নেত্রকোনার পূর্বধলায় কোরবানির পশুর হাটের ইজারা নিয়ে সংঘর্ষ, হামলা ও মোটরসাইকেলে অগ্নিকাণ্ডের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জামায়াতে ইসলামীর ২৫ নেতাকর্মীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। কারাগারে পাঠানো আসামিদের মধ্যে পূর্বধলা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মো. জয়নাল আবেদীনও রয়েছেন।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) নেত্রকোনার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এস এম রাজিবুল হাসানের আদালতে আসামিরা উপস্থিত হয়ে জামিনের আবেদন করলে বিচারক তা নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন নেত্রকোনা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আবুল হাসেম।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২০ মে বিকেলে পূর্বধলা উপজেলা পরিষদে অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাটের ইজারা কার্যক্রম শেষে মোটরসাইকেলে করে নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ফিরছিলেন আগিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি মো. উমর শরীফ (৩৪)। বিকেল ৩টার দিকে তিনি আগিয়া বাজার এলাকায় পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে একদল লোক তাঁর পথরোধ করে হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাঁর ব্যাগ থেকে ব্যবসায়িক ২ লাখ ১০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং তাঁর ব্যবহৃত টিভিএস স্ট্রাইকার মোটরসাইকেলটিতে পেট্রোল বোমা ছুড়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহত উমর শরীফকে পূর্বধলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার পর ২৫ মে রাতে আগিয়া ইউনিয়নের জটিয়াবর গ্রামের বাসিন্দা উমর শরীফ বাদী হয়ে পূর্বধলা থানায় ৩৩ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন। এতে উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মো. জয়নাল আবেদীনকে প্রধান আসামি করা হয়। এ ছাড়া ধলামূলগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজুয়ানুর রহমান রনি এবং পূর্বধলা সদর ইউনিয়ন জামায়াতের সাবেক সভাপতি তাজুল ইসলাম বাবুলসহ আরও বেশ কয়েকজনকে আসামি করা হয়।
পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, আসামিরা আদালতে হাজির হয়ে জামিন চাইলে বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
অন্যদিকে, নেত্রকোনা জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও প্রচার-মিডিয়া সম্পাদক জহিরুল ইসলাম বলেন, "আমরা এ মামলাটি আইনি প্রক্রিয়ায় মোকাবিলা করব। আশা করছি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে আদালত এই মিথ্যা মামলা থেকে নেতাকর্মীদের মুক্তি দিয়ে মামলাটি প্রত্যাহারের ব্যবস্থা করবেন।"