চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিউরোলজি বিভাগে যুক্ত হয়েছে ইলেকট্রোমায়োগ্রাফি (ইএমজি) মেশিন। অহিদুল আলম নামে এক ব্যক্তির ব্যক্তিগত উদ্যোগে মেশিনটি হাসপাতালের নিউরোলজি বিভাগে যুক্ত করা হয়। এ মেশিন দিয়ে মাংসপেশি এবং নার্ভ বা স্নায়ুর জটিলতা ধরা হয়। হাত-পা অবশ হয়ে যাওয়া, রগে টান লাগা, মেরুদণ্ডের ব্যথার কারণে পা অবশ হওয়া (যেমন সায়াটিকা), মাংসপেশির দুর্বলতা ইত্যাদি রোগের ডায়াগনোসিসে এটি ব্যবহৃত হয়।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে চমেক হাসপাতালের নিউরোলজি বিভাগে মেশিন হস্তান্তর উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তসলিম উদ্দীন।নিউরোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. হাসানুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ফিজিক্যাল মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. আব্দুর রহিম।
অনুষ্ঠানে বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. হাসানুজ্জামান বলেন, সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও চমেক হাসপাতালের নিউরোলজি বিভাগে প্রতিদিন প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন রোগীকে সেবা দেওয়া হচ্ছে। বিভাগের সক্ষমতার তুলনায় দুই থেকে তিন গুণ বেশি রোগীর চাপ রয়েছে।তিনি বলেন, রোগীরা অনেক সময় মেঝে, বারান্দা ও করিডরে অবস্থান করেন। পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা না থাকলেও আমাদের চিকিৎসকরা আন্তরিকতার সঙ্গে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। বিশেষ করে স্ট্রোক রোগীদের চিকিৎসায় চিকিৎসকরা ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন।
ইএমজি মেশিনটি শুধু রোগীদের চিকিৎসায় নয়, চিকিৎসা শিক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, চমেকের নিউরোলজি বিভাগ থেকে ইতোমধ্যে প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ জন চিকিৎসক এমডি সম্পন্ন করেছেন। নতুন এই মেশিন চিকিৎসকদের দক্ষতা ও কর্মদক্ষতা বাড়াতে সহায়তা করবে।
চট্টগ্রামে নিউরো-ইন্টারভেনশন সেবা চালুর উদ্যোগের কথাও জানান অধ্যাপক হাসানুজ্জামান। তিনি বলেন, বড় ধরনের স্ট্রোকের ক্ষেত্রে মেকানিক্যাল থ্রম্বেকটমি, ক্যারোটিড স্টেন্টিংসহ বিভিন্ন আধুনিক চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। বর্তমানে এসব চিকিৎসার জন্য অনেক রোগীকে ঢাকায় যেতে হয়। তিনি বলেন, স্ট্রোকের চিকিৎসায় সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় যেতে পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা সময় লাগে। অথচ অনেক ক্ষেত্রে তিন থেকে চার ঘণ্টার মধ্যেই চিকিৎসা দিতে হয়। তাই চট্টগ্রামেই এই সুবিধা থাকা প্রয়োজন।