চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সর্বাত্মক কর্মবিরতি (মঙ্গলবার) তৃতীয় দিনে গড়িয়েছে। অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। এর আগে রোববার থেকে শিক্ষক সমিতি সর্বাত্মক কর্মবিরতি শুরু করে।একই সঙ্গে উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচিও অব্যাহত রয়েছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা চলছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কর্মবিরতিতে থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি তালাবদ্ধ উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে নিজেদের দাবির পক্ষে কর্মসূচি পালন করছেন তারা।
অন্যদিকে একই দাবিতে শিক্ষার্থীদের শাটডাউন কর্মসূচিও চলছে। সোমবার রাতে বিভিন্ন আবাসিক হল থেকে শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে স্বাধীনতা চত্বরে জড়ো হন। পরে কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে কর্মসূচি পালন করায় বিভিন্ন মহল থেকে তাদের চাপ, ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের ক্ষতির চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন আন্দোলনরত এক শিক্ষার্থী।
চুয়েটের উপাচার্য পরিবর্তনের প্রতিবাদে গত ২১ সেপ্টেম্বর রাত থেকে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে তালা দিয়ে সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করেন তারা। আন্দোলনের কারণে পুরকৌশল, যন্ত্রকৌশল, পেট্রোলিয়াম ও মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিংসহ অন্তত ছয় বিভাগের বিভিন্ন বর্ষ ও সেমিস্টারের চূড়ান্ত পরীক্ষা স্থগিত হয়েছে।
গত ২৭ জুলাই চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম। পরদিন তিনি দায়িত্ব নেন। পরে ২১ সেপ্টেম্বর তাকে অব্যাহতি দিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় উপাচার্য পরিবর্তনের কারণ প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ না থাকায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
এদিকে নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম ২৪ সেপ্টেম্বর ক্যাম্পাসে না এসেই দায়িত্ব নেন। আন্দোলনের কারণে তিনি এখনো ক্যাম্পাসে যেতে পারেননি। তিনি জ্যেষ্ঠ শিক্ষক, ডিন, বিভাগীয় প্রধান ও পরিচালকদের সঙ্গে আলোচনা করছেন বলে জানিয়েছেন।অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম জানান, আন্দোলনে তার কোনো ইন্ধন নেই। শিক্ষক, কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের কাউকে কর্মসূচি নিতে বলেননি বলেও জানান তিনি।
চুয়েট আইন, ২০০৩-এর ১০(২) ধারা অনুযায়ী, প্রয়োজন মনে করলে আচার্য যেকোনো সময় কারণ দর্শানো ছাড়াই উপাচার্যকে অব্যাহতি দিতে পারেন। তবে আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন, দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় অধ্যাপক সায়েমকে কেন সরানো হলো।