেরাম চলাফেরা করতেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম খলিফায়ে গাউসুল আযম মাইজভাণ্ডারী মুফতিয়ে আজম সৈয়দ আমিনুল হক ফরহাদাবাদী (রহঃ) মাওলানা বজলুল করিম মন্দাকিনী (রহঃ), মাওলানা রহম আলী (রহঃ), মাওলানা করম আলী (রহঃ), মাওলানা আব্দুল হাদী কাঞ্চনপুরী (রহঃ) সহ অসংখ্য আউলিয়া কেরাম ছিলেন।

লোকমুখে আল্লামা শাহনগরীর অসংখ্য কেরামতের কথা শোনা যায়। তার মধ্যে একটি ঘটনা উল্লেখযোগ্য—
ফটিকছড়ি সিনিয়র মাদ্রাসার সম্মানিত প্রতিষ্ঠাতা হযরত মাওলানা আমিনুল্লাহ সুন্দরপুরী (রহঃ) একদিন ভক্তবৃন্দসহ কোনো এক মাহফিল থেকে আসার সময় পথিমধ্যে আল্লামা শাহনগরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়। আল্লামা শাহনগরী দাঁড়িয়ে ছিলেন। মাওলানা আমিনুল্লাহ সুন্দরপুরী কাছাকাছি আসলে আল্লামা শাহনগরী তাঁকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “মওলানা সাহেব, আমার পায়খানার হাজত হয়েছে, আমার জন্য পানি নিয়ে আসেন।”
এই কথা বলে আল্লামা শাহনগরী জঙ্গলের ভেতর ঢুকে গেলেন। মাওলানা সুন্দরপুরী পানি নিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে রইলেন। আল্লামা শাহনগরী হাজত শেষ করার পর মাওলানা সুন্দরপুরী নিজ হাতে তাঁকে পরিষ্কার করে দেন।
মাওলানা সুন্দরপুরী যখন আল্লামা শাহনগরীর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে যাচ্ছিলেন, তখন পেছনে থাকা এক ভক্ত বলে উঠলেন, “হুজুর, আপনি এই পাগল লোকটাকে কেন পানি দিয়ে পরিষ্কার করে দিলেন?”
ভক্তের কথার উত্তরে মাওলানা সুন্দরপুরী তাঁকে চুপ থাকতে বলেন। কিন্তু ততক্ষণে আল্লামা শাহনগরী সামনে এসে বলে উঠলেন, “মওলানা সাহেব, মানুষ পায়খানা করলেও মরে, না করলেও মরে।”
সুন্দরপুরী তাঁর ভক্তকে বললেন, “তোমাকে আর বাঁচাতে পারলাম না।” সেই রাতে লোকটি পায়খানা বন্ধ হয়ে মারা যায়—এমনটি লোকমুখে বর্ণিত আছে।

আল্লামা শাহনগরীর নিকট গ্রামের মানুষ দুধ, মধু, দইসহ অনেক খাবার নিয়ে আসতেন। তিনি সকল তরলজাতীয় খাবার দিয়ে শরবত তৈরি করে উপস্থিত আশেক-ভক্তদের খাওয়াতেন।
একদিন এক ব্যক্তি কৃষিজমিতে পোকামাকড়ের উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে এক বোতল বিষ নিয়ে আল্লামা শাহনগরীর নিকট দোয়ার জন্য আসেন। তখন আল্লামা শাহনগরী তাঁর আপন ভাতিজা মোহাম্মদ মিয়াকে উদ্দেশ্য করে শরবতে বিষের বোতলটি দিয়ে দিতে বলেন।
তখন আশেক-ভক্ত ছাড়াও মাওলানা মকবুল আলী (রহঃ), মাওলানা আমিনুর রহমান (রহঃ) সহ অসংখ্য আলেম-উলামা উপস্থিত ছিলেন। তাঁর ভাতিজা মোহাম্মদ মিয়া শাহনগরীর হুকুমমতো বিষের বোতলটি শরবতে ঢেলে দেন। এরপর উপস্থিত সকলের মাঝে শরবত বিতরণ করার পর বাকি শরবত সকলের পরিবারের জন্য দিয়ে দেওয়ার হুকুম করা হয়। লোকমুখে বর্ণিত আছে, বিষ মেশানো সেই শরবত পান করেও কারও কোনো ক্ষতি হয়নি।

আল্লামা রিজুয়ান উদ্দীন শাহনগরী (রহঃ)-এর খেদমতে একজন মহিলা নিয়োজিত ছিলেন। তিনি নিয়মিত আল্লামা শাহনগরী (রহঃ)-এর ওজুর পানি গরম করে দিতেন এবং বিভিন্নভাবে তাঁর খেদমত করতেন।
একদিন ওই মহিলা নিজ বাড়ি থেকে আল্লামা শাহনগরী (রহঃ)-এর খেদমতে আসার পথে সন্ধ্যার পর লালপুল নামক স্থানে কয়েকজন দুষ্কৃতকারী তাঁকে আটকে রেখে অশোভন কথাবার্তা বলতে থাকে।
এ অবস্থায় ওই মহিলা আল্লামা শাহনগরী (রহঃ)-কে স্মরণ করে তাঁর সাহায্য কামনা করেন। লোকমুখে বর্ণিত আছে, এরপর ওই দুষ্কৃতকারীরা যেন দিশেহারা হয়ে পড়ে এবং সারারাত সেই স্থানেই অন্ধের মতো ঘুরতে থাকে। আর ওই মহিলা নিরাপদে আল্লামা শাহনগরী (রহঃ)-এর খেদমতে পৌঁছে যান।
পরবর্তীতে দুষ্কৃতকারীরা নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে অনুতপ্ত হয় এবং আল্লামা শাহনগরী (রহঃ)-এর কদম মোবারকে উপস্থিত হয়ে নিজেদের অপরাধের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে।

আল্লামা শাহনগরীর নিকট অসংখ্য আলেম-উলামা আসা-যাওয়া করতেন। তাঁদের মধ্যে যারা শাহনগরীর কাছ থেকে বেলায়েত অর্জন করে কামেল আউলিয়া হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—মাওলানা আমিন ফকির (রহঃ), গোপালঘাটা; মাওলানা আব্দুল গফুর শাহ (রহঃ), ফটিকছড়ি; মাওলানা মকবুল শাহ (রহঃ), গোপালঘাটা; মাওলানা আমিনুল্লাহ সুন্দরপুরী (রহঃ), ফটিকছড়ি—সহ আনেকে রয়েছেন।

এই মহান জাতেপাক ১০ আশ্বিন, ২৫ সেপ্টেম্বর ১৯২৮ খ্রিষ্টাব্দে, ৭৫ বছর বয়সে ওফাত বরণ করেন।
প্রতি বছর ১৫ মাঘ, ২৯ জানুয়ারি, হুজুর গাউসুল আযম মাইজভাণ্ডারী (কঃ)-এর ওরশ এবং আল্লামা শাহনগরীর বেলাদত ও বেলায়েত বার্ষিকী উপলক্ষে ওরশ শরিফ এবং ১০ আশ্বিন বার্ষিক ওরশ শরিফ মহাসমারোহে শাহনগরীর রওজা মোবারক প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

সাবেক মেয়র মনজুরের সঙ্গে আমিন ভাণ্ডার দরবার শরীফের প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও আলহাজ্ব হোসনেরা মনজুর আলম ট্রাস্টের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোহাম্মদ মনজুর আলমের সঙ্গে আমিন ভাণ্ডার দরবার শরীফের প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেছেন। সাক্ষাৎকালে হযরত শাহসুফি মাওলানা সৈয়দ গোলামুর রহমান গাউসুল আজম বাবাভাণ্ডারী (ক.)-এর খলিফা, মাইজভাণ্ডারী গানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গীতিকার এবং ফটিকছড়ির দক্ষিণ ধর্মপুরের মহান অলি হযরত শাহসূফি সৈয়দ আমিনুল হক ধর্মপুরী মাইজভাণ্ডারী (ক.)-এর আধ্যাত্মিক জীবন, সাধনা ও ধর্মীয় অবদান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ধর্মীয় ঐতিহ্য আধ্যাত্মিক সাধনা ও মাইজভান্ডারী সংগীতের ঐতিহ্য সংরক্ষণে এ মতবিনিময়ীকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এ সময় প্রতিনিধিদল তাঁর আধ্যাত্মিক দর্শন, মাইজভাণ্ডারী সংগীত ও সুফিবাদী ভাবধারার তাৎপর্য তুলে ধরেন। আলোচনা শেষে আলহাজ্ব মোহাম্মদ মনজুর আলমকে আমিন ভাণ্ডার দরবার শরীফ পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানানো হয়। প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে তাঁকে আমিন ভাণ্ডার দরবার শরীফের আমন্ত্রণপত্র এবং ‘সৈয়দ আমিনুল হক ধর্মপুরী মাইজভাণ্ডারী গান সমগ্র’ বইটি সৌজন্য উপহার হিসেবে প্রদান করা হয়। সভায় হযরত শাহসূফি সৈয়দ আমিনুল হক ধর্মপুরী মাইজভাণ্ডারী (ক.)-এর পরিবারের সদস্য শাহজাদী ফাতেমা বেগম (খুশি), শাহজাদী আকলিমা আক্তার (পুতুল) ও শাহজাদী রাজিয়া সুলতানা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া অনুষ্ঠানের সমন্বয়ক সাংবাদিক আল সিরাজ মাইজভাণ্ডারী, মো. জাভেদ হাসান, রাকিব, পিএস লিটনসহ অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ সহ উপস্তিত ছিলেন।

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় বড়াল ও গুমানি নদীতে প্রতিমা বিসর্জন; শেষ হল শারদীয় দুর্গোৎসব

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

প্রভাষক গিয়াস উদ্দিন সরদার,
বিশেষ প্রতিনিধিঃ
পাবনার ভাঙ্গুড়ায় বড়াল ও গুমানি নদীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা।
ষষ্ঠী থেকে বিজয় দশমী পর্যন্ত,পাঁচ দিনব্যাপী পূজা-অর্চনা, আনন্দ, উৎসব ও নানা ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে বুধবার ২১ অক্টোবর সন্ধ্যার পূর্বলগ্নে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানান ভক্তরা।

বিসর্জনের মধ্য দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি ঘটলেও ভক্তদের মনে রয়ে গেছে বিদায়ের বিষাদ আর আগামী শরতে দেবী কে আবার বরণ করে নেওয়ার প্রত্যাশা।
বুধবার দুপুর ২টা থেকে ভাঙ্গুড়া উপজেলার বিভিন্ন মন্দিরের পূজামণ্ডপ থেকে ঢাক-ঢোল ও বাদ্যযন্ত্রের তালে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে প্রতিমা নিয়ে নদীর ঘাটের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। পরে নির্ধারিত স্থানে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। এ সময় ভক্তদের মধ্যে একদিকে ছিল প্রিয় দেবীকে বিদায় জানানোর আবেগ, অন্যদিকে ছিল পরিবার, সমাজ ও দেশের মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়।

বড়াল নদীতে ভাঙ্গুড়া কেন্দ্রীয় মন্দির, কালীবাড়ি দুর্গা মন্দির, জগাতলা দুর্গা মন্দির, পাথরঘাটা দুর্গা মন্দির ও শরৎনগর বাজার মন্দিরের প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। অন্যদিকে চড়-ভাঙ্গুড়া ঘোষপাড়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দির, কৈডাঙ্গা সার্বজনীন দুর্গা মন্দির, নৌবাড়ীয়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দির, বেতুয়ান সার্বজনীন দুর্গা মন্দির, দিলপাশার দুর্গা মন্দির ও অষ্টমনিষা দুর্গা মন্দিরে প্রতিমাও বিসর্জন দেওয়া হয়।

প্রতিমা বিসর্জনকে ঘিরে নদীর ঘাটগুলোতে ভক্তদের উপস্থিতিতে সৃষ্টি হয় আবেগঘন পরিবেশ। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানান তারা। বিসর্জনের সময় ভক্তরা সব অশুভ শক্তির বিনাশ, শুভ শক্তির বিকাশ এবং দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করেন।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, বিজয়া দশমীর তাৎপর্য শুধু প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং মানুষের মনের কাম, ক্রোধ, হিংসা ও লালসার মতো আসুরিক প্রবৃত্তি বিসর্জন দেওয়াই এর অন্যতম শিক্ষা। হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে পারস্পরিক ভালোবাসা, ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির বন্ধন সুদৃঢ় করার মধ্য দিয়েই সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, প্রতিবছর শরৎকালে দেবী দুর্গা পিতৃগৃহে আগমন করেন। কয়েক দিনের পূজা-অর্চনা ও আনন্দ-উৎসব শেষে বিজয়া দশমীতে তাকে বিদায় জানানো হয়। প্রচলিত বিশ্বাস অনুসারে, দেবী ফিরে যান কৈলাসে স্বামী মহাদেবের গৃহে। এরপর আবারও শরতের আগমনে দেবীর আগমনের অপেক্ষায় থাকেন ভক্তরা।
প্রতিমা বিসর্জনে অংশ নেওয়া ভক্তরা জানান, বিসর্জনের মধ্য দিয়ে এবারের দুর্গোৎসবের সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়েছে। দেবী দুর্গার কাছে তারা পরিবার-পরিজনের সুখ-শান্তি, সুস্বাস্থ্য ও সমৃদ্ধির পাশাপাশি দেশবাসীর কল্যাণ কামনা করেছেন। আগামী বছর আবারও উৎসবের আনন্দে দেবীকে বরণ করে নেওয়ার প্রত্যাশা তাদের।

ভাঙ্গুড়া উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সভাপতি বাবু সংগীত কুমার পাল বলেন, প্রতিমা বিসর্জন নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সূরাইয়া মমতাজের তত্ত্বাবধানে পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি সহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি আরও বলেন, অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বিকাশের মধ্য দিয়ে একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে উঠুক—এটাই তাদের প্রত্যাশা। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতি নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করবে, শারদীয় দুর্গোৎসবের শিক্ষা হোক সেই মানবিক বাংলাদেশ গড়ার প্রেরণা।

আলোচিত খবর

বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের দাঁতভাঙ্গা জবাব দেওয়া হবে – জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে প্রধানমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন-দেশের ভেতরে ও বাইরে থেকে যারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যারা ষড়যন্ত্র করছে, তাদের প্রত্যেককে একে একে জবাব দেওয়া হবে। আজ ৭ নভেম্বর শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির আয়োজিত শোভাযাত্রার আগে এক সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বহু বছর পর দেশের মানুষ মুক্তভাবে বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালনের সুযোগ পেয়েছে। তবে দেশের বিরুদ্ধে আবারও একটি মহল ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। অতীতের মতো এবারও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ও স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু এ দেশের মানুষকে কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দমিয়ে রাখা যাবেনা।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশকে স্বাধীন করেছিল। স্বাধীনতার পেছনে মানুষের প্রত্যাশা ছিল একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু স্বাধীনতার পর থেকেই দেশের ভেতরে ও বাইরে বিভিন্ন মহল বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব মেনে নিতে পারেনি। তারা সাধারণ মানুষকে দাবিয়ে রাখা এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে।

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার ঐক্যবদ্ধ ভূমিকার মধ্য দিয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী অপশক্তিকে পরাজিত করা হয়েছিল। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে আবারও গণতন্ত্রের সূচনা হয়। তবে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার মেনে নিতে না পারা একটি মহল বিভিন্ন সময়ে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করেছে। বারবার জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মানুষ আবারও তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়েও জনগণের সেই অধিকার বিভিন্নভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ও সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধার করেছে। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের মতো ২০২৪ সালের ৫ আগস্টও জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে অপশক্তিকে পরাজিত করেছে।তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আন্দোলন শুধু দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, একই সঙ্গে ছাত্র-জনতা স্বৈরাচারী শক্তিকেও দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে। বাংলাদেশের মানুষ অতীতেও অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে। তাই কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জনগণের আন্দোলন ও অর্জন থামিয়ে রাখা যাবে না।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতের মতো আবারও একটি মহল দেশ নিয়ে ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বাধাগ্রস্ত করতে চায়। একই সঙ্গে জনগণের ভোটের রাজনীতি ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনব্যবস্থা বন্ধ করার চেষ্টা করছে। তবে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর, ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘটনা প্রমাণ করে, এ দেশের মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে জানে।

দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি জাতীয় ঐক্যের ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো বিভেদ থাকা উচিত নয়। জাতীয় স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
অতীতের বিভিন্ন আন্দোলন ও গণ-অভ্যুত্থানের মতো এবারও ষড়যন্ত্রকারীদের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিটি ষড়যন্ত্রের জবাব একে একে দেওয়া হবে। কোনো শক্তিই বাংলাদেশের মানুষকে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারবে না।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ